স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রা : পশ্চাদপদতা নাকি অগ্রগামীতা ?
........................................................................................
.
“যখন কোন একটি জোটনিরপেক্ষভুক্ত দেশের সদস্যের সাথে বৈদেশিক সম্পর্কিত বিষয়ে সমস্যা হবে আমেরিকার তখন আমেরিকা বলবে তুমি রাশিয়ার ধ্বজাধারী সুতরাং আমার কাছে থেকে বোমা খাও এবং উল্টো ক্ষেত্রে রাশিয়াও এরকম বলবে শত্রুভাবাপন্ন কোন একটি জোটনিরপেক্ষভুক্ত দেশকে।”তার মানে, নিরপেক্ষ বলতে আদতে কিছু নেই বরং নিরপেক্ষতার দাবী করবে কপট বিশ্বাসীরা। কথাটা বেশ প্রণিধানযোগ্য। যেমন আজ কোনো এক দৈনিক প্রত্রিকার স্লোগান এরকম “আমরা নিরপেক্ষ নই, আমরা শোষিতের পক্ষে।” কত মর্যাদাবান, সেলিব্রেটি-অনলাইন ব্যক্তিত্ব, বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিং প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত আলেম-এ-দ্বীন দেখলাম, তাঁরা “কথা সম্পূর্ণ বলেন না” বা “আসল কথা এড়িয়ে যান” বা “মিথ্যার লেপন দিয়ে দেন সত্যের উপর”। চারিদিকের এরকম এক ”মোসাহেবি বা দরবারী পরিস্থিতিতে” বা “পানিতে নামবো কিন্তু গা ভিজাবো না” বা “সাপও মরবে লাঠিও না ভাঙ্গবে” পরিস্থিতিতে একজন সত্যাশ্রয়ী আলেম খুঁজে পাওয়া সত্যি এক কাকতালীয় ব্যাপারই বটে। জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো যে কলবের মধ্যে জ্ঞান ধারণ করা হবে সেটি পরিষ্রকা আছে কিনা সেটা।
এরকম এক পরিবেশে যদি কিছুটা কম জ্ঞান-সম্পন্ন ব্যক্তি অপ্রিয় হলেও সেই অপ্রিয় সত্যি কথা বলার চেষ্টা করেন তবে সেটা অনেক গুরুত্ববহ ও সাহসী এক অভিযাত্রা, যেযাত্রায় সাথী পাওয়ার আশা করা আসলেই দুরুহ ব্যাপার, বরং শত্রু পাওয়ার ১০০% নিশ্চয়তা আছে। একজন অপেক্ষাকৃত কম জ্ঞান-সম্পন্ন দ্বীনের দা’ঈ যদি কোন নতুন বিষয়ের খেই ধরিয়ে দিতে পারেন বা অবতারণা করেন যেটা তথাকথিত বয়স্ক ও সুবিধাভোগী জ্ঞানী ব্যক্তিগন ঢেকে রেখেছেন এতদিন, তবে সেই যুবক ও কম জ্ঞান-সম্পন্ন দা‘ঈ অনেক বেশী প্রশংসীত হওয়ার যোগ্য। কারণ তার অবতারণা করা নতুন দৃষ্টি-ভঙ্গিকে বেশী জ্ঞান-সম্পন্নগন প্রয়োজনে ঘষেমেজে পালিশ করে প্রয়োগ যোগ্য করার প্রয়াস পাবেন, অবশ্য যদি তাঁরা মনের জানালাটি খুলতে সক্ষম হন শেষ পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে একজন যুবক দা’ঈ মূলত একটি বিষয়, ক্বিয়ামত ও এর পূর্ববর্তী সময়ে বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে ফোকাস করছিলেন বিভিন্ন বক্তব্যে। অনেক কথার ভিড়ে তিনি বলেছেন যে , আমাদেরকে “স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রা”-র যুগে ফিরে যেতে হবে। একজন সেলিব্রেটি আলেম ও সুন্নাহ্-র ধারক-বাহক নামে পরিচিত একটি দা’ঈ সংস্থা ভিডিও-বিবৃতি দিলো যে- এই যুবকের ধারণা কল্পনা প্রসূত , অবাস্তব এবং কাগুজে টাকা সম্পূর্ণ হালাল, এই যুবকের বক্তব্য শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে.... ইত্যাদি। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কিন্তু দ্বীনের প্রতি সহানুভূতিশীল আরেক ভাই ফেসবুকে মন্তব্য করলেন – “…..একবিংশ শতাব্দীতে এসে শিক্ষিত দাবী করা একজন ধর্মীয় বক্তার কাছে যদি এমন আজগুবি কথা (স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রা) আমাদেরকে শুনতে হয়, তবে বুঝতে হবে আমাদের মুক্তির পথ অনেক দীর্ঘ।”
.
এবার শায়েখ ইমরান এন. হোসেইন রচিত The Gold Dinar and Silver Dirham – Islam and the future of Money পুস্তিকাটির উল্লেখযোগ্য অংশ ভাষান্তরের চেষ্টা করে দেখা যাক আমাদের অবস্থান কি হওয়া উচিৎ এব্যাপারে (লেখকের পরিচয় সংযুক্ত ছবিতে দেয়া আছে) –
১) কুরআন-সুন্নাহ্-র আলোকে অর্থের পরিচয় –
ক) যদি ওয়াকীল কোন খারাপ জিনিস বিক্রয় করে, তবে তার বিক্রয় গ্রহণযোগ্য নয় -
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) কিছু বরনী খেজুর (উন্নতমানের খেজুর) নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কোথায় পেলে? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমাদের নিকট কিছু নিকৃষ্ট মানের খেজুর ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে তা দু‘ সা’-এর বিনিময়ে এক সা‘ কিনেছি। একথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হায়! হায়! এটাতো একেবারে সুদ! এটাতো একেবারে সুদ! এরূপ করো না। যখন তুমি উৎকৃষ্ট খেজুর কিনতে চাও, তখন নিকৃষ্ট খেজুর ভিন্নভাবে বিক্রি করে দাও। তারপর সে মূল্যের বিনিময়ে উৎকৃষ্ট খেজুর কিনে নাও। গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة) হাদিস নম্বরঃ ২৩১২ / (মুসলিম ২২/১৮, হাঃ ১৫৯৪, আহমাদ ১১৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৬২) / হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) । (গ্রন্থকার পুস্তিকাতে বুখারী হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন রেফারেন্স নম্বর ছাড়া , পোস্টদাতা নম্বর খুঁজতে গিয়ে একই হাদীস রেফারেন্স নম্বর ও তাহকীকের অবস্থাসহ পেয়ে তাই উদ্ধৃত করা সঙ্গত মনে করলো)
খ) পশুকে পশুর বিনিময়ে বিক্রয় করা এবং উহাকে ধারে বিক্রয় করা প্রসঙ্গ -
রেওয়ায়ত ৬১. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একটি রাহেলা [راحلة ভারবাহী বা সাওয়ারীর উট] ক্রয় করিয়াছিলেন চারটি উটের বিনিময়ে। সে রাহেলা বিক্রেতার দায়িত্বে ও জামানতে ছিল। কথা এই ছিল যে, বিক্রেতা উহাকে ক্রেতার নিকট সোপর্দ করিবে রাবাযী (ربزة) নামক স্থানে। গ্রন্থঃ মুয়াত্তা মালিক অধ্যায়ঃ ৩১. ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় (كتاب البيوع) হাদিস নম্বরঃ ১৩৪৫ / হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ । (গ্রন্থকার পুস্তিকাতে মুয়াত্তা মালিক হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন রেফারেন্স নম্বর ছাড়া , পোস্টদাতা নম্বর খুঁজতে গিয়ে একই হাদীস রেফারেন্স নম্বর ও তাহকীকের অবস্থাসহ পেয়ে তাই উদ্ধৃত করা সঙ্গত মনে করলো)
গ) যবের বদলে যব (বার্লির বদলে বার্লি) বিক্রয় করা -
মালিক ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একশ’ দ্বীনারের বিনিময় সারফ এর জন্য লোক সন্ধান করছিলেন। তখন তালহা ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাক দিলেন। আমরা বিনিময় দ্রব্যের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম। অবশেষে তিনি আমার সঙ্গে সারফ [1] করতে রাজী হলেন এবং আমার হতে স্বর্ণ নিয়ে তার হাতে নাড়া-চাড়া করতে করতে বললেন, আমার খাযাঞ্চী গাবা (নামক স্থান) হতে আসা পর্যন্ত (আমার জিনিস পেতে) দেরী করতে হবে। ঐ সময়ে ‘উমার (রাঃ) আমাদের কথা-বার্তা শুনছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম! তার জিনিস গ্রহণ না করা পর্যন্ত তুমি তার হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না।
কারণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নগদ নগদ না হলে স্বর্ণের বদলে স্বর্ণের বিক্রয় (সুদ) হবে। নগদ নগদ ছাড়া গমের বদলে গমের বিক্রয় সুদ হবে। নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যবের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ না হলে খেজুরের বদলে খেজুরের বিক্রয় সুদ হবে। গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع) হাদিস নম্বরঃ ২১৭৪ (২১৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৩৯) / [1] স্বর্ণ-রৌপ্যের পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়কে সারফ বলে। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) {গ্রন্থকার পুস্তিকাতে সহীহ্ মুসলিম হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন রেফারেন্স নম্বর ছাড়া , পোস্টদাতা নম্বর খুঁজতে গিয়ে একই হাদীস রেফারেন্স নম্বর সহ সহীহ্ আল-বোখারীতে পেয়ে তাই উদ্ধৃত করা সঙ্গত মনে করলো)
