• #গীবত:
    গাছ আমি লাগিয়েছি,যত্ন আমি নিয়েছি,কষ্ট আমি করেছি,সময় আমি দিয়েছি,তারপরও আমার গাছের খেজুর খাচ্ছে অন্যরা!

    এর একমাত্র কারণ আমি অযথা নিজের দোষ ত্রুটি না দেখে অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে মাতামাতি করেছি। অযথা চায়ের আড্ডায় অন্যকে নিয়ে কটুকথা বলেছি। হায় আফসোস! কেনো অন্যের সমালোচনা করে নিজের নেক-আমল সমুহ নষ্ট করবো?

    গীবত তোমার তাহাজ্জুদ ছিনিয়ে নেবে, তাহাজ্জুদ না থাকলে সুন্নাত আমল নিয়ে নেবে, আর সেটাও না থাকলে তোমার ফরয ইবাদতের আমল নিয়ে নেবে, সবগু‌লোর কোনটা না থাক‌লে ছোট ছোট নেক আমলগু‌লো হ‌লেও নে‌বে, নে‌বেই।

    গীবত সম্পর্কে আল্লাহতা’য়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,
    وَیْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةِ
    অর্থ: ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য,যে লোক-সম্মুখে বদনামী করে এবং পৃষ্ঠ-পেছনে (অগোচরে) নিন্দা করে। (সূরা হুমাযাহ্ : ১)

    তাই,নিজের আমল অন্য কাউকে ফ্রিতে দিতে না চাইলে পরনিন্দা করা এখন হ‌তে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের অন্যের গীবত করা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

    #Collected
    #গীবত: গাছ আমি লাগিয়েছি,যত্ন আমি নিয়েছি,কষ্ট আমি করেছি,সময় আমি দিয়েছি,তারপরও আমার গাছের খেজুর খাচ্ছে অন্যরা! এর একমাত্র কারণ আমি অযথা নিজের দোষ ত্রুটি না দেখে অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে মাতামাতি করেছি। অযথা চায়ের আড্ডায় অন্যকে নিয়ে কটুকথা বলেছি। হায় আফসোস! কেনো অন্যের সমালোচনা করে নিজের নেক-আমল সমুহ নষ্ট করবো? গীবত তোমার তাহাজ্জুদ ছিনিয়ে নেবে, তাহাজ্জুদ না থাকলে সুন্নাত আমল নিয়ে নেবে, আর সেটাও না থাকলে তোমার ফরয ইবাদতের আমল নিয়ে নেবে, সবগু‌লোর কোনটা না থাক‌লে ছোট ছোট নেক আমলগু‌লো হ‌লেও নে‌বে, নে‌বেই। গীবত সম্পর্কে আল্লাহতা’য়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, وَیْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةِ অর্থ: ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য,যে লোক-সম্মুখে বদনামী করে এবং পৃষ্ঠ-পেছনে (অগোচরে) নিন্দা করে। (সূরা হুমাযাহ্ : ১) তাই,নিজের আমল অন্য কাউকে ফ্রিতে দিতে না চাইলে পরনিন্দা করা এখন হ‌তে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের অন্যের গীবত করা থেকে হেফাজত করুন। আমিন। #Collected
    7
    0 Comments 0 Shares
  • হাদিসে নববীর আলােকে দাজ্জালের ফেতনা
    ♦দাজ্জালের ফেতনার ভয়াবহতাকে আপনি একথার মাধ্যমে আন্দাজ করতে পারবেন যে , স্বয়ং নবীজী সাঃ পর্যন্ত তার ফেতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থণা করতেন । নবী করীম সাঃ যখন সাহাবায়ে কেরামের সামনে দাজ্জালের ফেতনার ভয়াবহতার বিবরণ পেশ করতেন , তখন তাদের চেহারায় আতঙ্কের নিদর্শন ফুটে উঠত । দিগ্বীজয়ী বীরত্বের শ্রেষ্ঠ উপমা সাহাবায়ে কেরামকে কোন বিষয়টি সবচে বেশি ভয়ে ফেলে দিয়েছিল , ?? ভয়াবহ যুদ্ধ নাকি ভয়ানক মৃত্যু .. ?? না .. !! এসকল বিষয়কে তাে সাহাবায়ে কেরাম কখনাে ভয় পাওয়ার কথা নয় ।
    ♦বরং সাহাবায়ে কেরাম যে বিষয়টিকে ভয় পাচ্ছিলেন , সেটি হচ্ছে দাজ্জালের ধােকা ও প্রতারণা । সে এতই ভয়ানক হবে- তখনকার পরিস্থিতি মানুষের বুঝে আসবেনা। কেননা , তখন নেতৃত্ব থাকবে পথভ্রষ্ট লােকদের হাতে । ফাসেক ও পাপিষ্ঠ নেতৃবর্গই জনগণকে দাজ্জালের অনুসরণ করতে বাধ্য করবে । পাশাপাশি সবচে ' বড় অপপ্রচার তখন এই হবে যে , মুহুর্তের মধ্যে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় কোণায় পৌছে দেয়া হবে । মানবতার মুক্তির দূতকে হিংস্র ও সন্ত্রাসী আর সন্ত্রাসীকে মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে তুলে ধরা হবে ।
    ♦এ কারণেই নবী করীম সাঃ দাজ্জালের ফেতনাটিকে খুলে খুলে বর্ণনা করেছেন । তার আকার - আকৃতি , প্রকাশস্থল , পৃথিবীতে তার অবস্থান , তার মৃত্যু ও হত্যাকারী এমনকি নিহতের স্থানটি পর্যন্ত বলে গেছেন । কিন্তু .. ! উম্মতে মুসলিমা আজ অলসতার গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত- জনগণ তাে জনগণই- আজকাল শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত তার আলােচনাটি সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছে । অথচ নবী করীম সাঃ বারবার সাহাবাদের কাছে বর্ণনা করতেন আর বলতেন- আমি তােমাদেরকে বারবার এজন্য বলছি , যাতে তােমরা বিষয়টিকে ভুলে না যাও । কথাগুলাে ভাল করে বুঝ .. ! চিন্তা - গবেষনা কর .. ! এবং অন্যদেরকে এসম্পর্কে অবহিত কর .. !!

