Sunni and Sufi🥰. I am human, my job is just to fall in love
Social Links
Recent Updates
  • Alhamdulillah
    Alhamdulillah
    7
    1 Comments 0 Shares
  • নিজ ঘরের সদস্যদেরকে প্রশ্ন করুন আহলে বায়ত,পাক পাঞ্জাতন কারা? ৯০% জেনারেল শিক্ষত বলতে পারবে না! অথচ আল্লাহ তা'আলা আহলে বায়তের ভালাবাসা ঈমানদারদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন।
    নিজ ঘরের সদস্যদেরকে প্রশ্ন করুন আহলে বায়ত,পাক পাঞ্জাতন কারা? ৯০% জেনারেল শিক্ষত বলতে পারবে না! অথচ আল্লাহ তা'আলা আহলে বায়তের ভালাবাসা ঈমানদারদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন।
    2
    0 Comments 0 Shares
  • শিয়া রাফেজি কারা? এই সংজ্ঞাটা কী আমরা জানি? কোথা থেকে এসেছে এই রাফেজিয়াত? শিয়া রাফেজি হচ্ছে তারা, যারা প্রথম তিন খুলাফায়ে রাশেদ হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. হজরত ওমর ফারুক রা. হজরত ওসমান জুন্নুরাইন রা. এঁর খেলাফাতকে অবৈধ মনে করে অস্বীকার করে। যারা বিশ্বাস করে মাওলা আলি আ. এবং তাঁর ছোট সাহেবজাদা ইমাম হোসাইন আ. রা. এঁর রক্তধারা ছাড়া এর বাহিরে আর কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ইমাম হতে পারবে না। রাফেজি হচ্ছে তারা, যারা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবা হজরত জুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা., হজরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. সহ অসংখ্য অগুনিত সাহাবাকে যা ইচ্ছা তা গালাগালি করে, লানত দেয়। শিয়া রাফেজি হচ্ছে তারা যারা উম্মুল মুমিনিন সায়্যিদাহ আয়েশা বিনতে আবি বকর সিদ্দিকা রা., সায়্যিদাহ হাফসা বিনতে ওমর রা. কে গালাগালি করে, লানত দেয়। এক কথায়, অল্প কজন সাহাবা বাদে বেশিরভাগ সাহাবায়ে কেরাম মুরতাদ হয়ে গেছেন বলে যারা বিশ্বাস করে তারা হচ্ছে শিয়া রাফেজি, বেশিরভাগ সাহাবায়ে কেরামকে তারা মুনাফিক মনে করে মাওলা আলি আ. কে প্রথম খলিফা না বানানোর কারণে। মায়া'জাল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম।
    এখন আমরা যারা কোন একজন সাহাবিকেও গালাগাল দেব, মায়াজাল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ, দূরের কথা, লানত করব মায়াজাল্লাহ দূরের কথা, আমরা যারা সারাদিন খুলাফায়ে রাশিদিনসহ অন্যান্য জলিল কদর সাহাবায়ে কেরামের শান মান মর্যাদা বর্ণনা করি, খুলাফায়ে রাশিদিনের খেলাফাতকে ১০০% বৈধ মনে করি এবং সেসবের পক্ষে দলিল দিই, হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. কে শ্রেষ্ঠ সাহাবি মানি, উম্মাহাতুল মুমিনিনগণের শান মান মর্যাদা বর্ণনা করি, অন্যান্য জলিল কদর সাহাবায়ে কেরামের শান মান মর্যাদা সম্পর্কে লেখালেখি করি, আলোচনা করি, আমাদেরকেও শিয়া রাফেজি হওয়ার অপবাদ দেয়া হচ্ছে। এমনকি আমরা তো যেই সাহাবিকে নিয়ে সবচাইতে বেশি বিতর্ক সেই আমির মুয়াবিয়া রা. এঁর ভুলগুলোকেও ইজতিহাদি ভুল বলছি, তাঁর সম্পর্কেও বাজে মন্তব্য কিংবা লানত গালাগালি কিছুই করি না৷ সাহাবি মেনে জবান বন্ধ রাখি উনার ব্যাপারেও৷
    তাহলে আমাদের অপরাধ কী? সেই পুরাতন নাসেবী রোগ! আহলে বায়তের শান মান মর্যাদা এত কেন বলেন? আহলে বায়ত সম্পর্কে কেন সমাজের মানুষ এত জানবে? কারবালার সত্যতা কেন সমাজে প্রচার করছেন?
    আচ্ছা, ওমাইয়া আব্বাসিয়রা না হয় তাদের রাজত্বের জন্য ভীত ছিল এই কারণে যে, আহলে বায়তের আলোচনা শান মান প্রচার বেশি হলে, আহলে বায়তের প্রেম মানুষের অন্তরে জাগ্রত হলে আমাদের জুলুমের উপরে গড়া অবৈধ তখত হয়ত উল্টে দেবে মানুষ। কিন্তু আপনারা ভীত কেন? কী নিয়ে?