উপর্যুক্ত হাদীসসমূহ থেকে ইসলামে বৈধ অর্থের রুপ সম্বন্ধে যা জানা যায় -
প্রথমতঃ অর্থ হলো : ১) মূল্যবান ধাতু যেমন - সোনা , রুপা ২) গম , বার্লি , খেজুর বা লবন যেগুলো খাদ্যদ্রব্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং যেসব দ্রব্যের যথেষ্ট স্থায়ীত্বকালও রয়েছে । ফলে ইয়াসরীব বা মদীনার বাজারে যখন স্বর্ণমুদ্রার ঘাটতি দেখা যেতো তখন অর্থ হিসেবে খেজুরকে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো । আল্লাহ্ পাক সুদকে হারাম করেছেন কারন এরদ্বারা অর্থের ব্যাপক সঞ্চালন হয়না , এতে ধনী আরও ধনী হতে থাকে আর গরীব হতে থাকে আরও গরীব । যেহেতু উটকে অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি সেজন্য এই জন্তুর অসম বিনিময়কে হালাল করে যেসব দ্রব্য মানে খেজুর বা এরকম কিছুর অসম বিনিময়কে হারাম করা হয়েছে । সুদের চক্রে পড়ে ইন্দোনেশিয়ার দরিদ্র নারীরা কাফির দেশ সিঙ্গাপুরে দিনরাত পরিশ্রম করছে , রান্না ও পরিবেশন করতে বাধ্য হচ্ছে হারাম শুকরের মাংস । মহান রাব্বুল আলামীন বিনা কারণে ইন্দোনেশিয়ার “জাভা” প্রদেশে বিশাল রকমের ধান উৎপাদনের ক্ষেতে পরিনত করে দেননি । দিয়েছেন এজন্য যে , এখানকার অধিবাসীরা পুরনো চাল খাবে আর নতুন চাল দিয়ে দেশের ভিতরে-বাইরে প্রয়োজনীয় পণ্য বিনিময় করবে । একইভাবে কিউবাতে ব্যবহার করা যেতে পারে “আখ” বা ”চিনি” ।
দ্বিতীয়তঃ যখন সোনা , রুপা , গম , বার্লি , খেজুর বা লবনকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যখন এসব দ্রব্যে ছিল বা এখনও আছে তার নিজস্ব বা অন্তর্নিহিত মূল্যমান (Intrinsic Value) ।
তৃতীয়তঃ সোনা , রুপা , গম , বার্লি , খেজুর বা লবনকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এসবের সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং রাব্বুল আলামীন এবং স্বয়ং তিনিই এগুলোর ভিতরে সৃষ্টিগতভাবে দিয়ে দিয়েছেন প্রতিটির অন্তর্নিহিত মূল্যমান । তিনি নিজেকে আল-রাযযাক বা রিযিকদাতা হিসেবে নামকরণ করেছেন যিনি সৃষ্টি করেছেন সমস্ত বস্তু , অজানা-জানা সবকিছু ।
সংক্ষেপে “অর্থ” তাকেই বলবো , যা –
ক) উপর্যুক্ত মূল্যবান ধাতু বা খাদ্যদ্রব্য ।
খ) যার অন্তর্নিহিত মূল্যমান আছে ।
গ) মহান আল্লাহ্ পাকের দ্বারা সৃষ্ট বস্তু ।
কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ্‌ আযযা ওয়াজাল্লাহ্ বলেন -
সূরা নম্বরঃ ৩ আলে-ইমরান (ইমরানের পরিবার) আয়াত নম্বরঃ ৭৫ – “কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক রহিয়াছে, যে বিপুল সম্পদ আমানত রাখিলেও ফেরত দিবে; আবার এমন লোকও আছে যাহার নিকট একটি দীনারও আমানত রাখিলে তাহার পিছনে লাগিয়া না থাকিলে সে ফেরত দিবে না, ইহা এই কারণে যে, তাহারা বলে, নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নাই, এবং তাহারা জানিয়া-শুনিয়া আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।”
সূরা নম্বরঃ ১২ ইউসূফ (নাবী ইউসুফ) আয়াত নম্বরঃ ২০ – “এবং উহারা তাহাকে বিক্রয় করিল স্বল্প মূল্যে-মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, উহারা ছিল তাহার ব্যাপারে নির্লোভ।”
সূরা নম্বরঃ ৩ আলে-ইমরান (ইমরানের পরিবার) আয়াত নম্বরঃ ১৪ – “নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদিপশু এবং ক্ষেত-খামারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের জন্য সুশোভিত করা হইয়াছে। এইসব ইহজীবনের ভোগ্য বস্তু। আর আল্লাহ্, তাঁহারই নিকট রহিয়াছে উত্তম আশ্রয়স্থল।”
সূরা নম্বরঃ ৩ আলে-ইমরান (ইমরানের পরিবার) আয়াত নম্বরঃ ৯১ – ”যাহারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাহাদের মৃত্যু ঘটে তাহাদের কাহারও নিকট হইতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময় স্বরূপ প্রদান করিলেও তাহা কখনও কবূল করা হইবে না। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে ; ইহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।”
সূরা নম্বরঃ ৯ আত-তাওবাহ্ (অনুশোচনা) আয়াত নম্বরঃ ৩৪ – ”হে মু'মিনগণ! পণ্ডিত এবং সংসার বিরাগীদের মধ্যে অনেকেই লোকের ধন-সম্পদ অন্যায় ভাবে ভোগ করিয়া থাকে এবং লোককে আল্লাহ্‌র পথ হইতে নিবৃত্ত করে। আর যাহারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে না উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।”
সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৩৩ – {সত্য প্রত্যাখ্যানে মানুষ এক-মতাবলম্বী হইয়া পড়িবে, এই আশংকা না থাকিলে দয়াময় আল্লাহ্‌কে যাহারা অস্বীকার করে, উহাদেরকে আমি দিতাম উহাদের গৃহের জন্য রৌপ্য-নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যাহাতে উহারা আরোহণ করে,}
সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৩৪ – {এবং উহাদের গৃহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক-যাহাতে উহারা হেলান দিয়া বিশ্রাম করিতে পারে,}
সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৩৫ – ”এবং স্বর্ণ-নির্মিতও। আর এই সকলই তো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে আখিরাতের কল্যাণ।”
সূরা নম্বরঃ ৪ আন-নিসা (নারী) আয়াত নম্বরঃ ২০ – ”তোমরা যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণকরা স্থির কর এবং তাহাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়া থাক, তবুও উহা হইতে কিছুই প্রতিগ্রহণ করিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা উহা গ্রহণ করিবে?”
সূরা নম্বরঃ ৭৬ আদ-দাহর (সময়) আয়াত নম্বরঃ ২১ – ”তাহাদের আবরণ হইবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, তাহারা অলংকৃত হইবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে পান করাইবেন বিশুদ্ধ পানীয়।”
সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৭১ – ”স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র লইয়া তাহাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হইবে ; সেখানে রহিয়াছে সমস্ত কিছু, যাহা অন্তর চাহে এবং যাহাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে।”
সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৫৩ – {'মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ-বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশতাগণ দলবদ্ধ ভাবে?'}
সূরা নম্বরঃ ৩৫ ফাতির (আদি স্রষ্টা) আয়াত নম্বরঃ ৩৩ – ”স্থায়ী জান্নাত, যাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে, সেখানে তাহাদেরকে স্বর্ণ-নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হইবে এবং সেখানে তাহাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।”
সূরা নম্বরঃ ২২হাজ্জ্ব (হাজ্জ) আয়াত নম্বরঃ ২৩ – ”যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহাদেরকে অলঙ্কৃত করা হইবে স্বর্ণ-কঙ্কন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাহাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।”
সূরা নম্বরঃ ১৮ কাহফ (গুহা) আয়াত নম্বরঃ ৩১ – ”উহাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে উহাদেরকে স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হইবে, উহারা পরিধান করিবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সেখানে সমাসীন হইবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল!”
