Web Analytics
Noyon chatterjee 5 Cover Image
Noyon chatterjee 5 Profile Picture
Noyon chatterjee 5
@NoyonChatterjee5
Category
News and Politics

“ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন”
যারা এ ধরনের শ্লোগান আবিষ্কার করে, তাদের স্বাস্থ্যজ্ঞান কতটুকু আছে,
সেটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ হয়।

আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো, যারা সারাদিন ছোটাছুটি করে, তাদের রোগ বালাই অনেক কম হয়।
কিন্তু যারা সারা দিন ঘরে বসে থাকে, নড়াচড়া কম করে তাদের রোগ বালাই অনেক বেশি হয়।
এরা দিনে দিনে ওষুধ নির্ভর হয়ে যায়।
অনেক মধ্য বয়স্ককে দেখেছি, অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত বেশ সুস্থ হয়ে অফিস করেছেন,
কিন্তু যেই অবসর নিয়ে বাসায় থাকা শুরু করেছেন, কিছুদিনের মধ্যে নানান অসুখে ধরে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হচ্ছে।
মেক্যানিকাল লাইনেও কিন্তু সেটা দেখা যায়। কোন গাড়ি, মটরসাইকেল বা মেশিন চালু অবস্থায় থাকলে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু কিছু বন্ধ করে রাখলেই নানান সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে।
কথা হচ্ছে, এই যে মানুষগুলোকে লকডাউন দিয়ে, ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন শ্লোগান দিয়ে ঘর বন্দি করা হলো, এতে কি তাকে সুস্থ করা হলো ? নাকি অসুস্থ করা হলো ??
দেখা যাবে, দুই-তিন মাস ঘরে বসে থেকে অনেকেরই নানান অসুখে ধরে গেছে।
মধ্য বয়সীদের তো ধরেছেই, যুবকদেরও হয়েছে। আর বৃদ্ধরা যারা অন্তত ৫ ওয়াক্ত মসজিদ গিয়ে শরীরটাকে চালু রাখতো, তাদের অবস্থাও খারাপ। এতে কিন্তু আলটিমেটলি লাভ হয়েছে ওষুধ কোম্পানিগুলোর। কারণ মানুষ যত অসুস্থ হবে, তাদের ব্যবসা তত বাড়বে।

আরেকটি রোগের কথা বলতে চাই- যার নাম ‘প্যানিক ডিসওর্ডার’।

কেউ যখন কোন কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়, ভয় পায় তখন তার ‘প্যানিক ডিসওর্ডার’ নামক রোগ হতে পারে। এটি একটি মানসিক রোগ । এই রোগের কারণে কিন্তু শ্বাসকষ্ট, বুকধরফড়সহ নানান সমস্যা হতে পারে। কথা হচ্ছে, মিডিয়াতে মুর্হুমুর্হ করোনার আতঙ্ক, লাশের ছবি আর মৃত্যুর খরব দেখতে দেখতে অনেকেই কিন্তু প্যানিক ডিসওর্ডারে আক্রান্ত হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্তদের ২৫-৮৩% শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। আর যেহেতু এখন শ্বাসকষ্ট মানেই মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে করোনা, তাই ভয় আরো কয়েকগুন বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভাবছে তার বোধহয় করোনা হয়েছে, নয়ত শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কেন ?
এই টেনশনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কারো হার্ট এ্যাটাক বা স্ট্রোক হচ্ছে, কেউ আতঙ্কে আত্মহত্যাও করছে এমন খবরও বের হয়েছে।

যেহেতু মানুষ ঘরে বসে থাকার কারণে তার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে, তাই যদি সত্যিই কোন বাসায় করোনা ঢুকে, তখন কিন্তু মানুষ অসুস্থ হচ্ছেও বেশি, ভুগছেও বেশি।
কিন্তু যদি সে চালু অবস্থায় থাকতো, তবে নিশ্চয়ই তাকে করোনা এত বেশি কাবু করতে পারতো না। এ কারণে লকডাউন তুলে নিলে বা শিথিল করলে করোনার ট্রান্সমিশন রেট যে কমে যায় (জার্মানিতে যেটা হয়েছে), এটা তার একটা কারণ হতে পারে।