    আপনাদের অপপ্রচার মিথ্যা প্রপাগান্ডতে এই জবান ইন শা আল্লাহ বন্ধ হবে না৷ কাল কেয়ামত পর্যন্ত আহলে বায়ত, পাক পাঞ্জাতন প্রেমিকেরা আহলে বায়তের শান- মান মর্যাদা ও ভালোবাসার পতাকাকে বুলন্দ করেই যাবে ইন শা আল্লাহ৷ কারণ মুমিন ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে মাওলা আলির আ. ভালোবাসা, তা আমরা জেনে গেছি৷ "মুমিন ছাড়া আলিকে কেউ ভালোবাসবে না, আর মুনাফিক ছাড়া আলিকে কেউ হিংসা করবে না" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৩, আল হাদিস এন্ড্রয়েড এপ্স) কাজেই ইমান ও নেফাকের মানদন্ড মাওলা আলি আ. আমরা তা জেনে গেছি। অন্য কোন নতুন আপনাদের বানোয়াট মানদণ্ড আমাদেরকে গেলাতে পারবেন না। আমরা প্রিয়নবী ﷺর শেখানো ইমানী মানদন্ড নিয়েই মরব ইন শা আল্লাহ।
    আর শেষ করছি, উপরোল্লিখিত শিয়া রাফেজি অপবাদপ্রাপ্ত ইমাম হাকিম নিশাপুরী রাহ. এঁর হাদিসের কিতাব মুসতাদরাক আলাস সাহিহাইনের একখানা হাদিসের মাধ্যমেঃ
    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, প্রিয়নবী ﷺ বলেন,
    فلو أن رجلا صفن بين الركن و المقام فصلى و صام ثم لقي الله و هو مبغض لأهل بيت محمد دخل النار
    هذا حديث حسن صحيح على شرط مسلم و لم يخرجاه
    تعليق الذهبي قي التلخيص : على شرط مسلم
    "যদি কোন ব্যক্তি কাবার রুকনে ইয়ামানি ও মাকামে ইবরাহীমির মাঝে নামাজরত, রোজা ও ইতিকাফ অবস্থায়ও মারা যায়, আর তার মাঝে মুহাম্মদﷺর আহলে বায়তের প্রতি হিংসা থাকে তবে সে জাহান্নামে যাবে।" (হাদিস নং ৪৭১২) শায়খ ইবেন তাইমিয়ার ছাত্র ইমাম জাহাবি রাহ. তার তালখিসে বলেন, এই হাদিস ইমাম মুসলিম রাহ. এঁর শর্তানুসারে সহিহ।
    কৃতঃ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী
    শিয়া রাফেজি কারা? এই সংজ্ঞাটা কী আমরা জানি? কোথা থেকে এসেছে এই রাফেজিয়াত? শিয়া রাফেজি হচ্ছে তারা, যারা প্রথম তিন খুলাফায়ে রাশেদ হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. হজরত ওমর ফারুক রা. হজরত ওসমান জুন্নুরাইন রা. এঁর খেলাফাতকে অবৈধ মনে করে অস্বীকার করে। যারা বিশ্বাস করে মাওলা আলি আ. এবং তাঁর ছোট সাহেবজাদা ইমাম হোসাইন আ. রা. এঁর রক্তধারা ছাড়া এর বাহিরে আর কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ইমাম হতে পারবে না। রাফেজি হচ্ছে তারা, যারা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবা হজরত জুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা., হজরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. সহ অসংখ্য অগুনিত সাহাবাকে যা ইচ্ছা তা গালাগালি করে, লানত দেয়। শিয়া রাফেজি হচ্ছে তারা যারা উম্মুল মুমিনিন সায়্যিদাহ আয়েশা বিনতে আবি বকর সিদ্দিকা রা., সায়্যিদাহ হাফসা বিনতে ওমর রা. কে গালাগালি করে, লানত দেয়। এক কথায়, অল্প কজন সাহাবা বাদে বেশিরভাগ সাহাবায়ে কেরাম মুরতাদ হয়ে গেছেন বলে যারা বিশ্বাস করে তারা হচ্ছে শিয়া রাফেজি, বেশিরভাগ সাহাবায়ে কেরামকে তারা মুনাফিক মনে করে মাওলা আলি আ. কে প্রথম খলিফা না বানানোর কারণে। মায়া'জাল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম। এখন আমরা যারা কোন একজন সাহাবিকেও গালাগাল দেব, মায়াজাল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ, দূরের কথা, লানত করব মায়াজাল্লাহ দূরের কথা, আমরা যারা সারাদিন খুলাফায়ে রাশিদিনসহ অন্যান্য জলিল কদর সাহাবায়ে কেরামের শান মান মর্যাদা বর্ণনা করি, খুলাফায়ে রাশিদিনের খেলাফাতকে ১০০% বৈধ মনে করি এবং সেসবের পক্ষে দলিল দিই, হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. কে শ্রেষ্ঠ সাহাবি মানি, উম্মাহাতুল মুমিনিনগণের শান মান মর্যাদা বর্ণনা করি, অন্যান্য জলিল কদর সাহাবায়ে কেরামের শান মান মর্যাদা সম্পর্কে লেখালেখি করি, আলোচনা করি, আমাদেরকেও শিয়া রাফেজি হওয়ার অপবাদ দেয়া হচ্ছে। এমনকি আমরা তো যেই সাহাবিকে নিয়ে সবচাইতে বেশি বিতর্ক সেই আমির মুয়াবিয়া রা. এঁর ভুলগুলোকেও ইজতিহাদি ভুল বলছি, তাঁর সম্পর্কেও বাজে মন্তব্য কিংবা লানত গালাগালি কিছুই করি না৷ সাহাবি মেনে জবান বন্ধ রাখি উনার ব্যাপারেও৷ তাহলে আমাদের অপরাধ কী? সেই পুরাতন নাসেবী রোগ! আহলে বায়তের শান মান মর্যাদা এত কেন বলেন? আহলে বায়ত সম্পর্কে কেন সমাজের মানুষ এত জানবে? কারবালার সত্যতা কেন সমাজে প্রচার করছেন? আচ্ছা, ওমাইয়া আব্বাসিয়রা না হয় তাদের রাজত্বের জন্য ভীত ছিল এই কারণে যে, আহলে বায়তের আলোচনা শান মান প্রচার বেশি হলে, আহলে বায়তের প্রেম মানুষের অন্তরে জাগ্রত হলে আমাদের জুলুমের উপরে গড়া অবৈধ তখত হয়ত উল্টে দেবে মানুষ। কিন্তু আপনারা ভীত কেন? কী নিয়ে? আপনাদের অপপ্রচার মিথ্যা প্রপাগান্ডতে এই জবান ইন শা আল্লাহ বন্ধ হবে না৷ কাল কেয়ামত পর্যন্ত আহলে বায়ত, পাক পাঞ্জাতন প্রেমিকেরা আহলে বায়তের শান- মান মর্যাদা ও ভালোবাসার পতাকাকে বুলন্দ করেই যাবে ইন শা আল্লাহ৷ কারণ মুমিন ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে মাওলা আলির আ. ভালোবাসা, তা আমরা জেনে গেছি৷ "মুমিন ছাড়া আলিকে কেউ ভালোবাসবে না, আর মুনাফিক ছাড়া আলিকে কেউ হিংসা করবে না" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৩, আল হাদিস এন্ড্রয়েড এপ্স) কাজেই ইমান ও নেফাকের মানদন্ড মাওলা আলি আ. আমরা তা জেনে গেছি। অন্য কোন নতুন আপনাদের বানোয়াট মানদণ্ড আমাদেরকে গেলাতে পারবেন না। আমরা প্রিয়নবী ﷺর শেখানো ইমানী মানদন্ড নিয়েই মরব ইন শা আল্লাহ। আর শেষ করছি, উপরোল্লিখিত শিয়া রাফেজি অপবাদপ্রাপ্ত ইমাম হাকিম নিশাপুরী রাহ. এঁর হাদিসের কিতাব মুসতাদরাক আলাস সাহিহাইনের একখানা হাদিসের মাধ্যমেঃ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, প্রিয়নবী ﷺ বলেন, فلو أن رجلا صفن بين الركن و المقام فصلى و صام ثم لقي الله و هو مبغض لأهل بيت محمد دخل النار هذا حديث حسن صحيح على شرط مسلم و لم يخرجاه تعليق الذهبي قي التلخيص : على شرط مسلم "যদি কোন ব্যক্তি কাবার রুকনে ইয়ামানি ও মাকামে ইবরাহীমির মাঝে নামাজরত, রোজা ও ইতিকাফ অবস্থায়ও মারা যায়, আর তার মাঝে মুহাম্মদﷺর আহলে বায়তের প্রতি হিংসা থাকে তবে সে জাহান্নামে যাবে।" (হাদিস নং ৪৭১২) শায়খ ইবেন তাইমিয়ার ছাত্র ইমাম জাহাবি রাহ. তার তালখিসে বলেন, এই হাদিস ইমাম মুসলিম রাহ. এঁর শর্তানুসারে সহিহ। কৃতঃ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী
    3
    0 Comments 0 Shares
  • ইমাম নববী রহঃ বলেন,
    ছয়টি কারণে 'গীবত' শরীয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ নয়। কারণ তখন আর কারণগুলো 'গীবত' থাকেনা।
    ➤প্রথমত, মজলুম যদি জালিম শাসক, বিচারক প্রমুখের বিরুদ্ধে অন্যদের সতর্ক করতে এটা বলে যে অমুক লোক আমার সাথে বে-ইনসাফি করেছে অথবা আমার উপর জুলুম করেছে,তবে তা গীবত হিসেবে গণ্য হবেনা।
    ➤দ্বিতীয়ত, মানুষকে খারাপ পথের প্রতি ধাবিত হওয়া থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে, গুনাহগার ব্যক্তিকে গুনাহ থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে, "প্রকাশ্যে অমুক লোক এমন এমন কাজ করে, এমন এমন বলে" — মর্মে নিন্দা করা বৈধ।
    ➤তৃতীয়ত, মামলা আরোপ করতে বা কাযীর কাছে বিচার নিতে অথবা মুফতির কাছ থেকে ফতোয়া নিতে কারো অবস্থা বর্ণনা করা বৈধ। যেমনঃ আমার সাথে অমুক ব্যক্তি এরূপ করেছে জুলুম করেছে ইত্যাদি বলা বৈধ।
    ➤চতুর্থত, শরীয়তের সীমারেখা উল্লঙ্ঘন করে, বিদআত (ধর্মে নতুনত্ব যা কুরআন হাদীস ও ইজমার বিরোধী) প্রচলনকারী, যার বক্তব্যের/লেখনীর দ্বারা মানুষের ঈমান-আক্বিদায় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে, গুজব রটনাকারী প্রমুখ হয়, তবে সে ব্যক্তির ব্যাপারে মানুষকে অবহিত করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
    ➤পঞ্চমত, প্রকাশ্যে গোনাহকারী যেমন প্রকাশ্যে শরাব পানকারী, দুর্নীতিবাজ প্রভৃতি লোকের ব্যাপারে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে মানুষকে অবহিত করার বৈধতা আছে।
    ➤সর্বশেষ, ছদ্মনাম ব্যবহার করে সমাজের ক্ষতির চেষ্টা যারা করে তাদের যথার্থতা এবং বাস্তবিক স্বরূপ জনসমক্ষে তুলে ধরাতে শরীয়তে বৈধতা আছে।
    [শরহে মুসলিম, ৪৫তম অধ্যায়, বাব তাহরীমিল গীবাত]
    ইমাম নববী রহঃ বলেন, ছয়টি কারণে 'গীবত' শরীয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ নয়। কারণ তখন আর কারণগুলো 'গীবত' থাকেনা। ➤প্রথমত, মজলুম যদি জালিম শাসক, বিচারক প্রমুখের বিরুদ্ধে অন্যদের সতর্ক করতে এটা বলে যে অমুক লোক আমার সাথে বে-ইনসাফি করেছে অথবা আমার উপর জুলুম করেছে,তবে তা গীবত হিসেবে গণ্য হবেনা। ➤দ্বিতীয়ত, মানুষকে খারাপ পথের প্রতি ধাবিত হওয়া থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে, গুনাহগার ব্যক্তিকে গুনাহ থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে, "প্রকাশ্যে অমুক লোক এমন এমন কাজ করে, এমন এমন বলে" — মর্মে নিন্দা করা বৈধ। ➤তৃতীয়ত, মামলা আরোপ করতে বা কাযীর কাছে বিচার নিতে অথবা মুফতির কাছ থেকে ফতোয়া নিতে কারো অবস্থা বর্ণনা করা বৈধ। যেমনঃ আমার সাথে অমুক ব্যক্তি এরূপ করেছে জুলুম করেছে ইত্যাদি বলা বৈধ। ➤চতুর্থত, শরীয়তের সীমারেখা উল্লঙ্ঘন করে, বিদআত (ধর্মে নতুনত্ব যা কুরআন হাদীস ও ইজমার বিরোধী) প্রচলনকারী, যার বক্তব্যের/লেখনীর দ্বারা মানুষের ঈমান-আক্বিদায় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে, গুজব রটনাকারী প্রমুখ হয়, তবে সে ব্যক্তির ব্যাপারে মানুষকে অবহিত করাতে কোনো অসুবিধা নেই। ➤পঞ্চমত, প্রকাশ্যে গোনাহকারী যেমন প্রকাশ্যে শরাব পানকারী, দুর্নীতিবাজ প্রভৃতি লোকের ব্যাপারে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে মানুষকে অবহিত করার বৈধতা আছে। ➤সর্বশেষ, ছদ্মনাম ব্যবহার করে সমাজের ক্ষতির চেষ্টা যারা করে তাদের যথার্থতা এবং বাস্তবিক স্বরূপ জনসমক্ষে তুলে ধরাতে শরীয়তে বৈধতা আছে। [শরহে মুসলিম, ৪৫তম অধ্যায়, বাব তাহরীমিল গীবাত]
    2
    0 Comments 0 Shares
  • তারা তো দেখছি আসলেই মাজারপুজারী😆😆🤗🤗
    মোজাফফর বিন মহসিন ঠিকই বলেছেন🙄🙄🙄
    তারা তো দেখছি আসলেই মাজারপুজারী😆😆🤗🤗 মোজাফফর বিন মহসিন ঠিকই বলেছেন🙄🙄🙄 (< (<
    6
    0 Comments 0 Shares
  • বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, "সে সেরা। আমি তার কাছে কিছুই না।"
    "সায়েন্স ওয়ার্ল্ড" নামে একটি বিজ্ঞান ম্যাগাজিন ২০০৭ সালে জামাল নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ফিচার ছাপিয়েছিল। বাংলাদেশের কোনো ম্যাগাজিনে উনাকে নিয়ে লেখা এটিই ছিলো প্রথম ও শেষ ফিচার।
    "কৃষ্ণবিবর" নামে উনার একটি বই আছে যেটা বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর ।
    শুধু এটাই নয়, "কৃষ্ণবিবর" "দ্য আল্টিমেট ফেইট অব ইউভার্স" "রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি" বইগুলো অক্সফোর্ড কেমব্রিজ আর হার্ভার্ড এর মত বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও ১০০ টারও বেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পড়ানো হয়।
    কিন্তু যে দেশে তিনি জন্মেছিলেন, সেই বাংলাদেশের কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বই থেকে কোন লেকচার দেয়া হয় বলে আমার জানা নেই...