সূরা নম্বরঃ ১৭ বানী ইসরাঈল (ইসরায়েলের বংশধর) আয়াত নম্বরঃ ৯৩ – {অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হইবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করিবে, কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনও ঈমান আনিব না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ না করিবে যাহা আমরা পাঠ করিব।' বল, পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো হইতেছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসূল।'}
তাওহীদের ফযিলতঃ
আবূ সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দাবি নিয়ে দুনিয়াতে তোমাদের যেমন ঝগড়া হয়, তা মুমিনগণ কর্তৃক তাদের ভাইদের সম্পর্কে যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে, তাদের রবের সাথে ঝগড়ার চেয়ে অধিক কঠিন নয়।[1] তিনি বলেন: তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত ও আমাদের সাথে হজ করত, কিন্তু আপনি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন: যাও তাদের থেকে যাকে তোমরা চিনো তাকে বের কর। তিনি বলেন: তাদের নিকট তারা আসবে, তাদের চেহারা দেখে তাদেরকে তারা চিনবে, তাদের কাউকে আগুন পায়ের গোছার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। কাউকে পায়ের টাকনু পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে, তাদেরকে তারা বের করবে অতঃপর বলবে: হে আমাদের রব, যাদের সম্পর্কে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা বের করেছি। তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন: বের কর যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। অতঃপর বলবেন: যার অন্তরে অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। এক সময় বলবেন: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান রয়েছে”। গ্রন্থঃ সহিহ হাদিসে কুদসি অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ হাদিসসমূহ হাদিস নম্বরঃ ১৩ [নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ] হাদিসটি সহিহ।
[1] অর্থাৎ দুনিয়াতে আমরা নিজেদের দাবি নিয়ে যে পরিমাণ ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হই, আখেরাতে মুমিনগণ আল্লাহর সাথে তার চেয়ে অধিক ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হবে তাদের ভাইদের মুক্ত করানোর জন্য, যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
উপরের আয়াতে কারীমা ও হাদীস থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআ’লা স্বর্ণ ও রৌপ্য নিজে সৃষ্টি করে এদ্রব্যদ্বয়ের মধ্যে প্রভূত মূল্যমান প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন যার মান-মর্যাদা ইহজগত ও পরজগতে অক্ষুন্ন থাকবে । আয়াতে কারীমাসমূহ বলছে – এই দ্রব্যদ্বয় অন্যান্য প্রযোজ্য বস্তুসহ “অর্থ” হিসেবে যথাযথভাবে কার্যকরী । যেসব ”তথাকথিত অন্ধ আলেম” এই ব্যাখ্যা অস্বীকার করেন তারা যেন পরকালে মহান আল্লাহ্ পাকের কাছে তাঁর প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন । আজকের ইয়াহুদী-নাসারা-পাশ্চাত্য ভোগবাদী দুনিয়ায় প্রচলিত অর্থ থেকে তার অন্তর্নিহিত মূল্যমান উবে গেছে যার জন্য মুসলিম সমাজও কম দায়ী নয় অথচ অন্তর্নিহিত মূল্যমানের অর্থ খোদ কুরআন-হাদীস দ্বারা স্বীকৃত ইহকাল-পরকালের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে । ইতোমধ্যে মুসলিম সমাজ এই ধরনের “পবিত্র অর্থ” ত্যাগ করে “ধর্মনিরপেক্ষ অর্থ”-কে গ্রহন করে অনেক খেসারত দিয়েছে ।
সূরা নম্বরঃ ৪ আন-নিসা (নারী) আয়াত নম্বরঃ ১৫৭-১৫৮ : {আর 'আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল মারইয়াম-তনয় 'ঈসা মসীহকে হত্যা করিয়াছি' তাহাদের এই উক্তির জন্য। অথচ তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই, ক্রশবিদ্ধও করে নাই ; কিন্তু তাহাদের এইরূপ বিভ্রম হইয়াছিল। যাহারা তাহার সম্বন্ধে মতভেদ করিয়াছিল তাহারা নিশ্চয়ই এই সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল; এই সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাহাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। ইহা নিশ্চিত যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই; বরং আল্লাহ্ তাকে তাহাঁর নিকট তুলে লইয়াছেন এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।}
সকল মুসলিম ও খৃষ্টানরা মনে করে নাবী ঈসা ইবনে মারঈয়াম আলাইহি ওয়াস সাল্লাম ক্বিয়ামতের আগে দুনিয়ায় আবির্ভূত হয়ে দুনিয়া শাসন করবেন আর ইনিই মাসিহা বা ত্রাণকর্তা হবেন বিশ্ববাসীর জন্য কিন্তু ইয়াহুদীরা তা সম্পূর্ণরুপে অস্বীকার ক’রে তাদের কল্পনার মাসিহ বা দাজ্জালের অপেক্ষায় আছে তাদেরকে দুনিয়ায় পূর্ণাঙ্গভাবে ক্ষমতায় আসীন করাতে আর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সমূলে ধ্বংস করতে । নাসারা বা খৃষ্টানরা বিশ্বাস করে যে , নাবী ঈসা ইবনে মারঈয়াম আলাইহি ওয়াস সাল্লামকে ক্রশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল । ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ মদদে ১৯১৭ সালে ইয়াহুদীরা জেরুজালেমের মাটিতে স্থান করে নিয়েছে তারা সেখান থেকে বিতাড়িত হওয়ার ২০০০ বছর পরে ; ১৯৪৮ সালে সেখানে অবৈধভাবে ইয়াহুদী রাষ্ট্র কায়েম করে তারা দাজ্জাল বা মিথ্যা মাসিহ-র আগমনকে যেন প্রমানস্বরুপ বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে । ব্রিটেনের পর বর্তমানে বিশ্ব শাসন করছে মূলত আমেরিকা আর এতদিনে আমেরিকার হাত থেকে ক্ষমতা খোদ ইসরাঈলের হাতে চলে যাবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে যা সামান্য চোখ খুললেই বুঝা যায় । সূরা নম্বর ১৮ কাহফ (গুহা) এন মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক সত্য মাসিহ ঈসা আঃ-র পরিবর্তে ইয়াহুদীদের মিথ্যা কামনা-বাসনার দাজ্জাল বা ভন্ড মাসিহ-কে প্রত্যাখ্যান করেছেন । নাবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস সাল্লাম হাদীসের মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে , দাজ্জাল বা ভন্ড মাসিহ-র বিশ্বশাসন করার চেষ্টার বা এর জন্য ফিতনা ছড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হবে – ১) বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসা ২) মানুষের আত্মার মৃত্যু ঘটিয়ে দেয়া হবে তার নানা ফিতনার জাল বিছিয়ে , যা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে , যাতে মানুষ দাজ্জালের শয়তানী কর্মকান্ডকে ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে ভ্রমে পতিত হয় । মানুষকে তার দাসে পরিনত করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে “সুদ” , বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এরকম যে , যে লোক সুদি কারবারে ঢুকবে না তাকে অর্থনৈতিক দারিদ্রদশায় পতিত হয়ে জীবন চালাতে হবে আর যে এটাতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সে অর্থনৈতিকভাবে সুখী থাকবে । আজ ইয়াহুদীদের ১৩টি পরিবার সমগ্র বিশ্বের সকল অর্থব্যবস্থার নিয়ন্তা , সামান্য কয়েকটি মানুষ পুরো বিশ্বের ৮০-৮৫% সম্পদের মালিক , এই ব্যবধান দিনেদিনে আরও বাড়ছে আর বাড়ছে ।
ইয়াহুদী-নাসারাদের মহাপরিকল্পনার ফাঁদে আমরা –
পশ্চিমা বিশ্বের নীলনকশার খেলা হচ্ছে তাদের ও তাদের পদলেহনকারী দেশগুলির প্রচলিত কাগুজে মুদ্রার মূল্যমান বৃদ্ধি করে বাকী বিশ্বে প্রচলিত মুদ্রার মূল্যমান নিম্ন থেকে নিম্নতর করে রাখা আর এই প্রক্রিয়ায় তাদের দাবার গুটি হচ্ছে IMF . আজ মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া সহ সিংহভাগ মুসলিম দেশগুলির মুদ্রার মানের দিকে তাকালেই সব বুঝে আসে , এগুলো কাকতালীয়ভাবে হয়নি , হয়েছে সুদীর্ঘ নীল নকশার সুপরিকল্পিত নাটকের অংশবিশেষ হিসেবে । সূরা নম্বরঃ ৫ আল-মায়িদাহ্ (খাদ্য পরিবেশিত টেবিল) আয়াত নম্বরঃ ৫১ – “হে মু'মিনগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না, তাহারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেহ তাহাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিলে সে তাহাদেরই একজন হইবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।”
কয়েকদশক আগেও ইয়াহুদীদের সাথে খৃষ্টানদের সম্পর্ক ছিল বলতে গেলে সাপে-নেউলে আর এখন তারা শক্ত জোট বেঁধেছে আর এরাই UN বা জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এজেন্ডা চাপিয়ে দিচ্ছে গনমানুষের উপর , তাদের শাসনের যাতাকলের ভিতরে পিষ্ট করে রাখতে । বর্তমান সময়টা উপযোগী হয়ে উঠেছে তাদের মাসিহ বা দাজ্জালের আবির্ভাবের জন্য । যেসব মুসলিম দেশ কুরআন-হাদীসের পরিস্কার নমুনা-নিদর্শন দেখিয়ে দেয়ার পরও দাজ্জালকে এখনও চিনতে পারছে না বা যারা প্রকৃতপক্ষে নিরেট উদাসীন তারাই গাঁটছড়া বেঁধেছে এই ইয়াহুদী-নাসারা জোটের সাথে । এসব নামের মুসলিম দেশ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্-কে দারিদ্রতার শেষ সীমায় ঠেলে দিয়ে ইসরাঈলের পক্ষ নিয়ে সাধারণ মুসলিম আমজনতার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে ।