মিডিয়া হইলো মাফিয়া টাইপের একটা জিনিস,
এর পেছনে যে ডেমোক্র্যাটিকরা বসে আছে, তারা নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য এমন কিছু নাই যে পারে না। নানান কৌশলে তারা তাদের কাজকে স্ট্যাবলিশ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়। যেমন-

তারা এতদিন সরকারকে চাপ দিছে, কোন শপিং কমপ্লেক্স যেন না খুলে।
যখন অনেক চাপাচাপির পরও সরকার ১০ তারিখ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিছে,
এখন বুঝছে সেখানে আর কাজ হবে না, এখন গেছে বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষদের কাছে,
তাদের উপর চাপ দিয়ে তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেছে।

যেমন- বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স আর যমুনা ফিউচার পার্ক বন্ধের জন্য তারা গেছে আকবর সোবহান আর বাবুলের কাছে। তাদের প্রেসার দিয়ে দোকান বন্ধের ঘোষণা নিতেছে। অথচ আকবর সোবহান বা বাবুল মার্কেট প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তারা তো দোকানগুলো বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিছে। এখন দোকান বন্ধ রাখলে তাদের তো কোন ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে দোকান মালিক বা ব্যবসায়ীদের। কিন্তু তারা ব্যবসায়ীদের কাছে না গিয়ে আকবর সোবহান বা বাবুলের কাছে গিয়ে কৌশল করে মার্কেটগুলো বন্ধ করতে চাইতেছে। অথচ এখানে তাদের কোন বিষয় নেই, বিষয় হলো দোকান মালিকদের। যেহেতু আকবর সোবহান বা বাবুল মিডিয়ার কাছে নেগেটিভ কোন কথা বলবে না, তাই সেই সুযোগ নিয়ে মিডিয়া তাদের ইচ্ছা কৌশল করে দোকান মালিকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

একই রকম কৌশল তারা করতেছে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে।
ডেমোক্র্যাটিক মিডিয়ার সাথে শাহজাহান খানের মত শ্রমিক নেতাদের হইলো দ্বন্দ্ব।
তারা এখন করোনার সময় সুযোগ বুঝে- পরিবহন শ্রমিকদের সাথে নেতাদের লাগায় দিতে চাইতেছে। এজন্য মিডিয়া পরিবহন খুলে দেয়ার বদলে শ্রমিক কল্যান ফান্ডের কথা তুলতেছে।
কারণ কল্যাণ ফান্ডের কথা উঠলেই নেতা-শ্রমিক দ্বন্দ্ব হবে, আর মিডিয়া তো সেটাই চায়।
অথচ কল্যান ফান্ড হইলো- রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা যাওয়া বা আহত শ্রমিকদের জন্য।
বেকার হওয়া এত বিপুল পরিমাণের শ্রমিকের মধ্যে কি সেই ফান্ডের টাকা বিতরণ করা সম্ভব ?

আর তাছাড়া শ্রমিকদের এখন প্রয়োজন গাড়ি খোলা।
গাড়ি খুললেই নূণ্যতম তারা দৈনিক ৫০০-১০০০ টাকা পাবে।
কিন্তু তাদের আন্দোলন মিডিয়ায় হাইলাইট করতেছে ত্রাণের নামে।
আরে ভাই ত্রাণ কয় টাকার পাওয়া যায় ?
ত্রাণ হিসেবে ১০ কেজি চাল পাইতে পারে, যার সর্বোচ্চ মূল্য ৫০০ টাকা,
এটা তো তার ১ দিনের ইনকাম।

আসলে মিডিয়ার বাংলা অনুবাদ গণমাধ্যম বলা হলেও মিডিয়া কখন গণমানুষের কথা বলে না।
বরং তাদের নিজস্ব মতবাদ মিডিয়ার মাধ্যমে গণমানুষের উপর চাপায় দেয়।