    ২০০১ সালে যখন পৃথিবী ধ্বংস হবার একটা গুজব উঠেছিল তখন জামাল নজরুল ইসলাম অংক কষে বলেছিলেন পৃথিবী তার কক্ষপথ থেকে ছুটে চলে যাবার কোনো সম্ভাবনা নেই।
    স্টিফেন হকিং কে চিনে না এমন মানুষ খুব কম আছে। উনার লেখা "আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম" বইটি এক কোটি কপিরও বেশী বিক্রি হয়েছে সারাবিশ্বে । সে বইটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে।
    কিন্তু এই বইটি প্রকাশের প্রায় ৫ বছর আগেই ১৯৮৩ সালে জামাল নজরুল ইসলাম "দ্যা আল্টিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভার্স" বইটি লিখেছিলেন। দুটো বই-ই প্রায় একই সব টপিকের উপর লিখা। ব্লাকহোল, ওয়ার্ম হোল, সুপারনোভা, কসমিক রেডিয়েশন, প্যারালাল ইউনিভার্স, বাটারফ্লাই ইফেক্ট ইত্যাদি সব জোতিপদার্থর্বিজ্ঞানীয় ব্যাপারগুলোই ঘুরেফিরে দুটো বইতেই উঠে এসেছে। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে জামাল নজরুল ইসলামের বইটিকেই বিশ্বখ্যাত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগন অধিক মূল্যায়ন করেছেন, যেটি প্রকাশিত হয়েছিল হকিং এর বইয়েরও প্রায় ৫ বছর পূর্বে।
    অথচ হকিং এর বই নিয়ে যতটা না মাতামাতি সারাবিশ্বে হয়েছে, তার ছিঁটেফোঁটাও হয়নি জামাল নজরুল ইসলামের কোন বই নিয়ে.. কেনো? পরে বলছি।
    বলা হয়ে থাকে, বিশ্বের ৭ জন শ্রেষ্ট বিজ্ঞানীর নাম বলতে গেলে সে তালিকায় নাকি জামাল নজরুলের নামও চলে আসবে।
    বিশ্বের বুকে বাংলার গর্ব জামাল নজরুল ইসলাম
    .
    ১৯৮১ সালে লন্ডনের লাখ টাকা বেতনের চাকরি এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে মাত্র ৩ হাজার (২৮ শত) টাকা বেতনের চাকরি নিয়ে তিনি চলে আসেন মাতৃভূমি বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বিজ্ঞান শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। তাই সব সুযোগ সুবিধা ছেড়ে দেশে চলে এসেছিলেন।
    সংগৃহীত: মহাকাশের যত কথা


    বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, "সে সেরা। আমি তার কাছে কিছুই না।" "সায়েন্স ওয়ার্ল্ড" নামে একটি বিজ্ঞান ম্যাগাজিন ২০০৭ সালে জামাল নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ফিচার ছাপিয়েছিল। বাংলাদেশের কোনো ম্যাগাজিনে উনাকে নিয়ে লেখা এটিই ছিলো প্রথম ও শেষ ফিচার। "কৃষ্ণবিবর" নামে উনার একটি বই আছে যেটা বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর । শুধু এটাই নয়, "কৃষ্ণবিবর" "দ্য আল্টিমেট ফেইট অব ইউভার্স" "রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি" বইগুলো অক্সফোর্ড কেমব্রিজ আর হার্ভার্ড এর মত বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও ১০০ টারও বেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পড়ানো হয়। কিন্তু যে দেশে তিনি জন্মেছিলেন, সেই বাংলাদেশের কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বই থেকে কোন লেকচার দেয়া হয় বলে আমার জানা নেই... ২০০১ সালে যখন পৃথিবী ধ্বংস হবার একটা গুজব উঠেছিল তখন জামাল নজরুল ইসলাম অংক কষে বলেছিলেন পৃথিবী তার কক্ষপথ থেকে ছুটে চলে যাবার কোনো সম্ভাবনা নেই। স্টিফেন হকিং কে চিনে না এমন মানুষ খুব কম আছে। উনার লেখা "আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম" বইটি এক কোটি কপিরও বেশী বিক্রি হয়েছে সারাবিশ্বে । সে বইটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। কিন্তু এই বইটি প্রকাশের প্রায় ৫ বছর আগেই ১৯৮৩ সালে জামাল নজরুল ইসলাম "দ্যা আল্টিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভার্স" বইটি লিখেছিলেন। দুটো বই-ই প্রায় একই সব টপিকের উপর লিখা। ব্লাকহোল, ওয়ার্ম হোল, সুপারনোভা, কসমিক রেডিয়েশন, প্যারালাল ইউনিভার্স, বাটারফ্লাই ইফেক্ট ইত্যাদি সব জোতিপদার্থর্বিজ্ঞানীয় ব্যাপারগুলোই ঘুরেফিরে দুটো বইতেই উঠে এসেছে। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে জামাল নজরুল ইসলামের বইটিকেই বিশ্বখ্যাত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগন অধিক মূল্যায়ন করেছেন, যেটি প্রকাশিত হয়েছিল হকিং এর বইয়েরও প্রায় ৫ বছর পূর্বে। অথচ হকিং এর বই নিয়ে যতটা না মাতামাতি সারাবিশ্বে হয়েছে, তার ছিঁটেফোঁটাও হয়নি জামাল নজরুল ইসলামের কোন বই নিয়ে.. কেনো? পরে বলছি। বলা হয়ে থাকে, বিশ্বের ৭ জন শ্রেষ্ট বিজ্ঞানীর নাম বলতে গেলে সে তালিকায় নাকি জামাল নজরুলের নামও চলে আসবে। বিশ্বের বুকে বাংলার গর্ব জামাল নজরুল ইসলাম . ১৯৮১ সালে লন্ডনের লাখ টাকা বেতনের চাকরি এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে মাত্র ৩ হাজার (২৮ শত) টাকা বেতনের চাকরি নিয়ে তিনি চলে আসেন মাতৃভূমি বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বিজ্ঞান শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। তাই সব সুযোগ সুবিধা ছেড়ে দেশে চলে এসেছিলেন। সংগৃহীত: মহাকাশের যত কথা
    3
    0 Comments 0 Shares
  • রাসূলুল্লাহ-(ﷺ) বলেছেন- রমজানের রোজার পর মোহাররাম মাসের রোজা আল্লাহ পাকের কাছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়। [মুসলিম-১৯৮২]
    রাসূলুল্লাহ-(ﷺ) বলেছেন- রমজানের রোজার পর মোহাররাম মাসের রোজা আল্লাহ পাকের কাছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়। [মুসলিম-১৯৮২]
    4
    0 Comments 0 Shares
  • ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের হাদিসের ওস্তাদ এবং তাঁদের ওস্তাদের ওস্তাদের হাদিসের কিতাব আমরা চিনি কী?