ইয়াহুদী-নাসারাদের জোট বাজার অর্থনীতির নামে মানুষকে ক্রীতদাসে পরিনত করেছে , তাদের তৈরী করা আইন দ্বারা শোষন করে নিচ্ছে সকলের শ্রম-মেধা । ১৯৩৩ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকা আইন পাশ করে এরকম - কোন নাগরিক কোনপ্রকার স্বর্ণমুদ্রা , স্বর্ণের বাট বা স্বর্ণমানপত্র আর সংগ্রহে রাখতে পারবে না । এভাবে আমেরিকা সরকার স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন রহিত করে দিয়ে ব্যবসা বানিজ্যে এর প্রচলন উঠিয়ে দেয় ফলে স্বর্ণমুদ্রা বিনিময়ের মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার স্থগিত হয়ে গেলো । সরকার প্রতি আউন্স স্বর্ণের বিপরীতে ২০ মার্কিন ডলার মূল্যমানের কাগুজে নোট জনগনের হাতে ধরিয়ে দেয় । এভাবে একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারও একই পদক্ষেপ গ্রহন করে । যখন জনগনের সকল স্বর্ণ ও স্বর্ণমুদ্রা কাগুজে নোটে পরিনত হলো তখন ১৯৩৪ সালের জানুয়ারী মাসে আমেরিকা সরকার মার্কিন ডলারের অবমূল্যায়ন করলো ৪১% আর সাথে সাথে তারা স্বর্ণ রাখার যে নিষেধাজ্ঞা কয়েকমাস আগে দিয়েছিল তা এখন উঠিয়ে নিলো !!! ফলশ্রুতিতে আমেরিকার জনগন ব্যাংকে ছুটলো স্বর্ণের বিপরীতে ইতোমধ্যে হাতে পাওয়া কাগুজে ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ মজুদ করতে কিন্তু ডলারের অবমূল্যায়ন হওয়াতে তাদেরকে এবার প্রতি আউন্স স্বর্ণ কিনতে হলো ৩৫ মার্কিন ডলারে , মানে তারা তাদের সম্পদের ৪১% খুইয়ে ফেললো এক নিমিষেই !! এটাই হলো শয়তানের বা দাজ্জালের দেখিয়ে দেয়া “আইনসিদ্ধ ডাকাতি” যা করা হয় সময়ে সময়ে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে ।
সূরা নম্বরঃ ৪ আন-নিসা (নারী) আয়াত নম্বরঃ ২৯ – “হে মু'মিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায় ভাবে গ্রাস করিও না; কিন্তু তোমাদের পরস্পরে রাজী হইয়া ব্যবসায় করা বৈধ; এবং একে অপরকে হত্যা করিও না; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।”
সূরা নম্বরঃ ১১ হুদ (নাবী হুদ) আয়াত নম্বরঃ ৮৫ – “হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ন্যায় সঙ্গত ভাবে মাপিও ও ওজন করিও, লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়াইও না।”
ইয়াহুদী-নাসারাদের শোষনযন্ত্রগুলি ১৯৩৩-৩৪ সালের ঘটনাটিকে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হিসেবে নিয়ে এর উপযোগীতা পরখ করে এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী মূল্যহীন কাগুজে নোটের মাধ্যমে তার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে নিষ্পেষিত করে চলেছে নিরন্তর । নোটের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক গনমানুষ হয়ে পড়ে সর্বস্বান্ত আর গুটিকয়েক রাঘব-বোয়াল আরও ফুলেফেপে উঠে । আমেরিকার এই ধোঁকাবাজির খেলার আগে ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং অবমূল্যায়ন করা হয় ৩০% তার অব্যবহিত পরে তা ৪০%-এ নিয়ে যাওয়া হয় ১৯৩৪ সালের মধ্যেই । একই পদাংক অনুসরণ ক’রে ফ্রান্স তাদের কাগুজে মুদ্রা ফ্রাঙ্কের অবমূল্যায়ন ঘটায় ৩০% , ইটালীর লিরা হয় ৪১%, আর সুইস ফ্রাঙ্ক হয় ৩০% অবমূল্যায়িত । একই পথ অবলম্বন করে ইউরোপের বাকী দেশগুলো - গ্রীস অবমূল্যায়ন করে ৫৯% !!! মুদ্রার অবমূল্যায়নের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এসব দেশের কর্তাব্যক্তিরা বলেন – রপ্তানীকে উৎসাহ দিতে , আমদানী করা পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে কিন্তু আদত কথা হচ্ছে এরফলে দেশগুলি অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে , পণ্য ক্রয়ের আভ্যন্তরীন চাহিদা হ্রাস পেয়েছে , বেড়েছে বেকারত্বের হার , সারা বিশ্বে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দাভাব । ইয়াহুদী-নাসারাদের সুপরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেয়া মন্দাভাবকে কাটিয়ে উঠার জন্য (বাহ্যিকভাবে) এই জোট রাস্তা করে দিলো তাদের নীল নকশা অনুযায়ী তৈরী করা “বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা”-র শোষনযন্ত্রকে যেন ব্যবস্থাটি ত্রাণকর্তার ভূমিকায় সুনিপুন অভিনয় করতে পারে । এই জোটের খেলা দেখে মুসলিম বিশ্বের উচিৎ ছিল শান্তির ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেদের স্বার্থে কাজ শুরু করে দেয়া এবং কাগুজে বিনিময় ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসা কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তাদের কানে পানি পৌঁছেনি ।
আমেরিকার Bretton Woods নামক স্থানে একটি সম্মেলনে আমেরিকা , কানাডা , অষ্ট্রেলিয়া , পশ্চিম ইউরোপ ও জাপানের মত ধনী দেশগুলির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১৯৪৪ সালে একটি অসৎ উদ্দেশ্য সাধনকল্পে গঠিত হয় একটি আর্থিক খাত বা অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রক সংস্থা , মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নিতে জাতিসংঘের ছাতার নীচে IMF নাম দিয়ে । যদি কাগুজে টাকার উপরে প্রদত্ত “মানুষের দেয়া” মূল্যমানের সমপরিমান বা এর খুব কাছাকাছি পরিমান সমমূলেরও ধাতব স্বর্ণ দেশে মজুত রাখার নিয়ম থাকতো তাহলে খুব বেশী সমস্যা হয়ত হতো না হয়ত কিন্তু মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য Bretton Woods সম্মেলন ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়ে ছাপানো নোটের ১% স্বর্ণের বাজার মূল্যের সমপরিমান স্বর্ণ ভল্টে/রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখার কথা বলে তাদের লজ্জা নিবারন করতে চেষ্টা করলো , মানুষের কাছে তাদের লজ্জার প্রকাশ ঢাকতে একটি দায়সারা যুক্তি/উত্তর ছুড়ে দিতে । কাগুজে নোট Redeemable বা খালাসযোগ্য নয় বা এর নিজের কোন ক্ষমতা নেই এর বাহককে পূর্ণ মূল্যে ক্ষতিপুরন দিতে অর্থাৎ উপরের দেশগুলি বা এদের কয়েকটি দোসর দেশ বাদে সকল দেশের নোট অবমূল্যায়িত হয়ে শোষক রাষ্ট্রগুলির হাতের পুতুলে পরিনত হলো , তারা সম্পদ লুট করে নেয়া শুরু করলো , মানুষ মানুষের শ্রম-দাসে পরিনত হলো কারণ অবমূল্যায়িত কাগুজে নোটের কোন অন্তর্নিহিত বা নিজস্ব মূল্য নেই । আমেরিকার Bretton Woods এ তৈরী করা নীতিতে একটি গাছের পাতা (হাস্যকর যুক্তি) দিয়ে তাদের লজ্জা নিবারন করতে চেয়েছিল অর্থাৎ খুবই হাস্যকর পরিমান স্বর্ণ কাগজের নোটের বিপরীতে জমা রাখার নিয়ম ক'রে কিন্তু তাদের লজ্জার আবরণ সেই গাছের পাতাটিও খসে পড়ে তাদের লজ্জাস্থান উন্মোচিত করে দিলো ১৯৭১ সালে যখন নোটের বিপরীতে সর্বনিম্ন কোন নির্দিষ্ট পরিমান স্বর্ণ জমা রাখার নীতি থেকেও তারা সরে আসলো ।
আশ্চর্যের বিষয় যে , এসময় উল্লেখযোগ্য কোন ইসলামিক পন্ডিতব্যক্তি কাফিরদের এই শোষনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহ্-কে জাগ্রত করার চেষ্টা করেনি । হয়ত তাদের চোখে ধাঁধা লেগে গিয়েছিল কচকচে ডলার নোটের উপরে নজর পড়ে , ফলে তারা কাগুজে নোটকে “হারাম” বলে ফাতওয়া দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন । IMF তার চুক্তিপত্রের Article 4 Section 2(b)-র মাধ্যমে নোটের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদের কোন বিধিনিষেধ রাখলো না , এই ধারা বলছে –
“exchange agreements may include (i) the maintenance by a member of a value for its currency in terms of the special drawing right or another denominator , OTHER THAN GOLD , selected by the member or (ii) cooperative arrangements by which members maintain the value of their currencies in relation to the value of the currency or currencies of other members or (iii) other exchange arrangements of a member’s choice.”
এই নিবর্তন ও পরিহাসমূলক IMF-র Article 4 Section 2(b)-র সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও সেটির বাতিলের জন্য Treasury ও Federal Reserve Bank-এ আবেদন করেছিলেন আমেরিকার তৎকালীন কংগ্রেসম্যান জনাব Ron Paul সেই ২০০২ সালে কিন্তু আজ পর্যন্ত তার আবেদনের কোন জবাব IMF দিতে পারেনি । Treasury ও Federal Reserve Bank কোন উত্তর দেয়নি কারণ তাদের কাছে কোন উত্তর নেই । ইয়াহুদী-খৃষ্টান গং জাতিসংঘের IMF-র মাধ্যমে তাদের শোষনের থাবা ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী , মানুষ হয়েছে হতদরিদ্র , সেবাদাস । যদি মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া একটি দ্রব্য প্রতিবেশী মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানী করে তারপরেও মূল্য পরিশোধ করতে হবে মার্কিন ডলারে , তার মানে ডলারের চাহিদা ও মূল্যমান বাড়তেই থাকবে আর ক্রমান্বয়ে অবমূল্যায়িত হতে থাকবে বাকী দেশগুলির নোট বা কাগুজে মুদ্রা । শোষক দেশগুলি ডলার-পাউন্ড-ইউরো ছাপাচ্ছে আর শোষন করে নিচ্ছে বাকী দুনিয়ার খনিজ-জীবাশ্ম সম্পদ সহ মানুষের শ্রম ও মেধা । গুটিকয়েক শোষকের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে পুরো দুনিয়ার তাবৎ নিপীড়িত জনসাধারণ । এই ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে যায়নি বরং হয়েছে দীর্ঘকালের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে । আধুনিক (!!??) অর্থ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ডাকাতির নাম Fractional-Reserve-Banking System যার মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহককে সুদের পরিশোধযোগ্য হার ধার্য করে অর্থ ধার দেয় কিন্তু সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তার অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত/জমা রাখে (CRR-Cash Reserve Ratio) নগন্য পরিমানে , এটা একটি ”আইনসিদ্ধ” চুরি-ডাকাতি বৈ আর কিছুই নয় । আমি মনে করি ইসলামিক মুফতি সাহেবগনের এসব ব্যাপারে কোন জ্ঞানই নেই , এই রচনায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার যে ফাঁকির কথা বলা হলো সে ব্যাপারেও তাদের কোন জ্ঞান নেই । শীঘ্রই বর্তমানে প্রচলিত কাগুজে নোট “ইলেকট্রনিক মুদ্রা” দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে শোষকদের দ্বারা এবং মনে হয় মুফতি সাহেবগন তখনও এই ইলেকট্রনিক মুদ্রাকেও “হালাল” বলে ফাতওয়া দিবেন !!! অথচ IMF-র যাতাকলে পিষ্ট হয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্ দারিদ্রতায় পতিত হচ্ছে। সেদিকে মুফতি সাহেবদের দৃষ্টি নেই, উনারা শুধু নিজের পেট পূজায় ব্যস্ত। আ এ থেকেই প্রতীয়মাণ হয় এদের কাছ থেকে বর্তমানে চলমান ফিতনা সম্পর্কে উম্মাহর বেশি কিছু আশা করাটাই বোকামী।
.
আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রা : পশ্চাদপদতা নাকি অগ্রগামীতা ? ........................................................................................ . “যখন কোন একটি জোটনিরপেক্ষভুক্ত দেশের সদস্যের সাথে বৈদেশিক সম্পর্কিত বিষয়ে সমস্যা হবে আমেরিকার তখন আমেরিকা বলবে তুমি রাশিয়ার ধ্বজাধারী সুতরাং আমার কাছে থেকে বোমা খাও এবং উল্টো ক্ষেত্রে রাশিয়াও এরকম বলবে শত্রুভাবাপন্ন কোন একটি জোটনিরপেক্ষভুক্ত দেশকে।”তার মানে, নিরপেক্ষ বলতে আদতে কিছু নেই বরং নিরপেক্ষতার দাবী করবে কপট বিশ্বাসীরা। কথাটা বেশ প্রণিধানযোগ্য। যেমন আজ কোনো এক দৈনিক প্রত্রিকার স্লোগান এরকম “আমরা নিরপেক্ষ নই, আমরা শোষিতের পক্ষে।” কত মর্যাদাবান, সেলিব্রেটি-অনলাইন ব্যক্তিত্ব, বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিং প্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত আলেম-এ-দ্বীন দেখলাম, তাঁরা “কথা সম্পূর্ণ বলেন না” বা “আসল কথা এড়িয়ে যান” বা “মিথ্যার লেপন দিয়ে দেন সত্যের উপর”। চারিদিকের এরকম এক ”মোসাহেবি বা দরবারী পরিস্থিতিতে” বা “পানিতে নামবো কিন্তু গা ভিজাবো না” বা “সাপও মরবে লাঠিও না ভাঙ্গবে” পরিস্থিতিতে একজন সত্যাশ্রয়ী আলেম খুঁজে পাওয়া সত্যি এক কাকতালীয় ব্যাপারই বটে। জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো যে কলবের মধ্যে জ্ঞান ধারণ করা হবে সেটি পরিষ্রকা আছে কিনা সেটা। এরকম এক পরিবেশে যদি কিছুটা কম জ্ঞান-সম্পন্ন ব্যক্তি অপ্রিয় হলেও সেই অপ্রিয় সত্যি কথা বলার চেষ্টা করেন তবে সেটা অনেক গুরুত্ববহ ও সাহসী এক অভিযাত্রা, যেযাত্রায় সাথী পাওয়ার আশা করা আসলেই দুরুহ ব্যাপার, বরং শত্রু পাওয়ার ১০০% নিশ্চয়তা আছে। একজন অপেক্ষাকৃত কম জ্ঞান-সম্পন্ন দ্বীনের দা’ঈ যদি কোন নতুন বিষয়ের খেই ধরিয়ে দিতে পারেন বা অবতারণা করেন যেটা তথাকথিত বয়স্ক ও সুবিধাভোগী জ্ঞানী ব্যক্তিগন ঢেকে রেখেছেন এতদিন, তবে সেই যুবক ও কম জ্ঞান-সম্পন্ন দা‘ঈ অনেক বেশী প্রশংসীত হওয়ার যোগ্য। কারণ তার অবতারণা করা নতুন দৃষ্টি-ভঙ্গিকে বেশী জ্ঞান-সম্পন্নগন প্রয়োজনে ঘষেমেজে পালিশ করে প্রয়োগ যোগ্য করার প্রয়াস পাবেন, অবশ্য যদি তাঁরা মনের জানালাটি খুলতে সক্ষম হন শেষ পর্যন্ত। সাম্প্রতিক সময়ে একজন যুবক দা’ঈ মূলত একটি বিষয়, ক্বিয়ামত ও এর পূর্ববর্তী সময়ে বিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে ফোকাস করছিলেন বিভিন্ন বক্তব্যে। অনেক কথার ভিড়ে তিনি বলেছেন যে , আমাদেরকে “স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রা”-র যুগে ফিরে যেতে হবে। একজন সেলিব্রেটি আলেম ও সুন্নাহ্-র ধারক-বাহক নামে পরিচিত একটি দা’ঈ সংস্থা ভিডিও-বিবৃতি দিলো যে- এই যুবকের ধারণা কল্পনা প্রসূত , অবাস্তব এবং কাগুজে টাকা সম্পূর্ণ হালাল, এই যুবকের বক্তব্য শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে.... ইত্যাদি। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কিন্তু দ্বীনের প্রতি সহানুভূতিশীল আরেক ভাই ফেসবুকে মন্তব্য করলেন – “…..একবিংশ শতাব্দীতে এসে শিক্ষিত দাবী করা একজন ধর্মীয় বক্তার কাছে যদি এমন আজগুবি কথা (স্বর্ণমুদ্রা-রৌপ্যমুদ্রা) আমাদেরকে শুনতে হয়, তবে বুঝতে হবে আমাদের মুক্তির পথ অনেক দীর্ঘ।” . এবার শায়েখ ইমরান এন. হোসেইন রচিত The Gold Dinar and Silver Dirham – Islam and the future of Money পুস্তিকাটির উল্লেখযোগ্য অংশ ভাষান্তরের চেষ্টা করে দেখা যাক আমাদের অবস্থান কি হওয়া উচিৎ এব্যাপারে (লেখকের পরিচয় সংযুক্ত ছবিতে দেয়া আছে) – ১) কুরআন-সুন্নাহ্-র আলোকে অর্থের পরিচয় – ক) যদি ওয়াকীল কোন খারাপ জিনিস বিক্রয় করে, তবে তার বিক্রয় গ্রহণযোগ্য নয় - আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) কিছু বরনী খেজুর (উন্নতমানের খেজুর) নিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আসেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কোথায় পেলে? বিলাল (রাঃ) বললেন, আমাদের নিকট কিছু নিকৃষ্ট মানের খেজুর ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে তা দু‘ সা’-এর বিনিময়ে এক সা‘ কিনেছি। একথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হায়! হায়! এটাতো একেবারে সুদ! এটাতো একেবারে সুদ! এরূপ করো না। যখন তুমি উৎকৃষ্ট খেজুর কিনতে চাও, তখন নিকৃষ্ট খেজুর ভিন্নভাবে বিক্রি করে দাও। তারপর সে মূল্যের বিনিময়ে উৎকৃষ্ট খেজুর কিনে নাও। গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ৪০/ ওয়াকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) (كتاب الوكالة) হাদিস নম্বরঃ ২৩১২ / (মুসলিম ২২/১৮, হাঃ ১৫৯৪, আহমাদ ১১৫৯৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২১৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২১৬২) / হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) । (গ্রন্থকার পুস্তিকাতে বুখারী হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন রেফারেন্স নম্বর ছাড়া , পোস্টদাতা নম্বর খুঁজতে গিয়ে একই হাদীস রেফারেন্স নম্বর ও তাহকীকের অবস্থাসহ পেয়ে তাই উদ্ধৃত করা সঙ্গত মনে করলো) খ) পশুকে পশুর বিনিময়ে বিক্রয় করা এবং উহাকে ধারে বিক্রয় করা প্রসঙ্গ - রেওয়ায়ত ৬১. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একটি রাহেলা [راحلة ভারবাহী বা সাওয়ারীর উট] ক্রয় করিয়াছিলেন চারটি উটের বিনিময়ে। সে রাহেলা বিক্রেতার দায়িত্বে ও জামানতে ছিল। কথা এই ছিল যে, বিক্রেতা উহাকে ক্রেতার নিকট সোপর্দ করিবে রাবাযী (ربزة) নামক স্থানে। গ্রন্থঃ মুয়াত্তা মালিক অধ্যায়ঃ ৩১. ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় (كتاب البيوع) হাদিস নম্বরঃ ১৩৪৫ / হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ । (গ্রন্থকার পুস্তিকাতে মুয়াত্তা মালিক হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন রেফারেন্স নম্বর ছাড়া , পোস্টদাতা নম্বর খুঁজতে গিয়ে একই হাদীস রেফারেন্স নম্বর ও তাহকীকের অবস্থাসহ পেয়ে তাই উদ্ধৃত করা সঙ্গত মনে করলো) গ) যবের বদলে যব (বার্লির বদলে বার্লি) বিক্রয় করা - মালিক ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একশ’ দ্বীনারের বিনিময় সারফ এর জন্য লোক সন্ধান করছিলেন। তখন তালহা ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাক দিলেন। আমরা বিনিময় দ্রব্যের পরিমাণ নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম। অবশেষে তিনি আমার সঙ্গে সারফ [1] করতে রাজী হলেন এবং আমার হতে স্বর্ণ নিয়ে তার হাতে নাড়া-চাড়া করতে করতে বললেন, আমার খাযাঞ্চী গাবা (নামক স্থান) হতে আসা পর্যন্ত (আমার জিনিস পেতে) দেরী করতে হবে। ঐ সময়ে ‘উমার (রাঃ) আমাদের কথা-বার্তা শুনছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহর কসম! তার জিনিস গ্রহণ না করা পর্যন্ত তুমি তার হতে বিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নগদ নগদ না হলে স্বর্ণের বদলে স্বর্ণের বিক্রয় (সুদ) হবে। নগদ নগদ ছাড়া গমের বদলে গমের বিক্রয় সুদ হবে। নগদ নগদ ছাড়া যবের বদলে যবের বিক্রয় রিবা হবে। নগদ নগদ না হলে খেজুরের বদলে খেজুরের বিক্রয় সুদ হবে। গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ) অধ্যায়ঃ ৩৪/ ক্রয়-বিক্রয় (كتاب البيوع) হাদিস নম্বরঃ ২১৭৪ (২১৩৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২০২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২০৩৯) / [1] স্বর্ণ-রৌপ্যের পারস্পরিক ক্রয়-বিক্রয়কে সারফ বলে। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) {গ্রন্থকার পুস্তিকাতে সহীহ্ মুসলিম হাদীসের বর্ণনা দিয়েছেন রেফারেন্স নম্বর ছাড়া , পোস্টদাতা নম্বর খুঁজতে গিয়ে একই হাদীস রেফারেন্স নম্বর সহ সহীহ্ আল-বোখারীতে পেয়ে তাই উদ্ধৃত করা সঙ্গত মনে করলো) উপর্যুক্ত হাদীসসমূহ থেকে ইসলামে বৈধ অর্থের রুপ সম্বন্ধে যা জানা যায় - প্রথমতঃ অর্থ হলো : ১) মূল্যবান ধাতু যেমন - সোনা , রুপা ২) গম , বার্লি , খেজুর বা লবন যেগুলো খাদ্যদ্রব্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং যেসব দ্রব্যের যথেষ্ট স্থায়ীত্বকালও রয়েছে । ফলে ইয়াসরীব বা মদীনার বাজারে যখন স্বর্ণমুদ্রার ঘাটতি দেখা যেতো তখন অর্থ হিসেবে খেজুরকে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো । আল্লাহ্ পাক সুদকে হারাম করেছেন কারন এরদ্বারা অর্থের ব্যাপক সঞ্চালন হয়না , এতে ধনী আরও ধনী হতে থাকে আর গরীব হতে থাকে আরও গরীব । যেহেতু উটকে অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি সেজন্য এই জন্তুর অসম বিনিময়কে হালাল করে যেসব দ্রব্য মানে খেজুর বা এরকম কিছুর অসম বিনিময়কে হারাম করা হয়েছে । সুদের চক্রে পড়ে ইন্দোনেশিয়ার দরিদ্র নারীরা কাফির দেশ সিঙ্গাপুরে দিনরাত পরিশ্রম করছে , রান্না ও পরিবেশন করতে বাধ্য হচ্ছে হারাম শুকরের মাংস । মহান রাব্বুল আলামীন বিনা কারণে ইন্দোনেশিয়ার “জাভা” প্রদেশে বিশাল রকমের ধান উৎপাদনের ক্ষেতে পরিনত করে দেননি । দিয়েছেন এজন্য যে , এখানকার অধিবাসীরা পুরনো চাল খাবে আর নতুন চাল দিয়ে দেশের ভিতরে-বাইরে প্রয়োজনীয় পণ্য বিনিময় করবে । একইভাবে কিউবাতে ব্যবহার করা যেতে পারে “আখ” বা ”চিনি” । দ্বিতীয়তঃ যখন সোনা , রুপা , গম , বার্লি , খেজুর বা লবনকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যখন এসব দ্রব্যে ছিল বা এখনও আছে তার নিজস্ব বা অন্তর্নিহিত মূল্যমান (Intrinsic Value) । তৃতীয়তঃ সোনা , রুপা , গম , বার্লি , খেজুর বা লবনকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এসবের সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং রাব্বুল আলামীন এবং স্বয়ং তিনিই এগুলোর ভিতরে সৃষ্টিগতভাবে দিয়ে দিয়েছেন প্রতিটির অন্তর্নিহিত মূল্যমান । তিনি নিজেকে আল-রাযযাক বা রিযিকদাতা হিসেবে নামকরণ করেছেন যিনি সৃষ্টি করেছেন সমস্ত বস্তু , অজানা-জানা সবকিছু । সংক্ষেপে “অর্থ” তাকেই বলবো , যা – ক) উপর্যুক্ত মূল্যবান ধাতু বা খাদ্যদ্রব্য । খ) যার অন্তর্নিহিত মূল্যমান আছে । গ) মহান আল্লাহ্ পাকের দ্বারা সৃষ্ট বস্তু । কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ্‌ আযযা ওয়াজাল্লাহ্ বলেন - সূরা নম্বরঃ ৩ আলে-ইমরান (ইমরানের পরিবার) আয়াত নম্বরঃ ৭৫ – “কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক রহিয়াছে, যে বিপুল সম্পদ আমানত রাখিলেও ফেরত দিবে; আবার এমন লোকও আছে যাহার নিকট একটি দীনারও আমানত রাখিলে তাহার পিছনে লাগিয়া না থাকিলে সে ফেরত দিবে না, ইহা এই কারণে যে, তাহারা বলে, নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নাই, এবং তাহারা জানিয়া-শুনিয়া আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।” সূরা নম্বরঃ ১২ ইউসূফ (নাবী ইউসুফ) আয়াত নম্বরঃ ২০ – “এবং উহারা তাহাকে বিক্রয় করিল স্বল্প মূল্যে-মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, উহারা ছিল তাহার ব্যাপারে নির্লোভ।” সূরা নম্বরঃ ৩ আলে-ইমরান (ইমরানের পরিবার) আয়াত নম্বরঃ ১৪ – “নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদিপশু এবং ক্ষেত-খামারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের জন্য সুশোভিত করা হইয়াছে। এইসব ইহজীবনের ভোগ্য বস্তু। আর আল্লাহ্, তাঁহারই নিকট রহিয়াছে উত্তম আশ্রয়স্থল।” সূরা নম্বরঃ ৩ আলে-ইমরান (ইমরানের পরিবার) আয়াত নম্বরঃ ৯১ – ”যাহারা কুফরী করে এবং কাফিররূপে যাহাদের মৃত্যু ঘটে তাহাদের কাহারও নিকট হইতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময় স্বরূপ প্রদান করিলেও তাহা কখনও কবূল করা হইবে না। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে ; ইহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।” সূরা নম্বরঃ ৯ আত-তাওবাহ্ (অনুশোচনা) আয়াত নম্বরঃ ৩৪ – ”হে মু'মিনগণ! পণ্ডিত এবং সংসার বিরাগীদের মধ্যে অনেকেই লোকের ধন-সম্পদ অন্যায় ভাবে ভোগ করিয়া থাকে এবং লোককে আল্লাহ্‌র পথ হইতে নিবৃত্ত করে। আর যাহারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং আল্লাহ্‌র পথে ব্যয় করে না উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।” সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৩৩ – {সত্য প্রত্যাখ্যানে মানুষ এক-মতাবলম্বী হইয়া পড়িবে, এই আশংকা না থাকিলে দয়াময় আল্লাহ্‌কে যাহারা অস্বীকার করে, উহাদেরকে আমি দিতাম উহাদের গৃহের জন্য রৌপ্য-নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যাহাতে উহারা আরোহণ করে,} সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৩৪ – {এবং উহাদের গৃহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক-যাহাতে উহারা হেলান দিয়া বিশ্রাম করিতে পারে,} সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৩৫ – ”এবং স্বর্ণ-নির্মিতও। আর এই সকলই তো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ-সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে আখিরাতের কল্যাণ।” সূরা নম্বরঃ ৪ আন-নিসা (নারী) আয়াত নম্বরঃ ২০ – ”তোমরা যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণকরা স্থির কর এবং তাহাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়া থাক, তবুও উহা হইতে কিছুই প্রতিগ্রহণ করিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা উহা গ্রহণ করিবে?” সূরা নম্বরঃ ৭৬ আদ-দাহর (সময়) আয়াত নম্বরঃ ২১ – ”তাহাদের আবরণ হইবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, তাহারা অলংকৃত হইবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে পান করাইবেন বিশুদ্ধ পানীয়।” সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৭১ – ”স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র লইয়া তাহাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হইবে ; সেখানে রহিয়াছে সমস্ত কিছু, যাহা অন্তর চাহে এবং যাহাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে।” সূরা নম্বরঃ ৪৩ যুখরুফ (সোনাদানা) আয়াত নম্বরঃ ৫৩ – {'মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ-বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশতাগণ দলবদ্ধ ভাবে?'} সূরা নম্বরঃ ৩৫ ফাতির (আদি স্রষ্টা) আয়াত নম্বরঃ ৩৩ – ”স্থায়ী জান্নাত, যাহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে, সেখানে তাহাদেরকে স্বর্ণ-নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হইবে এবং সেখানে তাহাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।” সূরা নম্বরঃ ২২হাজ্জ্ব (হাজ্জ) আয়াত নম্বরঃ ২৩ – ”যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহাদেরকে অলঙ্কৃত করা হইবে স্বর্ণ-কঙ্কন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাহাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হইবে রেশমের।” সূরা নম্বরঃ ১৮ কাহফ (গুহা) আয়াত নম্বরঃ ৩১ – ”উহাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে উহাদেরকে স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হইবে, উহারা পরিধান করিবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সেখানে সমাসীন হইবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম আশ্রয়স্থল!” সূরা নম্বরঃ ১৭ বানী ইসরাঈল (ইসরায়েলের বংশধর) আয়াত নম্বরঃ ৯৩ – {অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হইবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করিবে, কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনও ঈমান আনিব না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ না করিবে যাহা আমরা পাঠ করিব।' বল, পবিত্র মহান আমার প্রতিপালক! আমি তো হইতেছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসূল।'} তাওহীদের ফযিলতঃ আবূ সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দাবি নিয়ে দুনিয়াতে তোমাদের যেমন ঝগড়া হয়, তা মুমিনগণ কর্তৃক তাদের ভাইদের সম্পর্কে যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে, তাদের রবের সাথে ঝগড়ার চেয়ে অধিক কঠিন নয়।[1] তিনি বলেন: তারা বলবে: হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত ও আমাদের সাথে হজ করত, কিন্তু আপনি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন: যাও তাদের থেকে যাকে তোমরা চিনো তাকে বের কর। তিনি বলেন: তাদের নিকট তারা আসবে, তাদের চেহারা দেখে তাদেরকে তারা চিনবে, তাদের কাউকে আগুন পায়ের গোছার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। কাউকে পায়ের টাকনু পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে, তাদেরকে তারা বের করবে অতঃপর বলবে: হে আমাদের রব, যাদের সম্পর্কে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা বের করেছি। তিনি বলেন: আল্লাহ বলবেন: বের কর যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। অতঃপর বলবেন: যার অন্তরে অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান রয়েছে। এক সময় বলবেন: যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান রয়েছে”। গ্রন্থঃ সহিহ হাদিসে কুদসি অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ হাদিসসমূহ হাদিস নম্বরঃ ১৩ [নাসায়ি ও ইবনু মাজাহ] হাদিসটি সহিহ। [1] অর্থাৎ দুনিয়াতে আমরা নিজেদের দাবি নিয়ে যে পরিমাণ ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হই, আখেরাতে মুমিনগণ আল্লাহর সাথে তার চেয়ে অধিক ঝগড়া ও তর্কে লিপ্ত হবে তাদের ভাইদের মুক্ত করানোর জন্য, যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে। হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) উপরের আয়াতে কারীমা ও হাদীস থেকে বুঝা যায় আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআ’লা স্বর্ণ ও রৌপ্য নিজে সৃষ্টি করে এদ্রব্যদ্বয়ের মধ্যে প্রভূত মূল্যমান প্রবেশ করিয়ে দিয়েছেন যার মান-মর্যাদা ইহজগত ও পরজগতে অক্ষুন্ন থাকবে । আয়াতে কারীমাসমূহ বলছে – এই দ্রব্যদ্বয় অন্যান্য প্রযোজ্য বস্তুসহ “অর্থ” হিসেবে যথাযথভাবে কার্যকরী । যেসব ”তথাকথিত অন্ধ আলেম” এই ব্যাখ্যা অস্বীকার করেন তারা যেন পরকালে মহান আল্লাহ্ পাকের কাছে তাঁর প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন । আজকের ইয়াহুদী-নাসারা-পাশ্চাত্য ভোগবাদী দুনিয়ায় প্রচলিত অর্থ থেকে তার অন্তর্নিহিত মূল্যমান উবে গেছে যার জন্য মুসলিম সমাজও কম দায়ী নয় অথচ অন্তর্নিহিত মূল্যমানের অর্থ খোদ কুরআন-হাদীস দ্বারা স্বীকৃত ইহকাল-পরকালের প্রযোজ্য ক্ষেত্রে । ইতোমধ্যে মুসলিম সমাজ এই ধরনের “পবিত্র অর্থ” ত্যাগ করে “ধর্মনিরপেক্ষ অর্থ”-কে গ্রহন করে অনেক খেসারত দিয়েছে । সূরা নম্বরঃ ৪ আন-নিসা (নারী) আয়াত নম্বরঃ ১৫৭-১৫৮ : {আর 'আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল মারইয়াম-তনয় 'ঈসা মসীহকে হত্যা করিয়াছি' তাহাদের এই উক্তির জন্য। অথচ তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই, ক্রশবিদ্ধও করে নাই ; কিন্তু তাহাদের এইরূপ বিভ্রম হইয়াছিল। যাহারা তাহার সম্বন্ধে মতভেদ করিয়াছিল তাহারা নিশ্চয়ই এই সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল; এই সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাহাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। ইহা নিশ্চিত যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই; বরং আল্লাহ্ তাকে তাহাঁর নিকট তুলে লইয়াছেন এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} সকল মুসলিম ও খৃষ্টানরা মনে করে নাবী ঈসা ইবনে মারঈয়াম আলাইহি ওয়াস সাল্লাম ক্বিয়ামতের আগে দুনিয়ায় আবির্ভূত হয়ে দুনিয়া শাসন করবেন আর ইনিই মাসিহা বা ত্রাণকর্তা হবেন বিশ্ববাসীর জন্য কিন্তু ইয়াহুদীরা তা সম্পূর্ণরুপে অস্বীকার ক’রে তাদের কল্পনার মাসিহ বা দাজ্জালের অপেক্ষায় আছে তাদেরকে দুনিয়ায় পূর্ণাঙ্গভাবে ক্ষমতায় আসীন করাতে আর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সমূলে ধ্বংস করতে । নাসারা বা খৃষ্টানরা বিশ্বাস করে যে , নাবী ঈসা ইবনে মারঈয়াম আলাইহি ওয়াস সাল্লামকে ক্রশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিল । ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ মদদে ১৯১৭ সালে ইয়াহুদীরা জেরুজালেমের মাটিতে স্থান করে নিয়েছে তারা সেখান থেকে বিতাড়িত হওয়ার ২০০০ বছর পরে ; ১৯৪৮ সালে সেখানে অবৈধভাবে ইয়াহুদী রাষ্ট্র কায়েম করে তারা দাজ্জাল বা মিথ্যা মাসিহ-র আগমনকে যেন প্রমানস্বরুপ বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে । ব্রিটেনের পর বর্তমানে বিশ্ব শাসন করছে মূলত আমেরিকা আর এতদিনে আমেরিকার হাত থেকে ক্ষমতা খোদ ইসরাঈলের হাতে চলে যাবার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে যা সামান্য চোখ খুললেই বুঝা যায় । সূরা নম্বর ১৮ কাহফ (গুহা) এন মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক সত্য মাসিহ ঈসা আঃ-র পরিবর্তে ইয়াহুদীদের মিথ্যা কামনা-বাসনার দাজ্জাল বা ভন্ড মাসিহ-কে প্রত্যাখ্যান করেছেন । নাবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস সাল্লাম হাদীসের মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে , দাজ্জাল বা ভন্ড মাসিহ-র বিশ্বশাসন করার চেষ্টার বা এর জন্য ফিতনা ছড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হবে – ১) বিশ্বের জনসংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসা ২) মানুষের আত্মার মৃত্যু ঘটিয়ে দেয়া হবে তার নানা ফিতনার জাল বিছিয়ে , যা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে , যাতে মানুষ দাজ্জালের শয়তানী কর্মকান্ডকে ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে ভ্রমে পতিত হয় । মানুষকে তার দাসে পরিনত করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে “সুদ” , বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এরকম যে , যে লোক সুদি কারবারে ঢুকবে না তাকে অর্থনৈতিক দারিদ্রদশায় পতিত হয়ে জীবন চালাতে হবে আর যে এটাতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সে অর্থনৈতিকভাবে সুখী থাকবে । আজ ইয়াহুদীদের ১৩টি পরিবার সমগ্র বিশ্বের সকল অর্থব্যবস্থার নিয়ন্তা , সামান্য কয়েকটি মানুষ পুরো বিশ্বের ৮০-৮৫% সম্পদের মালিক , এই ব্যবধান দিনেদিনে আরও বাড়ছে আর বাড়ছে । ইয়াহুদী-নাসারাদের মহাপরিকল্পনার ফাঁদে আমরা – পশ্চিমা বিশ্বের নীলনকশার খেলা হচ্ছে তাদের ও তাদের পদলেহনকারী দেশগুলির প্রচলিত কাগুজে মুদ্রার মূল্যমান বৃদ্ধি করে বাকী বিশ্বে প্রচলিত মুদ্রার মূল্যমান নিম্ন থেকে নিম্নতর করে রাখা আর এই প্রক্রিয়ায় তাদের দাবার গুটি হচ্ছে IMF . আজ মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া সহ সিংহভাগ মুসলিম দেশগুলির মুদ্রার মানের দিকে তাকালেই সব বুঝে আসে , এগুলো কাকতালীয়ভাবে হয়নি , হয়েছে সুদীর্ঘ নীল নকশার সুপরিকল্পিত নাটকের অংশবিশেষ হিসেবে । সূরা নম্বরঃ ৫ আল-মায়িদাহ্ (খাদ্য পরিবেশিত টেবিল) আয়াত নম্বরঃ ৫১ – “হে মু'মিনগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না, তাহারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেহ তাহাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিলে সে তাহাদেরই একজন হইবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।” কয়েকদশক আগেও ইয়াহুদীদের সাথে খৃষ্টানদের সম্পর্ক ছিল বলতে গেলে সাপে-নেউলে আর এখন তারা শক্ত জোট বেঁধেছে আর এরাই UN বা জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এজেন্ডা চাপিয়ে দিচ্ছে গনমানুষের উপর , তাদের শাসনের যাতাকলের ভিতরে পিষ্ট করে রাখতে । বর্তমান সময়টা উপযোগী হয়ে উঠেছে তাদের মাসিহ বা দাজ্জালের আবির্ভাবের জন্য । যেসব মুসলিম দেশ কুরআন-হাদীসের পরিস্কার নমুনা-নিদর্শন দেখিয়ে দেয়ার পরও দাজ্জালকে এখনও চিনতে পারছে না বা যারা প্রকৃতপক্ষে নিরেট উদাসীন তারাই গাঁটছড়া বেঁধেছে এই ইয়াহুদী-নাসারা জোটের সাথে । এসব নামের মুসলিম দেশ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্-কে দারিদ্রতার শেষ সীমায় ঠেলে দিয়ে ইসরাঈলের পক্ষ নিয়ে সাধারণ মুসলিম আমজনতার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে । ইয়াহুদী-নাসারাদের জোট বাজার অর্থনীতির নামে মানুষকে ক্রীতদাসে পরিনত করেছে , তাদের তৈরী করা আইন দ্বারা শোষন করে নিচ্ছে সকলের শ্রম-মেধা । ১৯৩৩ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকা আইন পাশ করে এরকম - কোন নাগরিক কোনপ্রকার স্বর্ণমুদ্রা , স্বর্ণের বাট বা স্বর্ণমানপত্র আর সংগ্রহে রাখতে পারবে না । এভাবে আমেরিকা সরকার স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন রহিত করে দিয়ে ব্যবসা বানিজ্যে এর প্রচলন উঠিয়ে দেয় ফলে স্বর্ণমুদ্রা বিনিময়ের মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার স্থগিত হয়ে গেলো । সরকার প্রতি আউন্স স্বর্ণের বিপরীতে ২০ মার্কিন ডলার মূল্যমানের কাগুজে নোট জনগনের হাতে ধরিয়ে দেয় । এভাবে একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারও একই পদক্ষেপ গ্রহন করে । যখন জনগনের সকল স্বর্ণ ও স্বর্ণমুদ্রা কাগুজে নোটে পরিনত হলো তখন ১৯৩৪ সালের জানুয়ারী মাসে আমেরিকা সরকার মার্কিন ডলারের অবমূল্যায়ন করলো ৪১% আর সাথে সাথে তারা স্বর্ণ রাখার যে নিষেধাজ্ঞা কয়েকমাস আগে দিয়েছিল তা এখন উঠিয়ে নিলো !!! ফলশ্রুতিতে আমেরিকার জনগন ব্যাংকে ছুটলো স্বর্ণের বিপরীতে ইতোমধ্যে হাতে পাওয়া কাগুজে ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ মজুদ করতে কিন্তু ডলারের অবমূল্যায়ন হওয়াতে তাদেরকে এবার প্রতি আউন্স স্বর্ণ কিনতে হলো ৩৫ মার্কিন ডলারে , মানে তারা তাদের সম্পদের ৪১% খুইয়ে ফেললো এক নিমিষেই !! এটাই হলো শয়তানের বা দাজ্জালের দেখিয়ে দেয়া “আইনসিদ্ধ ডাকাতি” যা করা হয় সময়ে সময়ে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে । সূরা নম্বরঃ ৪ আন-নিসা (নারী) আয়াত নম্বরঃ ২৯ – “হে মু'মিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায় ভাবে গ্রাস করিও না; কিন্তু তোমাদের পরস্পরে রাজী হইয়া ব্যবসায় করা বৈধ; এবং