টেস্ট আইসোলেটেড ট্রেস

মানে প্রচুর টেস্ট করতে হবে, আক্রান্তদের আইসোলেট করতে হবে এবং আক্রান্তদের সাথে অবস্থান করাদের ট্রেস করে লকডাউন/কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।
প্রথম থেকেই মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে- এই পদ্ধতি নাকি একমাত্র সমাধান।

কিন্তু আমার কাছে প্রথম থেকেই এটা কোন বাস্তবমুখী সমাধান হয় নাই।
হ্যা এটা সমাধান হতে পারে একদম শুরুতে বর্ডারে।
অর্থাৎ আক্রান্ত দেশ থেকে যখন লোক ঢুকবে (বিমান-সড়ক বা নৌপথে) তখন তাদের উপর টেস্ট, আইসোলেট ও ট্রেস পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
কিন্তু কোন দেশের ভেতর যখন করোনা ভাইরাসের মত একটা ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ভাইরাস ঢুকে যাবে,
তখন ভেতর থেকে তা বের করে আনা একটি অসম্ভব ব্যাপার। ফলে গণমানুষের উপর টেস্ট-আইসোলেটেড-ট্রেস পদ্ধতি বৃথা শ্রম ছাড়া কিছু নয়।

কারণ আপনি কত করবেন ?
১০ বাড়ি, ২০ বাড়ি, ৩০ বাড়ি, এমন করে কত বাড়ি লকডাউন করবেন ?
আর ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ভাইরাস কি লকডাউন দিয়ে থামাতে পারবেন ?
অদৌ কি সেটা সম্ভব !
আর তাছাড়া বিষয়টি অনেকটা মশা মারতে কামান দাগানের মতও অবস্থা।
করোনায় যদি ১ টাকার ক্ষতি করে, কিন্তু আপনি যদি তার জন্য ১০০ টাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেন,
তাহলে তো বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো।

কারণ করোনার ক্ষেত্রে মৃত্যুহার সাধারণ ফ্লুয়ের মত বা তার থেকে সামান্য বেশি। কিন্তু এটি ভয়ঙ্কর কোন মহামারী টাইপের কিছু না।
আজকে করোনা ভাইরাসের ওয়ার্ল্ড মিটারটি ভালো করে দেখবেন।
সেখানে আজকের হিসেবে পৃথিবীতে একটিভ কেইস হইলো ২২ লক্ষ ৪০ হাজারের মত। এর মধ্যে ক্রিটিকাল কেইস হলো ৪৯ হাজার। অর্থাৎ সনাক্তের মাত্র ২% ক্রিটিকাল কেইস হচ্ছে। (বি:দ্র: সনাক্ত আর আক্রান্ত কিন্তু এক নয়)
তাহলে মোট আক্রান্তের কত পার্সেন্ট ক্রিটিকাল কেইস হবে ? আর সেখান থেকে কত জন মারা যাবে ?

করোনা ভাইরাসের ওয়ার্ল্ড মিটারের কথা যখন আসলোই, তখন আরেকটা কথা বলি-
এই ওয়ার্ল্ড মিটার করোনার মৃত্যু গোনা শুরু করছিলো ২২ জানুয়ারী থেকে।
আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে তাদের হিসেবে করোনায় মারা গেছে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার।
অর্থাৎ ১০৬ দিনে করোনায় মারা গেছে ২ লক্ষ ৬০ হাজার লোক।
এবার আসি দৈনিক পৃথিবীতে কতজন লোক মারা যায়।
পৃথিবীতে দৈনিক মৃত্যু ঘটে ১ লক্ষ ৫০ হাজার লোকের।
তাহলে ১০৬ দিনে মোট মৃত্যু ঘটেছে ১ কোটি ৫৯ লক্ষ লোকের।
অথচ ঐ একই সময় করোনায় মৃত্যু ঘটছে মাত্র ২ লক্ষ ৬০ হাজার লোকের।
অর্থাৎ করোনায় মৃত্যু মোট মৃত্যুর মাত্র ১.৬%।
তারমানে দাড়াচ্ছে আমরা মোট মৃত্যুর মাত্র ১.৬% এর জন্য সব কিছু ফেলে লাফালাফি করছি।
কেন ভাই বাকি ৯৮.৪% লোকের মৃত্যুর কি দাম নাই ?
তাদের মৃত্যুগুলো কি মৃত্যু না ?
তাদের রোগগুলো কি রোগ না ?
আমরা এক করোনা নিয়ে যত সময়/অর্থ/বুদ্ধি ব্যয় করছি,
অন্যরোগগুলোর জন্য তো আরো ৯৮ গুন বেশি সময়/অর্থ/বুদ্ধি ব্যয় করা উচিত।
এটাই তো মানবতা, এটাই তো সাম্যতা।
এক করোনার দিকে চোখ দিয়ে আমরা তো বাকি মৃতদের সাথে বৈষম্য করতেছি।

কথা হচ্ছে, আমরা এক করোনা নিয়ে যদি টেস্ট-আইসোলেটেড-ট্রেস করতে থাাকি, তবে রাষ্ট্র-জনগণকে সব কাজ বন্ধ করে সেই পানে কাজ করে যেতে হবে। আর জনগণকে বাসায় বন্দি থেকে গুনতে হবে, ‘আজকে কয়জন কমলো’, ‘আজকে কয়জন বাড়লো’ সেই হিসেব। অথচ ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ভাইরাস যদি একবার ঢুকে যায়, তবে সেটা শতমন ডাল-চাল এক করে ফের সেটা হাতে বেছে আলাদা করার মত। কিন্তু সেটা যতই করতে যাবেন, ততই আরো ছড়াতে থাকবে (একটা সময় যারা এগুলো পরিচালনা করবে, যেমন: স্বাস্থ্যকর্মী-পুলিশ তারাও সেটাতে আক্রান্ত হবে)। আর করোনা কি এতই বড় কোন রোগ, যার জন্য সবাই সব বন্ধ করে একযোগে সেই চাল-ডাল বাছাবাছি করবেন ? এক করোনার চাল-ডাল বাছতেই যদি সব শক্তি খরচ করে ফেলেন, তবে বাকি জীবন চালাবেন কি দিয়ে ? খাওয়া-পরার কথা বাদ দেই, এক করোনাকে নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ মাতলে বাকি (৯৮%) অসুখ-মৃত্যু সামাল দিবেন কিভাবে ?

বাস্তবতাহীন থিউরী অনেক প্রয়োগ হয়েছে।
এবার কানে হাত দিয়ে দেখুন, কানের যায়াগায় কান আছে।
সবাই ভুল বুঝতে পেরে চিলের পেছনে ছোটা বন্ধ করতেছে, আপনারাও বন্ধ করুন।

লকডাউন খুললে করোনার গতি কমে আসে !

জার্মানিতে লকডাউন শিথিল করার পর করোনার গতি অস্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে। ২ সপ্তাহ আগে লকডাউন শিথিল দোকানপাট খোলার পর করোনার রিপ্রডাকশন নম্বর হ্রাস পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবে করোনার রিপ্রডাকশন নম্বর বা Ro যেখানে থাকার কথা ২.২-৩.৫ সেখানে এখন জার্মানিতে এর পরিমাণ এখন নেমে এসেছে ০.৭১ এ।

উল্লেখ্য, জার্মানি লকডাউন শিথিল করার পর অনেকে ভবিষ্যতবাণী করেছিলো, জার্মানিতে করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ আঘাত হানবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উল্টো ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ লকডাউন শিথিল করার পর করোনার গতি আরো হ্রাস পাচ্ছে। এই রেজাল্ট দেখে আঞ্চলকি সরকাররা তাদের রেস্ট্রুরেন্ট, বার, হোটেলগুলো উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (https://bit.ly/2SWSsk7)

মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের মিডিয়া কিন্তু কখনই প্রমাণিত বাস্তব খবরগুলো করে না, যার কারণে বাংলাদেশের মানুষ করোনাকে বুঝতেও পারে না। গত কয়েকদিনের মিডিয়ায় দেখবেন- “জার্মানিতে লকডাউন শিথিল করার কারণে করোনার গতি বাড়ছে বা বাড়তে পারে’ বলে বহু আজগুবি খবর হয়েছে, কিন্তু যখন বাস্তব প্রমাণ দেখা গেলো- লকডাউন খুললে করোনার গতি কমে, সেই খবর কিন্তু বাংলাদেশের কোন মিডিয়া এখন করে নাই। কারণ সেটা করলে তারা যে এতদিন মানুষকে উল্টো মেরে ফেলার ওষুধ দিছে, সেটা প্রমাণিত হয়ে যাবে।

একই ঘটনা ঘটেছিলো কয়েকদিন আগে। মিডিয়া হু এর বিবৃতি প্রচার করেছে, করোনায় দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ বা ইম্যুউনিটি হয় এর প্রমাণ নেই। রি-ইনফেকশন হচ্ছে, হার্ড ইম্যুনিটি এচিভ সম্ভব না -এসব খবর কিন্তু অনেক হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা যখন হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিলো- করোনা একবার হলে দ্বিতীয়বার হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই, দীর্ঘমেয়াদী ইম্যুনিটি হয়। এই খবরগুলো বাংলাদেশের কোন মিডিয়াকে এখনও আমি প্রচার করতে দেখি নাই। (https://bit.ly/35tqVvk,)

যাই হোক, জার্মানিতে লকডাউন শিথিল করার পর করোনার গতি হ্রাস বা রিপ্রডাকশন নম্বর কমে আসার পর আমার ব্যক্তিগতভাবে একটি কথা মনে হচ্ছে, আপনাদের সাথে তা শেয়ার করি-

আমার মনে হয়, করোনার মত ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপের রোগগুলোর সঠিক ওষধ মনে হয় অধিক সংখ্যক মানুষকে ফেস করানো। বিষয়টি অনেকটা সমুদ্র থেকে ঘূর্ণঝড়গুলো যখন সুন্দরবনে আঘাত করে, সেরকম। দেখা যায় একটা ঝড় সুন্দরবনে বাধাগ্রস্ত হয়ে শুরুতেই অনেক দুর্বল হয়ে যায় বা অনেকাংশ থেমে যায়। যদি সুন্দরবন না থাকতো, তবে সেই ঝড় হয়ত অনেক ভেতরে এসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারতো।

আমার ধারণা- করোনাকে যখন স্বাভাবিকগতিতে চলতে দেয়া হয়, তখন সে শুরুতেই বিভিন্ন কমিউনিটিতে প্রবেশ করে বাধার সম্মুক্ষিন হয়, ছোট ছোট কমিউনিটি ভিত্তিক হার্ড ইম্যুনিটিতে আটকা পড়ে বা ব্যক্তি ইম্যুনিটিতে অধিকমাত্রায় বাধার সম্মুক্ষিণ হয়ে কোনভাবে নিজের শক্তি হারাতে থাকে। এবং এক পর্যায়ে সেটা থেমে যায়। হয়ত কিছু এলাকা আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু অধিকাংশ এলাকায় সেটা পৌছাতেই পারে না বা দুর্বল হয়ে গতি হারায়। অর্থাৎ ক্ষতিটা বিস্তৃতি এলাকায় হয় না, অল্প এলাকায় থেকে যায়। কিন্তু যখন লকডাউন-সোশ্যাল ডিসটেন্সিং এর নামে তার স্বাভাবিক চলাচলে বাধা প্রয়োগ করা হলো, তখন সে ছোট ছোট কমিউনিটির হার্ড ইম্যুনিটি বা ব্যক্তি ইম্যুনিটিতে অধিকমাত্রায় বাধার সম্মুক্ষিণ না হয়ে সহজেই অনেক এলাকায় শক্তি নিয়ে ঢুকে পড়ার সুযোগ পায় এবং বিস্তৃত এলাকায় ক্ষতি করে।