    🍁উপরোক্ত বিষয়গুলো বর্তমানে ঘটে চলেছে। এই বিষয়ে উম্মত গাফেল হয়ে গেছে। 🔚

    #Collected
    হাদিসে নববীর আলােকে দাজ্জালের ফেতনা ♦দাজ্জালের ফেতনার ভয়াবহতাকে আপনি একথার মাধ্যমে আন্দাজ করতে পারবেন যে , স্বয়ং নবীজী সাঃ পর্যন্ত তার ফেতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থণা করতেন । নবী করীম সাঃ যখন সাহাবায়ে কেরামের সামনে দাজ্জালের ফেতনার ভয়াবহতার বিবরণ পেশ করতেন , তখন তাদের চেহারায় আতঙ্কের নিদর্শন ফুটে উঠত । দিগ্বীজয়ী বীরত্বের শ্রেষ্ঠ উপমা সাহাবায়ে কেরামকে কোন বিষয়টি সবচে বেশি ভয়ে ফেলে দিয়েছিল , ?? ভয়াবহ যুদ্ধ নাকি ভয়ানক মৃত্যু .. ?? না .. !! এসকল বিষয়কে তাে সাহাবায়ে কেরাম কখনাে ভয় পাওয়ার কথা নয় । ♦বরং সাহাবায়ে কেরাম যে বিষয়টিকে ভয় পাচ্ছিলেন , সেটি হচ্ছে দাজ্জালের ধােকা ও প্রতারণা । সে এতই ভয়ানক হবে- তখনকার পরিস্থিতি মানুষের বুঝে আসবেনা। কেননা , তখন নেতৃত্ব থাকবে পথভ্রষ্ট লােকদের হাতে । ফাসেক ও পাপিষ্ঠ নেতৃবর্গই জনগণকে দাজ্জালের অনুসরণ করতে বাধ্য করবে । পাশাপাশি সবচে ' বড় অপপ্রচার তখন এই হবে যে , মুহুর্তের মধ্যে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় কোণায় পৌছে দেয়া হবে । মানবতার মুক্তির দূতকে হিংস্র ও সন্ত্রাসী আর সন্ত্রাসীকে মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে তুলে ধরা হবে । ♦এ কারণেই নবী করীম সাঃ দাজ্জালের ফেতনাটিকে খুলে খুলে বর্ণনা করেছেন । তার আকার - আকৃতি , প্রকাশস্থল , পৃথিবীতে তার অবস্থান , তার মৃত্যু ও হত্যাকারী এমনকি নিহতের স্থানটি পর্যন্ত বলে গেছেন । কিন্তু .. ! উম্মতে মুসলিমা আজ অলসতার গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত- জনগণ তাে জনগণই- আজকাল শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত তার আলােচনাটি সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছে । অথচ নবী করীম সাঃ বারবার সাহাবাদের কাছে বর্ণনা করতেন আর বলতেন- আমি তােমাদেরকে বারবার এজন্য বলছি , যাতে তােমরা বিষয়টিকে ভুলে না যাও । কথাগুলাে ভাল করে বুঝ .. ! চিন্তা - গবেষনা কর .. ! এবং অন্যদেরকে এসম্পর্কে অবহিত কর .. !! 🍁উপরোক্ত বিষয়গুলো বর্তমানে ঘটে চলেছে। এই বিষয়ে উম্মত গাফেল হয়ে গেছে। 🔚 #Collected
    2
    0 Comments 0 Shares
  • সে অনেক কাল আগের কথা। হযরত মুহাম্মাদ (সা) তখনও এই পৃথিবীতে আসেননি। তবে তিনি যে আসবেন, সেই ভবিষ্যদ্বাণী যেমন অনেকে জানত, তেমনই তিনি কোন স্থানে আসবেন, তাঁকে কীভাবে চেনা যাবে- সেসবও জানতেন ধর্মীয় জ্ঞানে জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ।
    যা-ই হোক, সেই সময়ই একদিন মদীনার উপর দিয়ে লোকজনসহ যাচ্ছিলেন ইয়েমেনের বাদশাহ তুব্বা। বেশ ধার্মিক ছিলেন তিনি। তাই সঙ্গীসাথীদের মাঝে শ’চারেক আলেমও ছিল, তাওরাতের আলেম। মদীনা অতিক্রমের সময় তারা তুব্বার কাছে এক অদ্ভুত দাবি জানাল, এখানেই থেকে যেতে চান তারা। কারণ হিসেবে জানালেন, তাদের আসমানী কিতাব থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানানুযায়ী শেষ নবী, যাঁর নাম কিনা হবে ‘মুহাম্মাদ’ (সা), নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি এখানেই আসবেন।
    বিষয়টি জেনে বাদশাহ তুব্বা কতটুকু বিস্মিত হয়েছিলেন, কতটুকু খুশি হয়েছিলেন, শেষ নবীকে দেখবার জন্য তার মনে কতটুকু আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল তা আজ আর জানবার উপায় নেই। তবে এই আলেমদের কথায় পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন তিনি। তাই তো সাথে সাথেই সেই আলেমদের সেখানে থাকবার যাবতীয় সুব্যবস্থা করতে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। তাদের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ, উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে দেয়া, দরকারি অর্থসাহায্য প্রদান- কোনো কিছুই করতে বাকি রাখেননি তিনি।
    আরেকটি বিচিত্র কাজও করে গিয়েছিলেন এই বাদশাহ। শেষ নবীকে তিনি পাবেন কিনা সেই সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকলেও তাঁর মেহমানদারির জন্য কিছু একটা হলেও করতে মন চাচ্ছিল তার। তাই তো সেই নবীর জন্য একটি বাড়িই তৈরি করেন তিনি। শেষে অদেখা সেই শেষ নবীর উদ্দেশ্যে মর্মস্পর্শী এক চিঠি লিখে যান তিনি, যেখানে সেই নবীর প্রতি সালাম, তাঁকে দেখবার আকুতির পাশাপাশি তাঁর আনীত দ্বীনের প্রতিও নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। শুধু এটুকুই নয়, সৌভাগ্যক্রমে যদি সেই নবীর সাথে দেখা হয়েও যায়, তাহলে যে তিনি তাঁর কাছেই চলে আসবেন, নতুন সেই দ্বীনের সাহায্যার্থে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেবেন- সেই প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা ছিল সেই চিঠিতে।
    সব লেখা শেষে নিজের বাদশাহী সীল লাগিয়ে দিলেন সেই চিঠিতে। এরপর তা তুলে দিলেন উপস্থিত আলেমদেরই একজনের হাতে, বললেন প্রতিশ্রুত সেই নবী আসলে যেন তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয় এই চিঠি। আর যদি তার জীবদ্দশায় তিনি না আসেন, তাহলে যেন তার পরবর্তী বংশধরদের হাতে পর্যায়ক্রমে এই চিঠি স্থানান্তরিত হতে থাকে যতদিন না সেই সত্য নবীর হাতে এটি গিয়ে পৌঁছায়।
    … … …
    মদীনায় এসে পৌঁছেছেন হযরত মুহাম্মাদ (সা) ও হযরত আবু বকর (রা.)। আশেপাশে অনেক মানুষ। আহলে কিতাবদের কাছ থেকে শোনা শেষ সত্য নবীকে দেখতে ভিড় জমিয়েছে অজস্র মানুষ। এদের অনেকে ইতোমধ্যেই সেই নবী ও তাঁর আনীত দ্বীনে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সবার ইচ্ছা একটাই, নবী (সা) যেন তার ঘরে গিয়ে ওঠেন।
    ওদিকে নবী (সা) উটের লাগাম থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছেন। এই উট যেখানে থামবে, সেখানেই উঠবেন তিনি। অবশেষে উট পৌঁছল বনু নাজ্জার গোত্রের এলাকায়, যা কিনা তাঁর নানাবাড়ির এলাকা। এখানে এসে উট শেষপর্যন্ত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর বাড়ির সামনে থামল, রাসূলুল্লাহও (সা) মালপত্র নিয়ে সেই বাড়িতেই উঠলেন।
    অদ্ভুত বিষয় হলো, এই যে আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর কথা বলা হলো, তিনি ছিলেন সেই আলেমেরই উত্তরপুরুষ যার হাতে বাদশাহ তুব্বা এককালে সেই চিঠি দিয়ে গিয়েছিলেন! আনসারী অন্য সকল সাহাবীও ছিলেন একটু আগে উল্লেখ করা সেই আলেমদেরই বংশধর!! আর হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর উটও ঠিক সেই বাড়ির সামনে এসেই থেমেছিল, শত শত বছর পূর্বে যা কিনা তাঁর থাকবার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল!!!
    নতুন এই বাড়িতে উঠবার পর নবীজির (সা) হাতে বাদশাহ তুব্বার সেই চিঠি তুলে দিয়েছিলেন আবু আইয়ুব আনসারী (রা.)। এক ব্যক্তি, যে কিনা বহু আগেই কেবলমাত্র নবীর (সা) আসার কথা শুনেই তাঁর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছে, ওদিকে তাঁর নিজ ভূমি মক্কার লোকজনই তাঁকে এভাবে চলে আসতে বাধ্য করেছে, এমন এক ভাবনা এসে কি উঁকি দিয়েছিল নবীজির (সা) মনে? সে আজ আর জানবার উপায় নেই। তাঁর সামনে যে তখন বিশাল এক দায়িত্ব, যে দায়িত্বের পরিসীমা বিস্তৃত গোটা জগতজুড়েই, ব্যপ্তিকাল নশ্বর এই পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত।
    ...
    তথ্যসূত্র:
    সীরাতে মুস্তফা (সা.) - ১ম খন্ড
    লেখক - মাওলানা ইদ্‌রীস কান্ধলবী রহ.
    পৃষ্ঠা: ৪৫০-৪৫২
    #Collected Post#
    সে অনেক কাল আগের কথা। হযরত মুহাম্মাদ (সা) তখনও এই পৃথিবীতে আসেননি। তবে তিনি যে আসবেন, সেই ভবিষ্যদ্বাণী যেমন অনেকে জানত, তেমনই তিনি কোন স্থানে আসবেন, তাঁকে কীভাবে চেনা যাবে- সেসবও জানতেন ধর্মীয় জ্ঞানে জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ। যা-ই হোক, সেই সময়ই একদিন মদীনার উপর দিয়ে লোকজনসহ যাচ্ছিলেন ইয়েমেনের বাদশাহ তুব্বা। বেশ ধার্মিক ছিলেন তিনি। তাই সঙ্গীসাথীদের মাঝে শ’চারেক আলেমও ছিল, তাওরাতের আলেম। মদীনা অতিক্রমের সময় তারা তুব্বার কাছে এক অদ্ভুত দাবি জানাল, এখানেই থেকে যেতে চান তারা। কারণ হিসেবে জানালেন, তাদের আসমানী কিতাব থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানানুযায়ী শেষ নবী, যাঁর নাম কিনা হবে ‘মুহাম্মাদ’ (সা), নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি এখানেই আসবেন। বিষয়টি জেনে বাদশাহ তুব্বা কতটুকু বিস্মিত হয়েছিলেন, কতটুকু খুশি হয়েছিলেন, শেষ নবীকে দেখবার জন্য তার মনে কতটুকু আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল তা আজ আর জানবার উপায় নেই। তবে এই আলেমদের কথায় পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন তিনি। তাই তো সাথে সাথেই সেই আলেমদের সেখানে থাকবার যাবতীয় সুব্যবস্থা করতে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। তাদের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ, উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে দেয়া, দরকারি অর্থসাহায্য প্রদান- কোনো কিছুই করতে বাকি রাখেননি তিনি। আরেকটি বিচিত্র কাজও করে গিয়েছিলেন এই বাদশাহ। শেষ নবীকে তিনি পাবেন কিনা সেই সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকলেও তাঁর মেহমানদারির জন্য কিছু একটা হলেও করতে মন চাচ্ছিল তার। তাই তো সেই নবীর জন্য একটি বাড়িই তৈরি করেন তিনি। শেষে অদেখা সেই শেষ নবীর উদ্দেশ্যে মর্মস্পর্শী এক চিঠি লিখে যান তিনি, যেখানে সেই নবীর প্রতি সালাম, তাঁকে দেখবার আকুতির পাশাপাশি তাঁর আনীত দ্বীনের প্রতিও নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। শুধু এটুকুই নয়, সৌভাগ্যক্রমে যদি সেই নবীর সাথে দেখা হয়েও যায়, তাহলে যে তিনি তাঁর কাছেই চলে আসবেন, নতুন সেই দ্বীনের সাহায্যার্থে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেবেন- সেই প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা ছিল সেই চিঠিতে। সব লেখা শেষে নিজের বাদশাহী সীল লাগিয়ে দিলেন সেই চিঠিতে। এরপর তা তুলে দিলেন উপস্থিত আলেমদেরই একজনের হাতে, বললেন প্রতিশ্রুত সেই নবী আসলে যেন তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয় এই চিঠি। আর যদি তার জীবদ্দশায় তিনি না আসেন, তাহলে যেন তার পরবর্তী বংশধরদের হাতে পর্যায়ক্রমে এই চিঠি স্থানান্তরিত হতে থাকে যতদিন না সেই সত্য নবীর হাতে এটি গিয়ে পৌঁছায়। … … … মদীনায় এসে পৌঁছেছেন হযরত মুহাম্মাদ (সা) ও হযরত আবু বকর (রা.)। আশেপাশে অনেক মানুষ। আহলে কিতাবদের কাছ থেকে শোনা শেষ সত্য নবীকে দেখতে ভিড় জমিয়েছে অজস্র মানুষ। এদের অনেকে ইতোমধ্যেই সেই নবী ও তাঁর আনীত দ্বীনে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সবার ইচ্ছা একটাই, নবী (সা) যেন তার ঘরে গিয়ে ওঠেন। ওদিকে নবী (সা) উটের লাগাম থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছেন। এই উট যেখানে থামবে, সেখানেই উঠবেন তিনি। অবশেষে উট পৌঁছল বনু নাজ্জার গোত্রের এলাকায়, যা কিনা তাঁর নানাবাড়ির এলাকা। এখানে এসে উট শেষপর্যন্ত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর বাড়ির সামনে থামল, রাসূলুল্লাহও (সা) মালপত্র নিয়ে সেই বাড়িতেই উঠলেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, এই যে আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) এর কথা বলা হলো, তিনি ছিলেন সেই আলেমেরই উত্তরপুরুষ যার হাতে বাদশাহ তুব্বা এককালে সেই চিঠি দিয়ে গিয়েছিলেন! আনসারী অন্য সকল সাহাবীও ছিলেন একটু আগে উল্লেখ করা সেই আলেমদেরই বংশধর!! আর হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর উটও ঠিক সেই বাড়ির সামনে এসেই থেমেছিল, শত শত বছর পূর্বে যা কিনা তাঁর থাকবার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল!!! নতুন এই বাড়িতে উঠবার পর নবীজির (সা) হাতে বাদশাহ তুব্বার সেই চিঠি তুলে দিয়েছিলেন আবু আইয়ুব আনসারী (রা.)। এক ব্যক্তি, যে কিনা বহু আগেই কেবলমাত্র নবীর (সা) আসার কথা শুনেই তাঁর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেছে, ওদিকে তাঁর নিজ ভূমি মক্কার লোকজনই তাঁকে এভাবে চলে আসতে বাধ্য করেছে, এমন এক ভাবনা এসে কি উঁকি দিয়েছিল নবীজির (সা) মনে? সে আজ আর জানবার উপায় নেই। তাঁর সামনে যে তখন বিশাল এক দায়িত্ব, যে দায়িত্বের পরিসীমা বিস্তৃত গোটা জগতজুড়েই, ব্যপ্তিকাল নশ্বর এই পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত। ... তথ্যসূত্র: সীরাতে মুস্তফা (সা.) - ১ম খন্ড লেখক - মাওলানা ইদ্‌রীস কান্ধলবী রহ. পৃষ্ঠা: ৪৫০-৪৫২ #Collected Post#
    8
    0 Comments 0 Shares
  • 🌺 এরদোগানের প্রতি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাম

    চিঠিটা পোস্ট করেছিলেন মুহাম্মাদ এরদোগান সাহেব। ইরাকের প্রখ‍্যাত আলিম ডক্টর আব্দুন নাসির আল জানাহী হাফিঃ এঁর মাধ‍্যমে চিঠিটি তুরস্কে পাঠিয়েছিলেন ইরাকের বাগদাদ থেকে আলহাজ্ব মিজহার আব্দুর রাজ্জাক নামক জনৈক ব‍্যক্তি।

    তিনি বলেন ১৪৪০ হিজরীর রজব মাসে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেনঃ

    "بلغ سلامي الي رجب"
    (রজবের নিকট আমার সালাম পৌঁছে দাও"

    তিনি বলেন

    "من رجب يا رسول الله؟"

    (কোন রজব হে রসূলাল্লাহ?)

    রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

    "الرئيس التركي"
    (তুরস্কের রাষ্ট্রপতি)

    অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

    "ابغله بأن أمة محمد أمانة علي عنقك و أنك سيف الله الضارب"

    (তাকে জানিয়ে দাও যে উম্মতে মুহাম্মাদি তোমার উপর আমানত আর তুমি হচ্ছ 'সাইফুল্লাহ আজ জ্বরিব" )

    এরপর আরো কয়েকবার তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেন। অতঃপর চিঠি লিখে المجلس الوطني للمعارضة العراقية এর প্রেসিডেন্ট ডক্টর জানাহী হাফিঃ কে দিয়ে প্রেরণ করেন।

    রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্ন কখনো মিথ্যা হয় না। আর এরদোগানের এত সফলতা তো আল্লাহ পাকের রহমত। ভবিষ্যতেও এই 'আঘাতকারী আল্লাহর তরবারী' শত্রুদের আঘাত করে যাবেন ও ইসলামের বিজয়যাত্রা আল্লাহপাকের রহমতে জারী রাখবেন ইন শা'আল্লাহ।
    #Collected_post
    🌺 এরদোগানের প্রতি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাম চিঠিটা পোস্ট করেছিলেন মুহাম্মাদ এরদোগান সাহেব। ইরাকের প্রখ‍্যাত আলিম ডক্টর আব্দুন নাসির আল জানাহী হাফিঃ এঁর মাধ‍্যমে চিঠিটি তুরস্কে পাঠিয়েছিলেন ইরাকের বাগদাদ থেকে আলহাজ্ব মিজহার আব্দুর রাজ্জাক নামক জনৈক ব‍্যক্তি। তিনি বলেন ১৪৪০ হিজরীর রজব মাসে তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেনঃ "بلغ سلامي الي رجب" (রজবের নিকট আমার সালাম পৌঁছে দাও" তিনি বলেন "من رجب يا رسول الله؟" (কোন রজব হে রসূলাল্লাহ?) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ "الرئيس التركي" (তুরস্কের রাষ্ট্রপতি) অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ "ابغله بأن أمة محمد أمانة علي عنقك و أنك سيف الله الضارب" (তাকে জানিয়ে দাও যে উম্মতে মুহাম্মাদি তোমার উপর আমানত আর তুমি হচ্ছ 'সাইফুল্লাহ আজ জ্বরিব" ) এরপর আরো কয়েকবার তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখেন। অতঃপর চিঠি লিখে المجلس الوطني للمعارضة العراقية এর প্রেসিডেন্ট ডক্টর জানাহী হাফিঃ কে দিয়ে প্রেরণ করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্ন কখনো মিথ্যা হয় না। আর এরদোগানের এত সফলতা তো আল্লাহ পাকের রহমত। ভবিষ্যতেও এই 'আঘাতকারী আল্লাহর তরবারী' শত্রুদের আঘাত করে যাবেন ও ইসলামের বিজয়যাত্রা আল্লাহপাকের রহমতে জারী রাখবেন ইন শা'আল্লাহ। #Collected_post
    2
    0 Comments 0 Shares
  • ✅রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি:
    পড়, তোমার প্রভুর নামে। শিক্ষার এই মহান বাণী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো শিক্ষা ও উন্নয়নের ধর্ম ইসলাম। নবী মুহাম্মদ (সা.) সূচনা করে ছিলেন তার নবুওয়তি জীবনের। একটি সভ্য ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে মানব জাতির শিক্ষকরূপে নবীদেরকে প্রেরণ করেন।
    প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব নবীই ছিলেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত এবং সু-শিক্ষার ধারক ও বাহক। মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সে ধারার সর্বশেষ ও সর্বোত্তম প্রেরিত পুরুষ। তার মাধ্যমে ঐশী শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে। তিনি তার কার্যকর ও বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি ও পদ্ধতির মাধ্যমে আরবের মূর্খ ও বর্বর একটি জাতিকে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করান এবং ইসলামের মহান বার্তা ছড়িয়ে দেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে।
    হজরত রাসূল (সা.)-এর শিক্ষা মিশন সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলেন, ‘তিনিই সেই পবিত্র সত্ত্বা। যিনি নিরক্ষর লোকদের মধ্য থেকে একজনকে নবী করে পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে তার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনাবেন, তাদেরকে পবিত্র করবেন, তাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও প্রজ্ঞা। যদিও ইতোপূর্বে তারা ভ্রান্তিতে (অজ্ঞতায়) মগ্ন ছিলো।’ -সূরা জুমা : ০২
    তিনি নিজেই বলেন, ‘নিশ্চয় আমি শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ২২৯
    তার অনুপম শিক্ষানীতি ও পদ্ধতিতে মুগ্ধ ছিলেন তার পুণ্যাত্মা সাহাবি ও শিষ্যগণ। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) বলেন, ‘তার জন্য আমার বাবা ও মা উৎসর্গিত হোক। আমি তার পূর্বে ও পরে তার চেয়ে উত্তম কোনো শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর শপথ! তিনি কখনো কঠোরতা করেননি, কখনো প্রহার করেননি, কখনো গালমন্দ করেননি।’ -সহিহ মুসলিম
    আর কেনোই বা তিনি শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক হবেন না, যখন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা তাকে সর্বোত্তম শিক্ষা ও শিষ্টাচার শিখিয়েছেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমাকে আমার প্রভু শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং আমাকে তিনি সর্বোত্তম শিক্ষা দিয়েছেন। আমার প্রভু আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন সুতরাং তিনি সর্বোত্তম শিষ্টাচার শিখিয়েছেন।’
    তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য সর্বোত্তম শিক্ষকের শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নিম্নে রাসূল (সা.)-এর অনুসৃত কয়েকটি শিক্ষাপদ্ধতি তুলে ধরা হলো।
    🔵উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষাদান : শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কোলাহলপূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিবেশ শিক্ষার বিষয় ও শিক্ষক উভয়ের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অপেক্ষা করতেন। হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। ‘নিশ্চয় বিদায় হজের সময় রাসূল (সা.) তাকে বলেন, মানুষকে চুপ করতে বল। অতপর তিনি বলেন, আমার পর তোমরা কুফরিতে ফিরে যেয়ো না ......।’ -সহিহ বোখারি : ৭০৮০
    অর্থাৎ রাসূল (সা.) শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে স্থির হওয়ার এবং মনোসংযোগ স্থাপনের সুযোগ দিতেন। অতপর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে শিক্ষাদান শুরু করতেন।
    🔵থেমে থেমে পাঠদান : রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঠদানের সময় থেমে থেমে কথা বলতেন। যেনো তা গ্রহণ করা শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয়। খুব দ্রুত কথা বলতেন না যেনো শিক্ষার্থীরা ঠিক বুঝে উঠতে না পারে আবার এতো ধীরেও বলতেন না যাতে কথার ছন্দ হারিয়ে যায়। বরং তিনি মধ্যম গতিতে থেমে থেমে পাঠ দান করতেন। হজরত আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা কী জানো- আজ কোন দিন? ...এটি কোন মাস? ...এটি কী জিলহজ নয়? ...এটি কোন শহর?’ -সহিহ বোখারি : ১৭৪১
    প্রতিটি প্রশ্নের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) চুপ থাকেন এবং সাহাবারা উত্তর দেন আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন।
    🔵 ভাষা ও দেহভাষার সমন্বয় : রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো বিষয়ে আলোচনা করলে, তার দেহাবয়বেও তার প্রভাব প্রতিফলিত হতো। তিনি দেহ-মনের সমন্বিত ভাষায় পাঠ দান করতেন। কারণ, এতে বিষয়ের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে শ্রোতা শিক্ষার্থীগণ সঠিক ধারণা লাভে সক্ষম হয় এবং বিষয়টি তার অন্তরে গেঁথে যায়। যেমন, তিনি যখন জান্নাতের কথা বলতেন, তখন তার দেহে আনন্দের স্ফূরণ দেখা যেতো। জাহান্নামের কথা বললে ভয়ে চেহারার রঙ বদলে যেতো। যখন কোনো অন্যায় ও অবিচার সম্পর্কে বলতেন, তার চেহারায় ক্রোধ প্রকাশ পেতো এবং কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যেতো। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) যখন বক্তব্য দিতেন- তার চোখ লাল হয়ে যেতো, আওয়াজ উঁচু হতো এবং ক্রোধ বৃদ্ধি পেতো। যেনো তিনি (শত্রু) সেনা সম্পর্কে সতর্ককারী।’ -সহিহ মুসলিম : ৪৩
    গল্প বলার মিষ্টি ভঙ্গি :
    গল্প-ইতিহাস জ্ঞানের সমৃদ্ধ এক ভাণ্ডার। শিক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষককে অনেক সময় গল্প-ইতিহাস বলতে হয়। রাসূল (সা.) ও পাঠদানের সময় গল্প বলতেন। তিনি গল্প বলতেন অত্যন্ত মিষ্টি করে। এমন মিষ্টি ভঙ্গি গল্প-ইতিহাস স্বপ্রাণ হয়ে উঠতো। জীবন্ত হয়ে উঠতো শ্রোতা-শিক্ষার্থীর সামনে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দোলনায় কথা বলেছে তিনজন। হজরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) ...। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি (মুগ্ধ হয়ে) রাসূল (সা.)-এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তিনি আমাকে শিশুদের কাজ সম্পর্কে বলছিলেন। তিনি তার মুখে আঙুল রাখলেন। এবং তাতে চুমু খেলেন।’ -মুসনাদে আহমদ : ৮০৭১
    অর্থাৎ তিনি শিশুদের মতো ঠোঁট গোল করে তাতে আঙুল ঠেকালেন।
    🔵 শিক্ষার্থীর নিকট প্রশ্ন করা : রাসূল (সা.) পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের নিকট প্রশ্ন করতেন। যেনো তারা প্রশ্ন করতে এবং তার উত্তর খুঁজতে অভ্যস্ত হয়। কেননা নিত্যনতুন প্রশ্ন শিক্ষার্থীকে নিত্যনতুন জ্ঞান অনুসন্ধানে উৎসাহী করে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করেন, হে মুয়াজ! তুমি কী জানো বান্দার নিকট আল্লাহর অধিকার কী? তিনি বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন। রাসূল (সা.) বলেন, তার ইবাদত করা এবং তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করা।’ -সহিহ বোখারি : ৭৩৭৩
    🔵বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা :
    বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকলে শিক্ষার্থী শ্রেণী কক্ষে অনেক বেশি মনোযোগী হয়। একাগ্র হয়ে শিক্ষকের আলোচনা শোনে। রাসূল (সা.) পাঠদানের সময় বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলতেন। হজরত সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) তাকে বলেন, ‘মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি তোমাদেরকে কোরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিক্ষা দেবো। তিনি বলেন, আমি যখন বের হওয়ার ইচ্ছে করলাম রাসূল (সা.) আমার হাত ধরে বললেন, তোমাকে বলিনি! মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কোরআনে সবচেয়ে মহান সূরা শিক্ষা দেবো। অতপর তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ -সহিহ বোখারি : ৪৪৭৪
    অর্থাৎ রাসূল (সা.) তাকে সূরা ফাতেহা শিক্ষা দেন।
    আগ্রহী শিক্ষার্থী নির্বাচন : রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষ বিশেষ শিক্ষাদানের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থী নির্বাচন করতেন। যেনো শেখানো বিষয়টি দ্রুত ও ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, আমার উম্মতের মধ্য থেকে কে পাঁচটি গুণ ধারণ করবে এবং তার ওপর আমল করবে? তিনি বলেন, আমি বলি, আমি হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং হাতে পাঁচটি বিষয় গণনা করলেন। -মুসনাদে আহমদ : ৮০৯৫
    🔵উপমা দিয়ে বোঝানো :
    নবী করিম (সা.) অনেক সময় কোনো বিষয় স্পষ্ট করার জন্য উপমা ও উদাহরণ পেশ করতেন। কেননা উপমা ও উদাহরণ দিলে যে কোনো বিষয় বোঝা সহজ হয়ে যায়। হজরত সাহাল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি ও এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এমনভাবে অবস্থান করবো। হজরত সাহাল (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) তার শাহাদত ও মধ্যমা আঙুলের প্রতি ইঙ্গিত করেন।’ -সহিহ বোখারি : ৬০০৫
    🔵 শিক্ষার্থীর প্রশ্নগ্রহণ এবং প্রশ্নের জন্য প্রসংশা করা : শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের আলোচনা শুনে শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এসব প্রশ্নের সমাধান না পেলে অনেক সময় পুরো বিষয়টিই শিক্ষার্থীর নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়। সে পাঠের পাঠোদ্ধার করতে পারে না। আর প্রশ্নের উত্তর দিলে বিষয়টি যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি শিক্ষার্থী জ্ঞানার্জনে আরো আগ্রহী হয়। রাসূল (সা.) শিক্ষাদানের সময় শিক্ষার্থীর প্রশ্ন গ্রহণ করতেন এবং প্রশ্ন করার জন্য কখনো কখনো প্রশ্নকারীর প্রসংশাও করতেন। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। ‘এক ব্যক্তি রাসূল (সা.) কে প্রশ্ন করে, আমাকে বলুন! কোন জিনিস আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে এবং কোন জিনিস জাহান্নাম থেকে দূরে সড়িয়ে নিবে। নবী করিম (সা.) থামলেন এবং তার সাহাবাদের দিকে তাকালেন। অতপর বললেন, তাকে তওফিক দেওয়া হয়েছে বা তাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে।’ –সহিহ মুসলিম : ১২
    লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, রাসূল (সা.) প্রশ্নটি শুনেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেননি। বরং তিনি চুপ থাকেন এবং সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং প্রশ্নকারীর প্রশংসা করেন। যাতে প্রশ্নটির ব্যাপারে সকলের মনোযোগ সৃষ্টি হয় এবং সকলেই উপকৃত হতে পারে।
    আমলের মাধ্যমে শিক্ষাদান :
    শিক্ষার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো প্রাক্টিক্যাল বা প্রয়োগিক শিক্ষা। রাসূল (সা.) অধিকাংশ বিষয় নিজে আমল করে সাহাবিদের শেখাতেন। শেখাতেন হাতে-কলমে। এজন্য হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো কোরআন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় কর, যেমন আমাকে আদায় করতে দেখো।’ -সুনানে বায়হাকি : ৩৬৭২