    ----------------------------------------------
    আমাদের দেশে সাধারণ মানুষকে এমনভাবে ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে যে, তারা এখন বিশ্বাস করে বুখারি ও মুসলিম অথবা সর্বোচ্চ সিহাহ সিত্তার ৬ হাদিসের কিতাবের বাহিরে আর কোন হাদিসের কিতাব নেই। থাকলেও সেগুলোর হাদিসের কোন ভ্যালু নেই। ওসব কিতাবের কোন মূল্য নেই৷ কেন বলছি এই কথা? কারণ, এই ৬ কিতাবের বাহিরে অন্য কোন কিতাব থেকে সহিহ কিংবা হাসান সনদের হাদিস দিলেই আজ আমাদের শিক্ষিত সমাজ তাচ্ছিল্য করে। "এটা কোন কিতাব আবার" বলে ভ্রু কুঁচকায়। আহলে হাদিস সালাফিরা সফল তাদের প্রপাগান্ডাতে৷ অথচ জ্ঞানের জগতের মানুষেরা জানেন যে, "কোন কিতাবে হাদিস আসল এটা কোন বিষয়ই না, বরং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাভীগণ গ্রহণযোগ্য কীনা এটা হচ্ছে মূল বিষয়। এর ভিত্তিতেই সাধারণত কোন একটি হাদিস গ্রহণ করা হয় অথবা বর্জন করা হয়।"
    এমনকি ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদের মত হাদিসের ইমামগণকে যারা গড়ে তুলেছেন, যাদের পায়ের কাছে বসে এই ইমামগণ হাদিস সংগ্রহ করতেন, হাদিসের দরস নিতেন, সেই ইমামগণের সংকলিত হাদিসের কিতাবকেও আজ সাধারণ মানুষ তাচ্ছিল্য করে। তেমনি তিনখানা কিতাব হচ্ছেঃ
    ১। মুসনাদ আহমদ ইবনে হাম্বলঃ যা ইমাম বুখারির সরাসরি শায়খ হাম্বলি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. কর্তৃক সংকলিত৷ এই হাদিস ও আসারের (সাহাবায়ে কেরামের কওল) কিতাবে ৩০ হাজারের উপর হাদিস সংগৃহীত আছে৷ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. এঁর লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদ মতন সহ মুখস্থ ছিল৷ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বলে হত তাঁকে।
    ২। মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহঃ ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. যিনি ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, ইমাম ইবনে মাজাহর সরাসরি ওস্তাদ ছিলেন হাদিসের ক্ষেত্রে, তার সংকলিত হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের কওলের সবচাইতে বড় সংগ্রহ এই মুসান্নাফ। ৩৭ হাজারের বেশি হাদিস ও আসার আছে এই কিতাবে। ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. থেকে সহিহ বুখারিতে ইমাম বুখারী ৩০ টির বেশি হাদিস বর্নণা করেছেন। মুসলিমে ইমাম মুসলিম রাহ. ৩০০ এর বেশি হাদিস এনেছেন। অনুরুপ ৬ কিতাবের বাকি ৪ কিতাবেও অসংখ্য হাদিস এসেছে ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. হতে। যার লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদ মতনসহ মুখস্থ ছিল৷ ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. কেও আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বলা হয়।
    ৩। মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকঃ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হামমাম আস সানয়া'নি রাহ. তিনি ইমাম বুখারির দাদা ওস্তাদ, তার সংকলিত হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের কওলের অনেক বড় সংগ্রহ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রাহ. এর ছাত্র ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ ও শিক্ষালাভ করেছেন ইমাম বুখারী রাহ.!
    অথচ আজ এরক বড় ইমামগণের কিতাবের রেফারেন্স দিলে একদল অজ্ঞ মূর্খরা মুখ টিপে হাসে, কিংবা টিটকিরি দেয়। তাচ্ছিল্য করে। এগুলো সম্পূর্ণ জাহালত৷ অজ্ঞতা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
    এছাড়াও হাদিসের আরো বহু কিতাব আছে। মুয়াত্তা ইমাম মালিক, সহিহ ইবনে হিব্বান, সহিহ ইবনে খুজাইমাহ, তাবরানী, সুনানুদ দারেমি, দারা কুতনি, মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, সুনানুল কুবরা বাইহাকি, মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে হুমাইদি, মুসনাদ আবি ইয়া'লা, মুসনাদ আবু দাউদ তাইয়ালিসি ইত্যাদি ইত্যাদি।
    মোটকথাঃ"কোন কিতাবে হাদিস আসল এটা কোন বিষয়ই না, বরং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাভীগণ গ্রহণযোগ্য কীনা এটা হচ্ছে মূল বিষয়। এর ভিত্তিতেই সাধারণত কোন একটি হাদিস গ্রহণ করা হয় অথবা বর্জন করা হয়।"

    Syed Gulam Kibria Azhari
    ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের হাদিসের ওস্তাদ এবং তাঁদের ওস্তাদের ওস্তাদের হাদিসের কিতাব আমরা চিনি কী? ---------------------------------------------- আমাদের দেশে সাধারণ মানুষকে এমনভাবে ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে যে, তারা এখন বিশ্বাস করে বুখারি ও মুসলিম অথবা সর্বোচ্চ সিহাহ সিত্তার ৬ হাদিসের কিতাবের বাহিরে আর কোন হাদিসের কিতাব নেই। থাকলেও সেগুলোর হাদিসের কোন ভ্যালু নেই। ওসব কিতাবের কোন মূল্য নেই৷ কেন বলছি এই কথা? কারণ, এই ৬ কিতাবের বাহিরে অন্য কোন কিতাব থেকে সহিহ কিংবা হাসান সনদের হাদিস দিলেই আজ আমাদের শিক্ষিত সমাজ তাচ্ছিল্য করে। "এটা কোন কিতাব আবার" বলে ভ্রু কুঁচকায়। আহলে হাদিস সালাফিরা সফল তাদের প্রপাগান্ডাতে৷ অথচ জ্ঞানের জগতের মানুষেরা জানেন