লকডাউনের পক্ষে আর হার্ড ইম্যুনিটির বিরুদ্ধে লোকদের আজগুবি হিসেব নিকেষ প্রায় মিডিয়াতে দেখি, যা বাস্তবতার সাথে মিলে না। যেমন-
"যদি লকডাউন খোলা হয় বা হার্ড ইম্যুনিটির দিকে যাওয়া হয়, তবে দেশের ৮০% লোককে আক্রান্ত হতে হবে। ১৬ কোটি লোকের মধ্যে ৮০% মানে ১২.৮ কোটি এবং এর মধ্যে যদি ২০% লোককে যদি হাসপাতালে যেতে হয়, যার পরিমাণ আড়াই কোটি, আর ১% লোকও যদি মারা যায়, তবে ১২ লক্ষকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আড়াই কোটি লোককে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষমতা কি আমাদের আছে ? আর মৃত্যুর হিসেবটা একবার চিন্তা করেছেন ১২ লক্ষ।"

এই যে সুন্দর ক্যালকুলেটরে হিসেব-নিকেষ, আপনি যদি এই সংখ্যা দিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে চান, তবে অন্য কথা। কিন্তু বাস্তবতা কিন্তু এই হিসেব মানে না।
প্রথমেই বলি- এই হিসেবে কিন্তু দুইটি জিনিসকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে-
১) পুরো দেশকে একত্র হিসেবে চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি এমন ঘটে না। কারণ ভাইরাস দেশের সীমানা বুঝে না। বরং একটা করে পাড়া-মহল্লা বা কমিউনিটি হিসেবে চিন্তা করে ঘটনাগুলো ঘটে। ধরে নিতে পারি বাংলাদেশে ৮৫ হাজার গ্রাম আছে। এবং গড়ে ৫ টি মহল্লা-পাড়া নিয়ে একটি গ্রাম। তাহলে আমাদের চিন্তা করতে হবে প্রায় ৪ লক্ষ মহল্লা বা কমিউনিটিকে নিয়ে।
২) সময়। কত সময় লাগবে, সেটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

যেভাবে আমাদের বুঝানো হচ্ছে যে, করোনা ভাইরাসের ছড়ানোর গতি অনেক বেশি, কিন্তু বাস্তবে সেরকম পাওয়া যাচ্ছে না। গড় একটি হিসেব করে দেখা গেছে করোনা ভাইরাসের ট্রান্সমিশন রেট গড়ে ২ থেকে ৩ জন। ঠাণ্ডার আবহাওয়ার সুইডেনের স্টকহোমে, যেখানে লকডাউন-সোশ্যাল ডিসটেন্স কিংবা মাস্ক-হ্যান্ড গ্লাবস কিছুই ব্যবহার হয়নি, সেখানে করোনার প্রথম কেস থেকে ৮০ দিন পর বলা হচ্ছে মাত্র ১১% জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হয়েছে। (https://bit.ly/2SFE7Z4) অর্থাৎ পুরো স্টকহোমে ছড়াতে সময় লাগবে কমপক্ষে আড়াই বছর।

অর্থাৎ যেখানে করোনা ভাইরাস খুব গতি নিয়ে আঘাত করেছে সেখানেও করোনা ভাইরাসের গতি ছিলো খুব কম। আর বাংলাদেশের মত গরম দেশে করোনা ভাইরাসের ট্রান্সমিশন রেট কত হবে ? ৪ লক্ষ পাড়া বা মহল্লায় তা ছড়াতে কত সময় লাগবে ? ২ বছর নাকি ৪ বছর ??

হয়ত বলতে পারেন- এখন তো লকডাউন, মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারছে না, তাই করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারছে না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব বোঝা যাচ্ছে না।
এজন্যই তো সুইডেনের স্টকহোমের উদাহরণ আনলাম।

সেটাও যদি না মানেন, তবে তাদেরকে আমি বলবো- পাইলট প্রকল্প মানে কি বুঝেন?