    🔵 বিবেকের মুখোমুখি করা : বিবেক মানুষের বড় রক্ষক। বিবেক জাগ্রত থাকলে মানুষ নানা অপরাধ থেকে বেঁচে যায় এবং বিবেকলুপ্ত হলে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার একটি সহজ উপায় হলো- মানুষের বিবেক ও মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তোলা। রাসূল (সা.) বিবেক ও মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তোলার মাধ্যমেও মানুষকে শিক্ষাদান করেছেন। যেমন- এক যুবক রাসূল (সা.) কে বললো। হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দিন। তার কথা শুনে উপস্থিত লোকেরা মারমুখি হয়ে উঠলো এবং তিরস্কার করলো। রাসূল (সা.) তাকে কাছে ডেকে নিলেন এবং বললেন, তুমি কী তোমার মায়ের ব্যাপারে এমনটি পছন্দ কর? সে বললো, আল্লাহর শপথ না। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। রাসূল (সা.) বললেন, কেউ তার মায়ের ব্যাপারে এমন পছন্দ করে না। এরপর রাসূল (সা.) একে একে তার সব নিকট নারী আত্মীয়ের কথা উল্লেখ করেন এবং সে না উত্তর দেয়। এভাবে রাসূল (সা.) তার বিবেক জাগ্রত করে তোলেন। -মুসনাদে আহমদ : ২২২১১
    🔵 রেখাচিত্রের সাহায্যে স্পষ্ট করা : কখনো কখনো কোনো বিষয়কে স্পষ্ট করার জন্য রাসূল (সা.) রেখাচিত্র ও অঙ্কনের সাহায্য নিতেন। যেনো শ্রোতা ও শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে তা রেখাপাত করে। হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) একটি চারকোণা দাগ দিলেন। তার মাঝ বরাবর দাগ দিলেন। যা তা থেকে বের হয়ে গেছে। বের হয়ে যাওয়া দাগটির পাশে এবং চতুষ্কোণের ভেতরে ছোট ছোট কিছু দাগ দিলেন। তিনি বললেন, এটি মানুষ। চতুষ্কোণের ভেতরের অংশ তার জীবন এবং দাগের যে অংশ বের হয়ে গেছে সেটি তার আশা।’ -সহিহ বোখারি : ৬৪১৭
    এভাবে রাসূল (সা.) রেখাচিত্রের সাহায্যে মানুষের জীবন ও জীবনের সীমাবদ্ধতার বিষয় স্পষ্ট করে তুললেন।
    🔵বার বার পাঠে উদ্বুদ্ধকরণ : রাসূলে আকরাম (সা.) শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্মৃতিশক্তির ওপর নির্ভর না করে বার বার পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন; বরং বার বার পাঠ করে কঠিন বিষয়কে আয়ত্ব করতে বলতেন। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা কোরআনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হও। সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার জীবন তা উটের চেয়ে দ্রুত স্মৃতি থেকে পলায়ন করে।’ –সহিহ বোখারি : ৫০৩৩
    আশা ও ভয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি :
    রাসূলে আকরাম (সা.) শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের অনাগত জীবন সম্পর্কে যেমন আশাবাদী করে তুলতেন, তেমনি তার চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেন। যেমন- হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) একটি ভাষণ দিলেন। আমি এমন ভাষণ আর শুনিনি। তিনি বলেন, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে অল্প হাসতে এবং বেশি কাঁদতে।’ -সহিহ বোখারি : ৪৬২১
    হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বললো এবং তার ওপর মৃত্যুবরণ করলো, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে? রাসূল (সা.) বলেন, হ্যাঁ। যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে।’ -সহিহ বোখারি : ৫৪২৭
    🔵 মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষাদান : মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বহু জটিল ও দুর্বোধ্য বিষয় সহজ হয়ে যায় এবং উত্তম সমাধান পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বহু বিষয় মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষাদান করতেন। সমাধান বের করতেন। যেমন, হুনায়নের যুদ্ধের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন নিয়ে আনসার সাহাবায়ে কেরামের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিলে রাসূল (সা.) তাদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা করেন। একইভাবে বদর যুদ্ধের বন্দিদের ব্যাপারে সাহাবিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম
    🔵 গুরুত্বপূর্ণ কথার পুনরাবৃত্তি : রাসূল (সা.) তার পাঠদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিন বার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) তার কথাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যেনো তা ভালোভাবে বোঝা যায়।’ -শামায়েলে তিরমিজি : ২২২
    ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষাদান :
    রাসূলুল্লাহ (সা.) ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতেন। হজরত আবু মাসউদ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট অভিযোগ করে যে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারি না। কারণ অমুক ব্যক্তি নামাজ দীর্ঘায়িত করে ফেলে। আমি উপদেশ বক্তৃতায় রাসূল (সা.) কে সেদিনের তুলনায় আর কোনোদিন বেশি রাগ হতে দেখিনি। রাসূল (সা.) বলেন, ‘হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমরা অনীহা সৃষ্টিকারী। সুতরাং যে মানুষ নিয়ে (জামাতে) নামাজ আদায় করবে, সে তা যেনো হাল্কা করে (দীর্ঘ না করে)। কেননা তাদের মধ্যে অসুস্থ্য, দুর্বল ও জুল-হাজাহ (ব্যস্ত) মানুষ রয়েছে। -সহিহ বোখারি : ৯০
    🔵 শাস্তিদানের মাধ্যমে সংশোধন : গুরুতর অপরাধের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো তার শিষ্য ও শিক্ষার্থীদের শাস্তি প্রদান করে সংশোধন করতেন। তবে রাসূল (সা.) অধিকাংশ সময় শারীরিক শাস্তি এড়িয়ে যেতেন। ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতেন। যেমন উপযুক্ত কারণ ব্যতীত তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় হজরত কাব ইবনে মালেক (রা.) সহ কয়েকজনের সঙ্গে রাসূল (সা.) কথা বলা বন্ধ করে দেন। যা শারীরিক শাস্তির তুলনায় অনেক বেশি ফলপ্রসূ ছিলো।
    রাসূল (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতির সামান্য কিছু দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা হলো। এ বিষয়ে প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের দীর্ঘ কলেবরের স্বতন্ত্র বই রয়েছে।
    শিক্ষাদান পদ্ধতিতে রাসূল (সা.)-এর সাফল্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত থেকে। তাহলো, ‘স্মরণ করো! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। যখন তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু। অতপর আল্লাহতায়ালা তোমাদের অন্তরে ভালোবাসা সঞ্চার করলেন। তার অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাইয়ে পরিণত হলে। প্রকৃতার্থে তোমরা অবস্থান করছিলে অগ্নিকুণ্ডের প্রান্ত সীমায়। অতপর আল্লাহ তোমাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করলেন। এভাবে আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য তার নিদর্শন স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পাও। -সূরা আল ইমরান : ১০৩
    অর্থাৎ রাসূল (সা.) পতন্মুখ একটি জাতিকে তার কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করান। তার শিক্ষা ও সাফল্য শুধু ইহকালীন সাফল্য বয়ে আনেনি; বরং তার পরিব্যপ্তি ছিলো পরকালীন জীবন পর্যন্ত। সুতরাং মুসলিম উম্মাহকে যদি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে হয় এবং উভয় জগতের সাফল্য অর্জন করতে হয়, তবে অবশ্যই রাসূল (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
    (Collected)
    ✅রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি: পড়, তোমার প্রভুর নামে। শিক্ষার এই মহান বাণী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো শিক্ষা ও উন্নয়নের ধর্ম ইসলাম। নবী মুহাম্মদ (সা.) সূচনা করে ছিলেন তার নবুওয়তি জীবনের। একটি সভ্য ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে আল্লাহতায়ালা যুগে যুগে মানব জাতির শিক্ষকরূপে নবীদেরকে প্রেরণ করেন। প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব নবীই ছিলেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত এবং সু-শিক্ষার ধারক ও বাহক। মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সে ধারার সর্বশেষ ও সর্বোত্তম প্রেরিত পুরুষ। তার মাধ্যমে ঐশী শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে। তিনি তার কার্যকর ও বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি ও পদ্ধতির মাধ্যমে আরবের মূর্খ ও বর্বর একটি জাতিকে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করান এবং ইসলামের মহান বার্তা ছড়িয়ে দেন পৃথিবীর আনাচে কানাচে। হজরত রাসূল (সা.)-এর শিক্ষা মিশন সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বলেন, ‘তিনিই সেই পবিত্র সত্ত্বা। যিনি নিরক্ষর লোকদের মধ্য থেকে একজনকে নবী করে পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে তার আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনাবেন, তাদেরকে পবিত্র করবেন, তাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও প্রজ্ঞা। যদিও ইতোপূর্বে তারা ভ্রান্তিতে (অজ্ঞতায়) মগ্ন ছিলো।’ -সূরা জুমা : ০২ তিনি নিজেই বলেন, ‘নিশ্চয় আমি শিক্ষকরূপে প্রেরিত হয়েছি।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ : ২২৯ তার অনুপম শিক্ষানীতি ও পদ্ধতিতে মুগ্ধ ছিলেন তার পুণ্যাত্মা সাহাবি ও শিষ্যগণ। হজরত মুয়াবিয়া (রা.) বলেন, ‘তার জন্য আমার বাবা ও মা উৎসর্গিত হোক। আমি তার পূর্বে ও পরে তার চেয়ে উত্তম কোনো শিক্ষক দেখিনি। আল্লাহর শপথ! তিনি কখনো কঠোরতা করেননি, কখনো প্রহার করেননি, কখনো গালমন্দ করেননি।’ -সহিহ মুসলিম আর কেনোই বা তিনি শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক হবেন না, যখন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা তাকে সর্বোত্তম শিক্ষা ও শিষ্টাচার শিখিয়েছেন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমাকে আমার প্রভু শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং আমাকে তিনি সর্বোত্তম শিক্ষা দিয়েছেন। আমার প্রভু আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন সুতরাং তিনি সর্বোত্তম শিষ্টাচার শিখিয়েছেন।’ তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য সর্বোত্তম শিক্ষকের শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নিম্নে রাসূল (সা.)-এর অনুসৃত কয়েকটি শিক্ষাপদ্ধতি তুলে ধরা হলো। 🔵উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষাদান : শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কোলাহলপূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিবেশ শিক্ষার বিষয় ও শিক্ষক উভয়ের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অপেক্ষা করতেন। হজরত জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। ‘নিশ্চয় বিদায় হজের সময় রাসূল (সা.) তাকে বলেন, মানুষকে চুপ করতে বল। অতপর তিনি বলেন, আমার পর তোমরা কুফরিতে ফিরে যেয়ো না ......।’ -সহিহ বোখারি : ৭০৮০ অর্থাৎ রাসূল (সা.) শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে স্থির হওয়ার এবং মনোসংযোগ স্থাপনের সুযোগ দিতেন। অতপর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে শিক্ষাদান শুরু করতেন। 🔵থেমে থেমে পাঠদান : রাসূলুল্লাহ (সা.) পাঠদানের সময় থেমে থেমে কথা বলতেন। যেনো তা গ্রহণ করা শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয়। খুব দ্রুত কথা বলতেন না যেনো শিক্ষার্থীরা ঠিক বুঝে উঠতে না পারে আবার এতো ধীরেও বলতেন না যাতে কথার ছন্দ হারিয়ে যায়। বরং তিনি মধ্যম গতিতে থেমে থেমে পাঠ দান করতেন। হজরত আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা কী জানো- আজ কোন দিন? ...এটি কোন মাস? ...এটি কী জিলহজ নয়? ...এটি কোন শহর?’ -সহিহ বোখারি : ১৭৪১ প্রতিটি প্রশ্নের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) চুপ থাকেন এবং সাহাবারা উত্তর দেন আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন। 🔵 ভাষা ও দেহভাষার সমন্বয় : রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো বিষয়ে আলোচনা করলে, তার দেহাবয়বেও তার প্রভাব প্রতিফলিত হতো। তিনি দেহ-মনের সমন্বিত ভাষায় পাঠ দান করতেন। কারণ, এতে বিষয়ের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে শ্রোতা শিক্ষার্থীগণ সঠিক ধারণা লাভে সক্ষম হয় এবং বিষয়টি তার অন্তরে গেঁথে যায়। যেমন, তিনি যখন জান্নাতের কথা বলতেন, তখন তার দেহে আনন্দের স্ফূরণ দেখা যেতো। জাহান্নামের কথা বললে ভয়ে চেহারার রঙ বদলে যেতো। যখন কোনো অন্যায় ও অবিচার সম্পর্কে বলতেন, তার চেহারায় ক্রোধ প্রকাশ পেতো এবং কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে যেতো। হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) যখন বক্তব্য দিতেন- তার চোখ লাল হয়ে যেতো, আওয়াজ উঁচু হতো এবং ক্রোধ বৃদ্ধি পেতো। যেনো তিনি (শত্রু) সেনা সম্পর্কে সতর্ককারী।’ -সহিহ মুসলিম : ৪৩ গল্প বলার মিষ্টি ভঙ্গি : গল্প-ইতিহাস জ্ঞানের সমৃদ্ধ এক ভাণ্ডার। শিক্ষার প্রয়োজনে শিক্ষককে অনেক সময় গল্প-ইতিহাস বলতে হয়। রাসূল (সা.) ও পাঠদানের সময় গল্প বলতেন। তিনি গল্প বলতেন অত্যন্ত মিষ্টি করে। এমন মিষ্টি ভঙ্গি গল্প-ইতিহাস স্বপ্রাণ হয়ে উঠতো। জীবন্ত হয়ে উঠতো শ্রোতা-শিক্ষার্থীর সামনে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দোলনায় কথা বলেছে তিনজন। হজরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.) ...। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি (মুগ্ধ হয়ে) রাসূল (সা.)-এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তিনি আমাকে শিশুদের কাজ সম্পর্কে বলছিলেন। তিনি তার মুখে আঙুল রাখলেন। এবং তাতে চুমু খেলেন।’ -মুসনাদে আহমদ : ৮০৭১ অর্থাৎ তিনি শিশুদের মতো ঠোঁট গোল করে তাতে আঙুল ঠেকালেন। 🔵 শিক্ষার্থীর নিকট প্রশ্ন করা : রাসূল (সা.) পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের নিকট প্রশ্ন করতেন। যেনো তারা প্রশ্ন করতে এবং তার উত্তর খুঁজতে অভ্যস্ত হয়। কেননা নিত্যনতুন প্রশ্ন শিক্ষার্থীকে নিত্যনতুন জ্ঞান অনুসন্ধানে উৎসাহী করে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করেন, হে মুয়াজ! তুমি কী জানো বান্দার নিকট আল্লাহর অধিকার কী? তিনি বলেন, আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন। রাসূল (সা.) বলেন, তার ইবাদত করা এবং তার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করা।’ -সহিহ বোখারি : ৭৩৭৩ 🔵বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা : বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকলে শিক্ষার্থী শ্রেণী কক্ষে অনেক বেশি মনোযোগী হয়। একাগ্র হয়ে শিক্ষকের আলোচনা শোনে। রাসূল (সা.) পাঠদানের সময় বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলতেন। হজরত সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) তাকে বলেন, ‘মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমি তোমাদেরকে কোরআনের সবচেয়ে মহান সূরাটি শিক্ষা দেবো। তিনি বলেন, আমি যখন বের হওয়ার ইচ্ছে করলাম রাসূল (সা.) আমার হাত ধরে বললেন, তোমাকে বলিনি! মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কোরআনে সবচেয়ে মহান সূরা শিক্ষা দেবো। অতপর তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ -সহিহ বোখারি : ৪৪৭৪ অর্থাৎ রাসূল (সা.) তাকে সূরা ফাতেহা শিক্ষা দেন। আগ্রহী শিক্ষার্থী নির্বাচন : রাসূলুল্লাহ (সা.) বিশেষ বিশেষ শিক্ষাদানের জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থী নির্বাচন করতেন। যেনো শেখানো বিষয়টি দ্রুত ও ভালোভাবে বাস্তবায়িত হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, আমার উম্মতের মধ্য থেকে কে পাঁচটি গুণ ধারণ করবে এবং তার ওপর আমল করবে? তিনি বলেন, আমি বলি, আমি হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি আমার হাত ধরলেন এবং হাতে পাঁচটি বিষয় গণনা করলেন। -মুসনাদে আহমদ : ৮০৯৫ 🔵উপমা দিয়ে বোঝানো : নবী করিম (সা.) অনেক সময় কোনো বিষয় স্পষ্ট করার জন্য উপমা ও উদাহরণ পেশ করতেন। কেননা উপমা ও উদাহরণ দিলে যে কোনো বিষয় বোঝা সহজ হয়ে যায়। হজরত সাহাল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি ও এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এমনভাবে অবস্থান করবো। হজরত সাহাল (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) তার শাহাদত ও মধ্যমা আঙুলের প্রতি ইঙ্গিত করেন।’ -সহিহ বোখারি : ৬০০৫ 🔵 শিক্ষার্থীর প্রশ্নগ্রহণ এবং প্রশ্নের জন্য প্রসংশা করা : শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের আলোচনা শুনে শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। এসব প্রশ্নের সমাধান না পেলে অনেক সময় পুরো বিষয়টিই শিক্ষার্থীর নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়। সে পাঠের পাঠোদ্ধার করতে পারে না। আর প্রশ্নের উত্তর দিলে বিষয়টি যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি শিক্ষার্থী জ্ঞানার্জনে আরো আগ্রহী হয়। রাসূল (সা.) শিক্ষাদানের সময় শিক্ষার্থীর প্রশ্ন গ্রহণ করতেন এবং প্রশ্ন করার জন্য কখনো কখনো প্রশ্নকারীর প্রসংশাও করতেন। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। ‘এক ব্যক্তি রাসূল (সা.) কে প্রশ্ন করে, আমাকে বলুন! কোন জিনিস আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে এবং কোন জিনিস জাহান্নাম থেকে দূরে সড়িয়ে নিবে। নবী করিম (সা.) থামলেন এবং তার সাহাবাদের দিকে তাকালেন। অতপর বললেন, তাকে তওফিক দেওয়া হয়েছে বা তাকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে।’ –সহিহ মুসলিম : ১২ লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, রাসূল (সা.) প্রশ্নটি শুনেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেননি। বরং তিনি চুপ থাকেন এবং সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং প্রশ্নকারীর প্রশংসা করেন। যাতে প্রশ্নটির ব্যাপারে সকলের মনোযোগ সৃষ্টি হয় এবং সকলেই উপকৃত হতে পারে। আমলের মাধ্যমে শিক্ষাদান : শিক্ষার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো প্রাক্টিক্যাল বা প্রয়োগিক শিক্ষা। রাসূল (সা.) অধিকাংশ বিষয় নিজে আমল করে সাহাবিদের শেখাতেন। শেখাতেন হাতে-কলমে। এজন্য হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো কোরআন। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় কর, যেমন আমাকে আদায় করতে দেখো।’ -সুনানে বায়হাকি : ৩৬৭২ 🔵 বিবেকের মুখোমুখি করা : বিবেক মানুষের বড় রক্ষক। বিবেক জাগ্রত থাকলে মানুষ নানা অপরাধ থেকে বেঁচে যায় এবং বিবেকলুপ্ত হলে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার একটি সহজ উপায় হলো- মানুষের বিবেক ও মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তোলা। রাসূল (সা.) বিবেক ও মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তোলার মাধ্যমেও মানুষকে শিক্ষাদান করেছেন। যেমন- এক যুবক রাসূল (সা.) কে বললো। হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দিন। তার কথা শুনে উপস্থিত লোকেরা মারমুখি হয়ে উঠলো এবং তিরস্কার করলো। রাসূল (সা.) তাকে কাছে ডেকে নিলেন এবং বললেন, তুমি কী তোমার মায়ের ব্যাপারে এমনটি পছন্দ কর? সে বললো, আল্লাহর শপথ না। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। রাসূল (সা.) বললেন, কেউ তার মায়ের ব্যাপারে এমন পছন্দ করে না। এরপর রাসূল (সা.) একে একে তার সব নিকট নারী আত্মীয়ের কথা উল্লেখ করেন এবং সে না উত্তর দেয়। এভাবে রাসূল (সা.) তার বিবেক জাগ্রত করে তোলেন। -মুসনাদে আহমদ : ২২২১১ 🔵 রেখাচিত্রের সাহায্যে স্পষ্ট করা : কখনো কখনো কোনো বিষয়কে স্পষ্ট করার জন্য রাসূল (সা.) রেখাচিত্র ও অঙ্কনের সাহায্য নিতেন। যেনো শ্রোতা ও শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে তা রেখাপাত করে। হজরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) একটি চারকোণা দাগ দিলেন। তার মাঝ বরাবর দাগ দিলেন। যা তা থেকে বের হয়ে গেছে। বের হয়ে যাওয়া দাগটির পাশে এবং চতুষ্কোণের ভেতরে ছোট ছোট কিছু দাগ দিলেন। তিনি বললেন, এটি মানুষ। চতুষ্কোণের ভেতরের অংশ তার জীবন এবং দাগের যে অংশ বের হয়ে গেছে সেটি তার আশা।’ -সহিহ বোখারি : ৬৪১৭ এভাবে রাসূল (সা.) রেখাচিত্রের সাহায্যে মানুষের জীবন ও জীবনের সীমাবদ্ধতার বিষয় স্পষ্ট করে তুললেন। 🔵বার বার পাঠে উদ্বুদ্ধকরণ : রাসূলে আকরাম (সা.) শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্মৃতিশক্তির ওপর নির্ভর না করে বার বার পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন; বরং বার বার পাঠ করে কঠিন বিষয়কে আয়ত্ব করতে বলতেন। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা কোরআনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হও। সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার জীবন তা উটের চেয়ে দ্রুত স্মৃতি থেকে পলায়ন করে।’ –সহিহ বোখারি : ৫০৩৩ আশা ও ভয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি : রাসূলে আকরাম (সা.) শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের অনাগত জীবন সম্পর্কে যেমন আশাবাদী করে তুলতেন, তেমনি তার চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেন। যেমন- হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) একটি ভাষণ দিলেন। আমি এমন ভাষণ আর শুনিনি। তিনি বলেন, আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে অল্প হাসতে এবং বেশি কাঁদতে।’ -সহিহ বোখারি : ৪৬২১ হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ বললো এবং তার ওপর মৃত্যুবরণ করলো, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে? রাসূল (সা.) বলেন, হ্যাঁ। যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে।’ -সহিহ বোখারি : ৫৪২৭ 🔵 মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষাদান : মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বহু জটিল ও দুর্বোধ্য বিষয় সহজ হয়ে যায় এবং উত্তম সমাধান পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বহু বিষয় মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষাদান করতেন। সমাধান বের করতেন। যেমন, হুনায়নের যুদ্ধের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন নিয়ে আনসার সাহাবায়ে কেরামের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিলে রাসূল (সা.) তাদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা করেন। একইভাবে বদর যুদ্ধের বন্দিদের ব্যাপারে সাহাবিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম 🔵 গুরুত্বপূর্ণ কথার পুনরাবৃত্তি : রাসূল (সা.) তার পাঠদানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তিন বার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) তার কথাকে তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যেনো তা ভালোভাবে বোঝা যায়।’ -শামায়েলে তিরমিজি : ২২২ ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষাদান : রাসূলুল্লাহ (সা.) ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শ্রোতা ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতেন। হজরত আবু মাসউদ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট অভিযোগ করে যে, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারি না। কারণ অমুক ব্যক্তি নামাজ দীর্ঘায়িত করে ফেলে। আমি উপদেশ বক্তৃতায় রাসূল (সা.) কে সেদিনের তুলনায় আর কোনোদিন বেশি রাগ হতে দেখিনি। রাসূল (সা.) বলেন, ‘হে লোক সকল! নিশ্চয় তোমরা অনীহা সৃষ্টিকারী। সুতরাং যে মানুষ নিয়ে (জামাতে) নামাজ আদায় করবে, সে তা যেনো হাল্কা করে (দীর্ঘ না করে)। কেননা তাদের মধ্যে অসুস্থ্য, দুর্বল ও জুল-হাজাহ (ব্যস্ত) মানুষ রয়েছে। -সহিহ বোখারি : ৯০ 🔵 শাস্তিদানের মাধ্যমে সংশোধন : গুরুতর অপরাধের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো তার শিষ্য ও শিক্ষার্থীদের শাস্তি প্রদান করে সংশোধন করতেন। তবে রাসূল (সা.) অধিকাংশ সময় শারীরিক শাস্তি এড়িয়ে যেতেন। ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতেন। যেমন উপযুক্ত কারণ ব্যতীত তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় হজরত কাব ইবনে মালেক (রা.) সহ কয়েকজনের সঙ্গে রাসূল (সা.) কথা বলা বন্ধ করে দেন। যা শারীরিক শাস্তির তুলনায় অনেক বেশি ফলপ্রসূ ছিলো। রাসূল (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতির সামান্য কিছু দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা হলো। এ বিষয়ে প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের দীর্ঘ কলেবরের স্বতন্ত্র বই রয়েছে। শিক্ষাদান পদ্ধতিতে রাসূল (সা.)-এর সাফল্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত থেকে। তাহলো, ‘স্মরণ করো! তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। যখন তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু। অতপর আল্লাহতায়ালা তোমাদের অন্তরে ভালোবাসা সঞ্চার করলেন। তার অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাইয়ে পরিণত হলে। প্রকৃতার্থে তোমরা অবস্থান করছিলে অগ্নিকুণ্ডের প্রান্ত সীমায়। অতপর আল্লাহ তোমাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করলেন। এভাবে আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য তার নিদর্শন স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পাও। -সূরা আল ইমরান : ১০৩ অর্থাৎ রাসূল (সা.) পতন্মুখ একটি জাতিকে তার কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করান। তার শিক্ষা ও সাফল্য শুধু ইহকালীন সাফল্য বয়ে আনেনি; বরং তার পরিব্যপ্তি ছিলো পরকালীন জীবন পর্যন্ত। সুতরাং মুসলিম উম্মাহকে যদি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে হয় এবং উভয় জগতের সাফল্য অর্জন করতে হয়, তবে অবশ্যই রাসূল (সা.)-এর শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। (Collected)
    2
    0 Comments 0 Shares
  • ১। হিটলার, একজন অমুসলিম । ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিলো । মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খৃষ্টান সন্ত্রাসী!