যে, "কোন কিতাবে হাদিস আসল এটা কোন বিষয়ই না, বরং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাভীগণ গ্রহণযোগ্য কীনা এটা হচ্ছে মূল বিষয়। এর ভিত্তিতেই সাধারণত কোন একটি হাদিস গ্রহণ করা হয় অথবা বর্জন করা হয়।" এমনকি ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদের মত হাদিসের ইমামগণকে যারা গড়ে তুলেছেন, যাদের পায়ের কাছে বসে এই ইমামগণ হাদিস সংগ্রহ করতেন, হাদিসের দরস নিতেন, সেই ইমামগণের সংকলিত হাদিসের কিতাবকেও আজ সাধারণ মানুষ তাচ্ছিল্য করে। তেমনি তিনখানা কিতাব হচ্ছেঃ ১। মুসনাদ আহমদ ইবনে হাম্বলঃ যা ইমাম বুখারির সরাসরি শায়খ হাম্বলি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. কর্তৃক সংকলিত৷ এই হাদিস ও আসারের (সাহাবায়ে কেরামের কওল) কিতাবে ৩০ হাজারের উপর হাদিস সংগৃহীত আছে৷ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. এঁর লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদ মতন সহ মুখস্থ ছিল৷ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বলে হত তাঁকে। ২। মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহঃ ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. যিনি ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, ইমাম ইবনে মাজাহর সরাসরি ওস্তাদ ছিলেন হাদিসের ক্ষেত্রে, তার সংকলিত হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের কওলের সবচাইতে বড় সংগ্রহ এই মুসান্নাফ। ৩৭ হাজারের বেশি হাদিস ও আসার আছে এই কিতাবে। ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. থেকে সহিহ বুখারিতে ইমাম বুখারী ৩০ টির বেশি হাদিস বর্নণা করেছেন। মুসলিমে ইমাম মুসলিম রাহ. ৩০০ এর বেশি হাদিস এনেছেন। অনুরুপ ৬ কিতাবের বাকি ৪ কিতাবেও অসংখ্য হাদিস এসেছে ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. হতে। যার লক্ষ লক্ষ হাদিস সনদ মতনসহ মুখস্থ ছিল৷ ইমাম আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ রাহ. কেও আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বলা হয়। ৩। মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকঃ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হামমাম আস সানয়া'নি রাহ. তিনি ইমাম বুখারির দাদা ওস্তাদ, তার সংকলিত হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের কওলের অনেক বড় সংগ্রহ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক। ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রাহ. এর ছাত্র ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ ও শিক্ষালাভ করেছেন ইমাম বুখারী রাহ.! অথচ আজ এরক বড় ইমামগণের কিতাবের রেফারেন্স দিলে একদল অজ্ঞ মূর্খরা মুখ টিপে হাসে, কিংবা টিটকিরি দেয়। তাচ্ছিল্য করে। এগুলো সম্পূর্ণ জাহালত৷ অজ্ঞতা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এছাড়াও হাদিসের আরো বহু কিতাব আছে। মুয়াত্তা ইমাম মালিক, সহিহ ইবনে হিব্বান, সহিহ ইবনে খুজাইমাহ, তাবরানী, সুনানুদ দারেমি, দারা কুতনি, মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, সুনানুল কুবরা বাইহাকি, মুসনাদে বাজ্জার, মুসনাদে হুমাইদি, মুসনাদ আবি ইয়া'লা, মুসনাদ আবু দাউদ তাইয়ালিসি ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটকথাঃ"কোন কিতাবে হাদিস আসল এটা কোন বিষয়ই না, বরং প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী রাভীগণ গ্রহণযোগ্য কীনা এটা হচ্ছে মূল বিষয়। এর ভিত্তিতেই সাধারণত কোন একটি হাদিস গ্রহণ করা হয় অথবা বর্জন করা হয়।" Syed Gulam Kibria Azhari
    4
    0 Comments 0 Shares
  • ৭১ জন সদস্যকে নির্মমভাবে শহীদ করার পর এবার পরিবারের কাছে আখেরি বিদায় নিয়ে যুদ্ধের মাঠে যান ঈমামে হুসাইন রাঃ। তাঁকে দেখে ইবনে যিয়াদ (লানাতুল্লাহি আলাই) একসাথে ২৫০০ তীর নিক্ষেপ করে!! আল্লাহু আকবার। যার মধ্যে ১২১ টি তীর ঈমামের নূরানি শরীর মোবারকে বিদ্ধ হয়।
    এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যার প্রত্যেক স্থানে রাহমাতুল্লিল আলামিন ﷺ চুমু দিয়েছিলেন।
    এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যে শরীর সিজদারত রাসুলে হাশমী ﷺ এর উপর চড়ে বসলে আল্লাহ সিজদাকে দীর্ঘ করার আদেশ করেন।
    এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যে শরীরকে দেখলে জুমার খুৎবা বন্ধ করে দিয়ে রাসুলে আরাবী ﷺ তাঁকে কোলে নিয়ে নিতেন।
    এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যে শরীরকে মুহাদ্দিসিন রাসুলুল্লাহ ﷺ এর অনুরুপ বা নকল বলেছেন।
    এ পাক শরীর মোবারকে ১২১ টি তীর বিদ্ধ হওয়ার পরেও শেরে খোদার ছেলে অটল থাকলে তারা আবার তাঁকে ৩৭ টি বল্লম ও ৪০ বার তরবারি দিয়ে আঘাত করে। নাউযুবিল্লাহ।
    আল্লাহ আল্লাহ, এ কেমন বর্বরতা!! এ কেমন নৃশংসতা!! এ কেমন যুলুম অত্যাচার!!
    ইতিহাস সাক্ষী আছে, এরকম নৃশংসতার উদাহরণ আর দুটি নেই।
    তারপরেও কিভাবে কিছু মানুষ ইয়াজিদ কে রাহমাতুল্লাহি আলাই বলে! কিভাবে এই জাহান্নামী পাপিষ্ঠর উপর রহমতের দুয়া করতে পারে? তারা কি ঈমামে হুসাইনের নানাজানের কালেমা পড়েছে নাকি ইয়াজিদের???