একে অপরকে হত্যা করিও না; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।” সূরা নম্বরঃ ১১ হুদ (নাবী হুদ) আয়াত নম্বরঃ ৮৫ – “হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ন্যায় সঙ্গত ভাবে মাপিও ও ওজন করিও, লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়াইও না।” ইয়াহুদী-নাসারাদের শোষনযন্ত্রগুলি ১৯৩৩-৩৪ সালের ঘটনাটিকে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হিসেবে নিয়ে এর উপযোগীতা পরখ করে এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী মূল্যহীন কাগুজে নোটের মাধ্যমে তার প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে নিষ্পেষিত করে চলেছে নিরন্তর । নোটের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক গনমানুষ হয়ে পড়ে সর্বস্বান্ত আর গুটিকয়েক রাঘব-বোয়াল আরও ফুলেফেপে উঠে । আমেরিকার এই ধোঁকাবাজির খেলার আগে ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং অবমূল্যায়ন করা হয় ৩০% তার অব্যবহিত পরে তা ৪০%-এ নিয়ে যাওয়া হয় ১৯৩৪ সালের মধ্যেই । একই পদাংক অনুসরণ ক’রে ফ্রান্স তাদের কাগুজে মুদ্রা ফ্রাঙ্কের অবমূল্যায়ন ঘটায় ৩০% , ইটালীর লিরা হয় ৪১%, আর সুইস ফ্রাঙ্ক হয় ৩০% অবমূল্যায়িত । একই পথ অবলম্বন করে ইউরোপের বাকী দেশগুলো - গ্রীস অবমূল্যায়ন করে ৫৯% !!! মুদ্রার অবমূল্যায়নের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এসব দেশের কর্তাব্যক্তিরা বলেন – রপ্তানীকে উৎসাহ দিতে , আমদানী করা পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে কিন্তু আদত কথা হচ্ছে এরফলে দেশগুলি অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে , পণ্য ক্রয়ের আভ্যন্তরীন চাহিদা হ্রাস পেয়েছে , বেড়েছে বেকারত্বের হার , সারা বিশ্বে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক মন্দাভাব । ইয়াহুদী-নাসারাদের সুপরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেয়া মন্দাভাবকে কাটিয়ে উঠার জন্য (বাহ্যিকভাবে) এই জোট রাস্তা করে দিলো তাদের নীল নকশা অনুযায়ী তৈরী করা “বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা”-র শোষনযন্ত্রকে যেন ব্যবস্থাটি ত্রাণকর্তার ভূমিকায় সুনিপুন অভিনয় করতে পারে । এই জোটের খেলা দেখে মুসলিম বিশ্বের উচিৎ ছিল শান্তির ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেদের স্বার্থে কাজ শুরু করে দেয়া এবং কাগুজে বিনিময় ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসা কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য তাদের কানে পানি পৌঁছেনি । আমেরিকার Bretton Woods নামক স্থানে একটি সম্মেলনে আমেরিকা , কানাডা , অষ্ট্রেলিয়া , পশ্চিম ইউরোপ ও জাপানের মত ধনী দেশগুলির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১৯৪৪ সালে একটি অসৎ উদ্দেশ্য সাধনকল্পে গঠিত হয় একটি আর্থিক খাত বা অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রক সংস্থা , মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নিতে জাতিসংঘের ছাতার নীচে IMF নাম দিয়ে । যদি কাগুজে টাকার উপরে প্রদত্ত “মানুষের দেয়া” মূল্যমানের সমপরিমান বা এর খুব কাছাকাছি পরিমান সমমূলেরও ধাতব স্বর্ণ দেশে মজুত রাখার নিয়ম থাকতো তাহলে খুব বেশী সমস্যা হয়ত হতো না হয়ত কিন্তু মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য Bretton Woods সম্মেলন ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিয়ে ছাপানো নোটের ১% স্বর্ণের বাজার মূল্যের সমপরিমান স্বর্ণ ভল্টে/রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখার কথা বলে তাদের লজ্জা নিবারন করতে চেষ্টা করলো , মানুষের কাছে তাদের লজ্জার প্রকাশ ঢাকতে একটি দায়সারা যুক্তি/উত্তর ছুড়ে দিতে । কাগুজে নোট Redeemable বা খালাসযোগ্য নয় বা এর নিজের কোন ক্ষমতা নেই এর বাহককে পূর্ণ মূল্যে ক্ষতিপুরন দিতে অর্থাৎ উপরের দেশগুলি বা এদের কয়েকটি দোসর দেশ বাদে সকল দেশের নোট অবমূল্যায়িত হয়ে শোষক রাষ্ট্রগুলির হাতের পুতুলে পরিনত হলো , তারা সম্পদ লুট করে নেয়া শুরু করলো , মানুষ মানুষের শ্রম-দাসে পরিনত হলো কারণ অবমূল্যায়িত কাগুজে নোটের কোন অন্তর্নিহিত বা নিজস্ব মূল্য নেই । আমেরিকার Bretton Woods এ তৈরী করা নীতিতে একটি গাছের পাতা (হাস্যকর যুক্তি) দিয়ে তাদের লজ্জা নিবারন করতে চেয়েছিল অর্থাৎ খুবই হাস্যকর পরিমান স্বর্ণ কাগজের নোটের বিপরীতে জমা রাখার নিয়ম ক'রে কিন্তু তাদের লজ্জার আবরণ সেই গাছের পাতাটিও খসে পড়ে তাদের লজ্জাস্থান উন্মোচিত করে দিলো ১৯৭১ সালে যখন নোটের বিপরীতে সর্বনিম্ন কোন নির্দিষ্ট পরিমান স্বর্ণ জমা রাখার নীতি থেকেও তারা সরে আসলো । আশ্চর্যের বিষয় যে , এসময় উল্লেখযোগ্য কোন ইসলামিক পন্ডিতব্যক্তি কাফিরদের এই শোষনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহ্-কে জাগ্রত করার চেষ্টা করেনি । হয়ত তাদের চোখে ধাঁধা লেগে গিয়েছিল কচকচে ডলার নোটের উপরে নজর পড়ে , ফলে তারা কাগুজে নোটকে “হারাম” বলে ফাতওয়া দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন । IMF তার চুক্তিপত্রের Article 4 Section 2(b)-র মাধ্যমে নোটের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদের কোন বিধিনিষেধ রাখলো না , এই ধারা বলছে – “exchange agreements may include (i) the maintenance by a member of a value for its currency in terms of the special drawing right or another denominator , OTHER THAN GOLD , selected by the member or (ii) cooperative arrangements by which members maintain the value of their currencies in relation to the value of the currency or currencies of other members or (iii) other exchange arrangements of a member’s choice.” এই নিবর্তন ও পরিহাসমূলক IMF-র Article 4 Section 2(b)-র সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও সেটির বাতিলের জন্য Treasury ও Federal Reserve Bank-এ আবেদন করেছিলেন আমেরিকার তৎকালীন কংগ্রেসম্যান জনাব Ron Paul সেই ২০০২ সালে কিন্তু আজ পর্যন্ত তার আবেদনের কোন জবাব IMF দিতে পারেনি । Treasury ও Federal Reserve Bank কোন উত্তর দেয়নি কারণ তাদের কাছে কোন উত্তর নেই । ইয়াহুদী-খৃষ্টান গং জাতিসংঘের IMF-র মাধ্যমে তাদের শোষনের থাবা ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী , মানুষ হয়েছে হতদরিদ্র , সেবাদাস । যদি মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া একটি দ্রব্য প্রতিবেশী মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানী করে তারপরেও মূল্য পরিশোধ করতে হবে মার্কিন ডলারে , তার মানে ডলারের চাহিদা ও মূল্যমান বাড়তেই থাকবে আর ক্রমান্বয়ে অবমূল্যায়িত হতে থাকবে বাকী দেশগুলির নোট বা কাগুজে মুদ্রা । শোষক দেশগুলি ডলার-পাউন্ড-ইউরো ছাপাচ্ছে আর শোষন করে নিচ্ছে বাকী দুনিয়ার খনিজ-জীবাশ্ম সম্পদ সহ মানুষের শ্রম ও মেধা । গুটিকয়েক শোষকের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে পুরো দুনিয়ার তাবৎ নিপীড়িত জনসাধারণ । এই ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে যায়নি বরং হয়েছে দীর্ঘকালের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে । আধুনিক (!!??) অর্থ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ডাকাতির নাম Fractional-Reserve-Banking System যার মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহককে সুদের পরিশোধযোগ্য হার ধার্য করে অর্থ ধার দেয় কিন্তু সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তার অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত/জমা রাখে (CRR-Cash Reserve Ratio) নগন্য পরিমানে , এটা একটি ”আইনসিদ্ধ” চুরি-ডাকাতি বৈ আর কিছুই নয় । আমি মনে করি ইসলামিক মুফতি সাহেবগনের এসব ব্যাপারে কোন জ্ঞানই নেই , এই রচনায় আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার যে ফাঁকির কথা বলা হলো সে ব্যাপারেও তাদের কোন জ্ঞান নেই । শীঘ্রই বর্তমানে প্রচলিত কাগুজে নোট “ইলেকট্রনিক মুদ্রা” দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে শোষকদের দ্বারা এবং মনে হয় মুফতি সাহেবগন তখনও এই ইলেকট্রনিক মুদ্রাকেও “হালাল” বলে ফাতওয়া দিবেন !!! অথচ IMF-র যাতাকলে পিষ্ট হয়ে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ্ দারিদ্রতায় পতিত হচ্ছে। সেদিকে মুফতি সাহেবদের দৃষ্টি নেই, উনারা শুধু নিজের পেট পূজায় ব্যস্ত। আ এ থেকেই প্রতীয়মাণ হয় এদের কাছ থেকে বর্তমানে চলমান ফিতনা সম্পর্কে উম্মাহর বেশি কিছু আশা করাটাই বোকামী। . আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।
1
0 Comments 0 Shares
Post