    ২। জোসেফ স্ট্যালিন, একজন অমুসলিম। সে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে, এবং ১৪.৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খৃষ্টান সন্ত্রাসী!

    ৩। মাও সে তুং একজন অমুসলিম। ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে বৌদ্ধ সন্ত্রাসী!

    ৪ । মুসলিনী (ইটালী) ৪ লাখ মানুষ হত্যা করেছে! সে কি মুসলিম ছিল অন্ধ মিডিয়া একবারো বলে নাই খৃষ্টান সন্ত্রাসী!

    ৫ । অশোকা (কালিঙ্গা বেটল) ১লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে হিন্দু সন্ত্রাসী!

    ৬ । আর জজ বুশ ইরাকে, আফগানিস্থানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া তো বলে নাই, খৃষ্টান সন্ত্রাসী!

    ৭ । এখনো মায়ানমারে প্রতিদিন মুসলিম রোহিঙ্গাদের খুন, ধর্ষন,
    লুটপাট, উচ্ছেদ করছে! তবুও কোনো মিডিয়া বলে না বৌদ্ধরা সন্ত্রাসী ইতিহাস সাক্ষী পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় বড় গনহত্যা করেছে অমুসলিমরা। আর এরাই দিন রাত গণতন্ত্র জপে মুখে ফেনা তুলে ! অথচ এদের দ্বারাই মানবতা লুন্ঠিত !