    আল্লাহ উত্তম জানেন। আল্লাহ তাদের হিদায়াত ও আমাদের ঈমানের হিফাযত করুন।
    ৭১ জন সদস্যকে নির্মমভাবে শহীদ করার পর এবার পরিবারের কাছে আখেরি বিদায় নিয়ে যুদ্ধের মাঠে যান ঈমামে হুসাইন রাঃ। তাঁকে দেখে ইবনে যিয়াদ (লানাতুল্লাহি আলাই) একসাথে ২৫০০ তীর নিক্ষেপ করে!! আল্লাহু আকবার। যার মধ্যে ১২১ টি তীর ঈমামের নূরানি শরীর মোবারকে বিদ্ধ হয়। এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যার প্রত্যেক স্থানে রাহমাতুল্লিল আলামিন ﷺ চুমু দিয়েছিলেন। এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যে শরীর সিজদারত রাসুলে হাশমী ﷺ এর উপর চড়ে বসলে আল্লাহ সিজদাকে দীর্ঘ করার আদেশ করেন। এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যে শরীরকে দেখলে জুমার খুৎবা বন্ধ করে দিয়ে রাসুলে আরাবী ﷺ তাঁকে কোলে নিয়ে নিতেন। এ কোন শরীর? এ সেই শরীর যে শরীরকে মুহাদ্দিসিন রাসুলুল্লাহ ﷺ এর অনুরুপ বা নকল বলেছেন। এ পাক শরীর মোবারকে ১২১ টি তীর বিদ্ধ হওয়ার পরেও শেরে খোদার ছেলে অটল থাকলে তারা আবার তাঁকে ৩৭ টি বল্লম ও ৪০ বার তরবারি দিয়ে আঘাত করে। নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ আল্লাহ, এ কেমন বর্বরতা!! এ কেমন নৃশংসতা!! এ কেমন যুলুম অত্যাচার!! ইতিহাস সাক্ষী আছে, এরকম নৃশংসতার উদাহরণ আর দুটি নেই। তারপরেও কিভাবে কিছু মানুষ ইয়াজিদ কে রাহমাতুল্লাহি আলাই বলে! কিভাবে এই জাহান্নামী পাপিষ্ঠর উপর রহমতের দুয়া করতে পারে? তারা কি ঈমামে হুসাইনের নানাজানের কালেমা পড়েছে নাকি ইয়াজিদের??? আল্লাহ উত্তম জানেন। আল্লাহ তাদের হিদায়াত ও আমাদের ঈমানের হিফাযত করুন।
    7
    0 Comments 0 Shares
  • অনেকেই প্রশ্ন করেন, ইমাম হোসাইন আ. পরিবার পরিজনসহ নিশ্চিত বাহ্যিক পরাজয় ও শাহাদাৎ অপেক্ষা করছে জেনেও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কারবালাতে গেলেন কেন মাত্র ৭২ জন যোদ্ধা নিয়ে? সিনিয়র সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম বাধা দেয়ার পরও তিনি গিয়েছিলেন। কেন?
    প্রথম কথা, তিনি কারবালাতে যাচ্ছিলেন না৷ তিনি যাচ্ছিলেন কুফাতে৷ যেখানে তার জন্য ৪০ হাজার মানুষ অপেক্ষা করছে বলে তিনি জানতেন। যাদেরকে নিয়ে তিনি পাপিষ্ঠ ইয়াজিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে আশা করছিলেন৷
    হ্যাঁ, ইমাম মুসলিম ইবনে আকিল রাহ. কর্তৃক অনুরোধকৃত ইবনুল আশয়াস কর্তৃক প্রেরিত সংবাদবাহক এসে ইমাম হোসাইন আ. কে কারবালায় পৌঁছানোর আগেই খবর দেয় যে, কুফার ৪০ হাজার মানুষ তারা বায়াত প্রত্যাহার করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইমাম মুসলিম ইবনে আকিল রা. কে নির্মমভাবে শহিদ করেছে কুখ্যাত ইবনে জিয়াদ। তারপরও নিশ্চিত বাহ্যিক দুনিয়ার হিসাবের পরাজয় জেনে কেন ইমাম হোসাইন আ. কুফা অভিমুখে এগুচ্ছিলেন?
    কারণ ইমাম হোসাইন আ. সেই উজ্জ্বল দৃষ্টান্তটি স্থাপন করতে চাচ্ছিলেন যে, ইসলামে রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের কোন স্থান নেই। ইসলামে জালিমের শাসনকে মেনে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। জুলুমের বিরুদ্ধে চুপ থাকার কোন সুযোগ নেই। যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. চুপ হয়ে যেতেন তবে ৫০ বছর পর তাঁরই নাতি ইমাম জায়েদ বিন আলি আ. রা. ওমাইয়াদের দুঃশাসনকে উৎখাত করতে আবারো বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন না৷ হয়ত বলতেন আমার দাদাই এদেরকে মেনে নিয়েছেন তো আমি কেন জীবন দেব আজ? ইমাম জায়েদ বিন আলি নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন জালিম বনু ওমাইয়ার হাতে।
    তারও প্রায় ২৫ বছর পর ইমাম হোসাইন আ. এঁর বড় ভাইজান ইমাম হাসানের আ. আওলাদ ইমাম নাফসে জাকিয়্যাহ রা. আ. আব্বাসিয়দের জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন না, যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে।
    ৫০০ বছর পর হয়ত গাজী সালাউদ্দীন আইয়্যুবি রাহ. বায়তুল মুকাদ্দাস জয়ের লক্ষ্যে ২০ বছরব্যাপী ক্রুসেডার দখলদার ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে জে-হা- দ পরিচালনা করতেন না৷ যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে।
    সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ ও সেনানায়ক রুকনুদ্দিন জাহির বাইবার্স হয়ত তারও ১০০ বছর পর দুর্ধর্ষ মোংগলদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন না, আর দশ জন মুসলিম শাসকের মতই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতেন। যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে।
    হয়ত গাজি আর্তুগ্রুল ও সুলতান ওসমান দাঁড়াতেন না রোমান বাইজান্টাইন ও মোংগলদের বিরুদ্ধে, যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে।
    হয়ত হজরত শাহজালাল মুজাররদ ইয়েমেনী রাহ. এবং সায়্যিদ নাসিরুদ্দিন সিপাহসালার রাহ. দাঁড়াতেন না গৌড় গোবিন্দের বিরুদ্ধে। হয়ত ওমরুল মুখতার রুখে দাঁড়াতেন না ইটালিয়ান ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে, হয়ত শায়খ আব্দুল কাদির আল জাজায়েরি দাঁড়াতেন না ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে, শায়খ শামিল নকশেবন্দী হয়ত দাঁড়াতেন না রাশিয়ার বিরুদ্ধে, যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে।
    বাংলা, পাক- ভারতের ওলি আওলিয়া পীর ফকির উলামাগণ হয়ত দাঁড়াতেন না বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে। যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কারবালাতে।