ধরেন কোন একটি প্রজেক্ট নেয়া হলো ৮৫ হাজার গ্রামে।
এরজন্য একটি গ্রামকে প্রথমে বেছে নেয়া হয়। সেই গ্রামের উপর টেস্ট করে তার ফলাফল দেখে সে অনুসারে সারা বাংলাদেশে তা এপ্ল্যাই করা হয়।
এজন্য যেসব এলাকায় করোনায় লকডাউন হইছে, সে রকম একটি এলাকাকে বাছাই করেন প্রথমে।
এরপর দেখেন সেখানে গত ২ মাসে ঠিক কতজন আক্রান্ত হইছে। কতজন মৃত্যুবরণ করছে?
ঐ এলাকার মৃত্যুবরণ সংখ্যা কি স্বাভাবিক মৃত্যুর থেকে বেশি না কম?
যেমন ধরেন- মুহম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, যেখানে ৫০ হাজার লোক গাদাগাদি করে থাকে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত ধরা পড়ছে। ১ জন সরকারী হিসেবে মারাও গেছে। কিন্তু গত ৩ সপ্তাহে ঐ এলাকায় বিভিন্ন রোগে ভুগে মারা গেছে আরো ১৩ জন, যেটা নিয়ে মিডিয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করা হইছে। এবার প্রতি বছরে হাজারে মৃত্যুহার ৫.৫ ধরে দেখেন ৩ সপ্তাহে ঐ এলাকায় হিসেব মত কতজন মারা যাওয়ার কথা ? ১৭ জনের। কিন্তু মারা গেছে ১৪ জন।
তারমানে ঐএলাকায় করোনা হানা দিয়েছে, কিন্তু গড় মৃত্যুর হিসেব কিন্তু ক্রস করেনি। তারমানে বোঝা যাচ্ছে, আজকে যদি করোনা নামক ভাইরাস নাও থাকতো, তবে ঐ এলাকায় এতগুলো লোকই মারা যেতো এবং সেটা স্বাভাবিক।
একইভাবে ঐ এলাকায় কত লোক অসুস্থ হয়েছে ? কত লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এই হিসেবগুলো করলেই সহজে বের হয়ে যাবে, আসলে ১টা মহল্লায় যদি এমন হয়, তাহলে বাকি মহল্লাগুলোতে কি হবে।

আসলে এই ভাইরাসগুলো বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করার পর বিভিন্ন ফ্যাক্টরের সম্মুক্ষিন হয়। পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট হার্ড ইম্যুনিটির বাধন, সব মিলিয়ে ১৬ কোটি লোকের অধিকাংশের মধ্যে নাও পৌছাতে পারে। আর যতটুকু পৌছায় সেটা সময় নিয়ে পৌছায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন সময় আমরা মানুষ অসুস্থ হওয়ার খবর শুনি, চিকিৎসা সেবা নেয়ার কথা শুনি, মানুষের মৃত্যুর খবর শুনি, এই ভাইরাস আক্রমনটাও স্বাভাবিকতারই অংশ। সেই স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই মানুষ অসুস্থ হবে, হাসপাতালে যাবে কিংবা মারা যাবে। এবং সেটা হবে সময় নিয়ে। আপনি ২ মাস দেশ বন্ধ করে রাখলেও কোন লাভ হবে না। কারণ ভাইরাস তার গতিতেই ছড়াবে। এজন্য একাধিক বছরও সময় লাগতে পারে। ২ বছর নিশ্চয় সব বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। আর যদি ২ বছর মানুষ লকডাউন করে বসেও থাকেন। তবে দিন শেষে দেখবেন, যতজন লোক মারা যাওয়া, সময় নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া, অসুস্থ হওয়ার কথা, ততগুলো লোকই হয়েছে। ফলে হাসপাতালের উপর স্বাভাবিক যতটুকু চাপ পড়ার ততটুকুই পড়েছে, বেশি পড়েনি।

অর্থাৎ পুরো ঘটনা ঘটেছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, সময় নিয়ে। মাঝখান দিয়ে সব বন্ধ করে আপনি বোকার মত ঘরে বসে আছেন।