    ইমাম হোসাইন আ. একটি চেতনার নাম৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নাম৷ জুলুমের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের নাম। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার নাম। জালিমের তোষামোদী না করার নাম। দুর্নীতিকে সহ্য না করার নাম হোসাইনিয়াত৷ দুনিয়ার লোভ লালসাকে আখিরাতের খাতিরে ত্যাগ করার নাম হোসাইনিয়াত। আদর্শকে ধরে রাখতে অন্যায়ের সাথে কম্প্রমাইজ না করার নাম হোসাইনিয়াত। এই হোসাইনিয়াতকে আলাদা একটা শাস্ত্র হিসেবে কাল কেয়ামত পর্যন্ত সকলের কাছে, একটি স্বতন্ত্র উৎসাহ উদ্দীপনার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই, নিশ্চিত পরাজয় ও শাহাদাৎ জেনেও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কারবালাতে গেলেন মাত্র ৭২ জন যোদ্ধাকে নিয়ে।
    পৃথিবীতে যখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে তখনই হোসাইনিয়াতের নাম বুলন্দ হয়েছে।
    ইমাম হোসাইন জিন্দাবাদ, হোসাইনিয়াত জিন্দাবাদ৷
    - গোলামে ইমাম হোসাইন সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী
    অনেকেই প্রশ্ন করেন, ইমাম হোসাইন আ. পরিবার পরিজনসহ নিশ্চিত বাহ্যিক পরাজয় ও শাহাদাৎ অপেক্ষা করছে জেনেও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কারবালাতে গেলেন কেন মাত্র ৭২ জন যোদ্ধা নিয়ে? সিনিয়র সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম বাধা দেয়ার পরও তিনি গিয়েছিলেন। কেন? প্রথম কথা, তিনি কারবালাতে যাচ্ছিলেন না৷ তিনি যাচ্ছিলেন কুফাতে৷ যেখানে তার জন্য ৪০ হাজার মানুষ অপেক্ষা করছে বলে তিনি জানতেন। যাদেরকে নিয়ে তিনি পাপিষ্ঠ ইয়াজিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে আশা করছিলেন৷ হ্যাঁ, ইমাম মুসলিম ইবনে আকিল রাহ. কর্তৃক অনুরোধকৃত ইবনুল আশয়াস কর্তৃক প্রেরিত সংবাদবাহক এসে ইমাম হোসাইন আ. কে কারবালায় পৌঁছানোর আগেই খবর দেয় যে, কুফার ৪০ হাজার মানুষ তারা বায়াত প্রত্যাহার করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইমাম মুসলিম ইবনে আকিল রা. কে নির্মমভাবে শহিদ করেছে কুখ্যাত ইবনে জিয়াদ। তারপরও নিশ্চিত বাহ্যিক দুনিয়ার হিসাবের পরাজয় জেনে কেন ইমাম হোসাইন আ. কুফা অভিমুখে এগুচ্ছিলেন? কারণ ইমাম হোসাইন আ. সেই উজ্জ্বল দৃষ্টান্তটি স্থাপন করতে চাচ্ছিলেন যে, ইসলামে রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের কোন স্থান নেই। ইসলামে জালিমের শাসনকে মেনে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। জুলুমের বিরুদ্ধে চুপ থাকার কোন সুযোগ নেই। যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. চুপ হয়ে যেতেন তবে ৫০ বছর পর তাঁরই নাতি ইমাম জায়েদ বিন আলি আ. রা. ওমাইয়াদের দুঃশাসনকে উৎখাত করতে আবারো বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন না৷ হয়ত বলতেন আমার দাদাই এদেরকে মেনে নিয়েছেন তো আমি কেন জীবন দেব আজ? ইমাম জায়েদ বিন আলি নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন জালিম বনু ওমাইয়ার হাতে। তারও প্রায় ২৫ বছর পর ইমাম হোসাইন আ. এঁর বড় ভাইজান ইমাম হাসানের আ. আওলাদ ইমাম নাফসে জাকিয়্যাহ রা. আ. আব্বাসিয়দের জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতেন না, যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। ৫০০ বছর পর হয়ত গাজী সালাউদ্দীন আইয়্যুবি রাহ. বায়তুল মুকাদ্দাস জয়ের লক্ষ্যে ২০ বছরব্যাপী ক্রুসেডার দখলদার ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে জে-হা- দ পরিচালনা করতেন না৷ যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ ও সেনানায়ক রুকনুদ্দিন জাহির বাইবার্স হয়ত তারও ১০০ বছর পর দুর্ধর্ষ মোংগলদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন না, আর দশ জন মুসলিম শাসকের মতই আরাম আয়েশের জীবন যাপন করতেন। যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। হয়ত গাজি আর্তুগ্রুল ও সুলতান ওসমান দাঁড়াতেন না রোমান বাইজান্টাইন ও মোংগলদের বিরুদ্ধে, যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। হয়ত হজরত শাহজালাল মুজাররদ ইয়েমেনী রাহ. এবং সায়্যিদ নাসিরুদ্দিন সিপাহসালার রাহ. দাঁড়াতেন না গৌড় গোবিন্দের বিরুদ্ধে। হয়ত ওমরুল মুখতার রুখে দাঁড়াতেন না ইটালিয়ান ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে, হয়ত শায়খ আব্দুল কাদির আল জাজায়েরি দাঁড়াতেন না ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে, শায়খ শামিল নকশেবন্দী হয়ত দাঁড়াতেন না রাশিয়ার বিরুদ্ধে, যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন কারবালাতে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। বাংলা, পাক- ভারতের ওলি আওলিয়া পীর ফকির উলামাগণ হয়ত দাঁড়াতেন না বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে। যদি সেদিন ইমাম হোসাইন আ. না দাঁড়াতেন ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কারবালাতে। ইমাম হোসাইন আ. একটি চেতনার নাম৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নাম৷ জুলুমের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের নাম। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার নাম। জালিমের তোষামোদী না করার নাম। দুর্নীতিকে সহ্য না করার নাম হোসাইনিয়াত৷ দুনিয়ার লোভ লালসাকে আখিরাতের খাতিরে ত্যাগ করার নাম হোসাইনিয়াত। আদর্শকে ধরে রাখতে অন্যায়ের সাথে কম্প্রমাইজ না করার নাম হোসাইনিয়াত। এই হোসাইনিয়াতকে আলাদা একটা শাস্ত্র হিসেবে কাল কেয়ামত পর্যন্ত সকলের কাছে, একটি স্বতন্ত্র উৎসাহ উদ্দীপনার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই, নিশ্চিত পরাজয় ও শাহাদাৎ জেনেও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কারবালাতে গেলেন মাত্র ৭২ জন যোদ্ধাকে নিয়ে। পৃথিবীতে যখনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে তখনই হোসাইনিয়াতের নাম বুলন্দ হয়েছে। ইমাম হোসাইন জিন্দাবাদ, হোসাইনিয়াত জিন্দাবাদ৷ - গোলামে ইমাম হোসাইন সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী
    6
    0 Comments 0 Shares
More Stories