    এবার আসুন একটু হিসাব মিলাই:
    -------------------------------------------------
    ক। যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ?
    খ। যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ?
    গ। যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
    ঘ। যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ?
    ঙ। যারা আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য, উত্তর আমেরিকাতে ১০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিন আমেরিকাতে ৫০ মিলিয়ন রেড- ইন্ডিয়ানকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
    চ। যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিল । যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা গিয়েছিল এবং তাদের মৃত দেহকে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তারা কি মুসলিম ছিল?
    ছ। এখন হিন্দু ইন্ডিয়ান মোদী সরকার কাশ্মীরি হাজার হাজার মুসলিমদের হত্যা করেই যাচ্ছে! কই তাকেও তো বলছেনা হিন্দু সন্ত্রাসী! এখন বলেন সন্ত্রাস কারা? অশান্তি সৃষ্টির কারিগর করা? বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী কারা? (Collected)
    ১। হিটলার, একজন অমুসলিম । ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিলো । মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খৃষ্টান সন্ত্রাসী! ২। জোসেফ স্ট্যালিন, একজন অমুসলিম। সে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে, এবং ১৪.৫ মিলিয়ন মানুষ অসুস্থ হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে খৃষ্টান সন্ত্রাসী! ৩। মাও সে তুং একজন অমুসলিম। ১৪ থেকে ২০ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে বৌদ্ধ সন্ত্রাসী! ৪ । মুসলিনী (ইটালী) ৪ লাখ মানুষ হত্যা করেছে! সে কি মুসলিম ছিল অন্ধ মিডিয়া একবারো বলে নাই খৃষ্টান সন্ত্রাসী! ৫ । অশোকা (কালিঙ্গা বেটল) ১লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া একবারও তাকে বলেনি সে হিন্দু সন্ত্রাসী! ৬ । আর জজ বুশ ইরাকে, আফগানিস্থানে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ হত্যা করেছে! মিডিয়া তো বলে নাই, খৃষ্টান সন্ত্রাসী! ৭ । এখনো মায়ানমারে প্রতিদিন মুসলিম রোহিঙ্গাদের খুন, ধর্ষন, লুটপাট, উচ্ছেদ করছে! তবুও কোনো মিডিয়া বলে না বৌদ্ধরা সন্ত্রাসী ইতিহাস সাক্ষী পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় বড় গনহত্যা করেছে অমুসলিমরা। আর এরাই দিন রাত গণতন্ত্র জপে মুখে ফেনা তুলে ! অথচ এদের দ্বারাই মানবতা লুন্ঠিত ! এবার আসুন একটু হিসাব মিলাই: ------------------------------------------------- ক। যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ? খ। যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ? গ। যারা অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল? ঘ। যারা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল ? ঙ। যারা আমেরিকা আবিষ্কারের পর নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য, উত্তর আমেরিকাতে ১০০ মিলিয়ন এবং দক্ষিন আমেরিকাতে ৫০ মিলিয়ন রেড- ইন্ডিয়ানকে হত্যা করেছিল, তারা কি মুসলিম ছিল? চ। যারা ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকান কালো মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে আমেরিকা নিয়ে গিয়েছিল । যাদের ৮৮ ভাগ সমুদ্রেই মারা গিয়েছিল এবং তাদের মৃত দেহকে আটলান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তারা কি মুসলিম ছিল? ছ। এখন হিন্দু ইন্ডিয়ান মোদী সরকার কাশ্মীরি হাজার হাজার মুসলিমদের হত্যা করেই যাচ্ছে! কই তাকেও তো বলছেনা হিন্দু সন্ত্রাসী! এখন বলেন সন্ত্রাস কারা? অশান্তি সৃষ্টির কারিগর করা? বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী কারা? (Collected)
    3
    0 Comments 0 Shares
  • হিন্দি গান শুনতে নিষেধ করলে তো নানা যুক্তি দেখান।।
    কিন্তু এই গানগুলো আপনার ঈমানকে শেষ করে দিচ্ছে না তো??
    কয়েকটা হিন্দি গানের অংশবিশেষ অর্থসহ দিলাম।
    আগে পড়ুন। যদি হৃদয়ে ঈমানের ছিটে ফোঁটাও থেকে থাকে তাহলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আমার আজকের এই পোস্টের উদ্দেশ্যটা কি...
    🚫Tu hi meri shab hai, subah hai,
    tu hi din hai mera, tu hi mera rab hai,
    jahaan hai,
    tu hi meri duniya
    তুমি আমার সবকিছু, আমার সুর্যোদয় তুমি,
    দিন তুমি, তুমি আমার রব,
    আমার পৃথিবী,
    আমার দুনিয়া তুমি
    🚫Tu Hi Ab Mera Deen Hai, Imaan Hai,
    Rab Ka Shukrana
    Mera Kalma Hai Tu, Azaan Hai,
    Rab Ka Shukrana
    তুমিই এখন আমার দ্বীন, আমার ঈমান,
    খোদাকে তাই ধন্যবাদ
    আমার কালেমা তুমি, আযান তুমি,
    রবকে তাই ধন্যবাদ
    🚫Tujh mein rab dikhta hai, Yaara mein kya karu?
    Sajdhe sar jhukta hai, Yaara mein kya karu?
    তোমার মাঝেই রবকে খুঁজে পাই আমি, প্রিয়া আমি কি করবো? সিজদার জন্য মাথা ঝুঁকে যায়, প্রিয়া আমি কি করবো?
    🚫Khuda Jaane Ke Mein Fida Hoon
    Khuda Jaane Mein Mitt Gaya
    Khuda Jaane Yeh Kyun Hua Hai
    Ke Ban Gaye Ho Tum Mere Khuda
    খোদা জানে আমি প্রহৃত
    খোদা জানে আমি হারিয়ে গিয়েছি
    খোদা জানে এমন কেনো হয়েছে
    তুমি আজ হয়ে গিয়েছো আমারই খোদা
    🚫Tumhare siva kuch na chahat karenge
    Ke jab tak jeeyenge mohabbat karenge
    Saza rab joh dega woh manzoor humko
    Ke hum ab tumhari ibaadat karenge
    তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই চাইবো না
    আমি যতদিন বেঁচে থাকবো তোমাকেই ভালোবাসবো
    খোদার যেকোনো শাস্তি আমি নেবো
    এখন শুধু আমি তোমারই ইবাদত করবো
    🚫Dil mein tujhe bithake
    Kar lungi main band aankhen
    Pooja karungi teri
    Hoke rahungi teri
    আমি তোমাকে আমার হৃদয়ে রাখব
    এবং নিজের চোখ বন্ধ করবো
    তোমার পূজা করবো
    আমি তোমার হয়ে যাবো
    🚫Dil Mein Ho Tum, Aankho Mein Tum
    Bolo Tumhe Kaise Chahu
    Puja Karu, Sajda Karu
    Jaise Kaho Waise Chahu
    আমার হৃদয়ে তুমি, চোখে তুমি
    বলো তোমাকে কীভাবে চাইবো
    পূজা করবো, সিজদা করবো
    যেভাবে বলবে সেভাবে চাইবো
    🚫Vaaste Jaan Bhi Du
    Main Gawah Emaan Bhi Du
    Kismato Ka Likha Mod Du
    Badle Mein Main Tere
    Jo Khuda Khud Bhi De
    Jannate Sach Kahu Chhod Du
    তোমার জন্য জীবনও দিব
    ঈমানও বিসর্জন দিব
    ভাগ্যের লেখাও বদলে দিব
    তোমার বিনিময়ে
    খোদা নিজেও যা দেন
    সত্যি বলছি জান্নাতও ছেড়ে দিব
    🚫Tujhse mohabbat ho gayi
    Allah maaf kare
    Tauba Qayamat ho gayi
    Allah maaf kare
    Dekha tujhe toh saansein ruk gayi
    Sajde mein yeh aankhien jhuk gayi
    Teri ibadat ho gayi
    Allah maaf kare
    তোমার সাথে ভালোবাসা হয়ে গেছে,
    আল্লাহ যেন মাফ করে দেন।
    তওবা কিয়ামত হয়ে গেছে,
    আল্লাহ মাফ করেন যেন।
    তোমাকে দেখে শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম
    তোমার সেজদায় এই চোখ ঝুঁকে গেছে
    তোমার ইবাদত হয়ে গেছে আমার দ্বারা
    আল্লাহ যেন মাফ করে দেন।
    🚫God, Allah Aur Bhagwan ne
    banaya ik insaan.
    ঈশ্বর, আল্লাহ আর ভগবান
    মিলে বানিয়েছে এক মানুষ।
    এই গানগুলি একবার হলেও আওড়াননি এমন মানুষ মনে হয় খুব কমই আছে। অথচ এটা সুস্পষ্ট শিরক। আর শিরক এমন একটি অন্যায় যেটা করলে ঈমান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়, পূর্বের কৃত সকল আমল নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে জেনে, অনেকে না জেনে এসব হিন্দি গান গেয়ে প্রতিনিয়তই শিরক করে চলেছে।
    পৃথিবীর নানা দেশে নানা ভাষায় গান গাওয়া হয়। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি হিন্দুস্তানের গানের মত নিকৃষ্ট গান পৃথিবীর আর কোন দেশেই গাওয়া হয় না, কোন ভাষাতেই গাওয়া হয় না...
    আমেরিকা কিংবা ইউরোপের মানুষেরাও প্রেম করে, ইহুদী-খ্রিস্টান-নাস্তিকেরাও গান গায়, কিন্তু তাদেরকে আমি কখনোই দেখিনি প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে "You are my god"
    "I worship you" এজাতীয় গান গাইতে।
    এরকম আরো অনেক গান আছে যেগুলো আর বিভ্রান্তি কর।
    আল্লাহ আমাদের মুসলিমদের এসব ফিতনা থেকে হিফাজত করুন। আমীন।
    Collected.
    হিন্দি গান শুনতে নিষেধ করলে তো নানা যুক্তি দেখান।। কিন্তু এই গানগুলো আপনার ঈমানকে শেষ করে দিচ্ছে না তো?? কয়েকটা হিন্দি গানের অংশবিশেষ অর্থসহ দিলাম। আগে পড়ুন। যদি হৃদয়ে ঈমানের ছিটে ফোঁটাও থেকে থাকে তাহলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আমার আজকের এই পোস্টের উদ্দেশ্যটা কি... 🚫Tu hi meri shab hai, subah hai, tu hi din hai mera, tu hi mera rab hai, jahaan hai, tu hi meri duniya তুমি আমার সবকিছু, আমার সুর্যোদয় তুমি, দিন তুমি, তুমি আমার রব, আমার পৃথিবী, আমার দুনিয়া তুমি 🚫Tu Hi Ab Mera Deen Hai, Imaan Hai, Rab Ka Shukrana Mera Kalma Hai Tu, Azaan Hai, Rab Ka Shukrana তুমিই এখন আমার দ্বীন, আমার ঈমান, খোদাকে তাই ধন্যবাদ আমার কালেমা তুমি, আযান তুমি, রবকে তাই ধন্যবাদ 🚫Tujh mein rab dikhta hai, Yaara mein kya karu? Sajdhe sar jhukta hai, Yaara mein kya karu? তোমার মাঝেই রবকে খুঁজে পাই আমি, প্রিয়া আমি কি করবো? সিজদার জন্য মাথা ঝুঁকে যায়, প্রিয়া আমি কি করবো? 🚫Khuda Jaane Ke Mein Fida Hoon Khuda Jaane Mein Mitt Gaya Khuda Jaane Yeh Kyun Hua Hai Ke Ban Gaye Ho Tum Mere Khuda খোদা জানে আমি প্রহৃত খোদা জানে আমি হারিয়ে গিয়েছি খোদা জানে এমন কেনো হয়েছে তুমি আজ হয়ে গিয়েছো আমারই খোদা 🚫Tumhare siva kuch na chahat karenge Ke jab tak jeeyenge mohabbat karenge Saza rab joh dega woh manzoor humko Ke hum ab tumhari ibaadat karenge তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই চাইবো না আমি যতদিন বেঁচে থাকবো তোমাকেই ভালোবাসবো খোদার যেকোনো শাস্তি আমি নেবো এখন শুধু আমি তোমারই ইবাদত করবো 🚫Dil mein tujhe bithake Kar lungi main band aankhen Pooja karungi teri Hoke rahungi teri আমি তোমাকে আমার হৃদয়ে রাখব এবং নিজের চোখ বন্ধ করবো তোমার পূজা করবো আমি তোমার হয়ে যাবো 🚫Dil Mein Ho Tum, Aankho Mein Tum Bolo Tumhe Kaise Chahu Puja Karu, Sajda Karu Jaise Kaho Waise Chahu আমার হৃদয়ে তুমি, চোখে তুমি বলো তোমাকে কীভাবে চাইবো পূজা করবো, সিজদা করবো যেভাবে বলবে সেভাবে চাইবো 🚫Vaaste Jaan Bhi Du Main Gawah Emaan Bhi Du Kismato Ka Likha Mod Du Badle Mein Main Tere Jo Khuda Khud Bhi De Jannate Sach Kahu Chhod Du তোমার জন্য জীবনও দিব ঈমানও বিসর্জন দিব ভাগ্যের লেখাও বদলে দিব তোমার বিনিময়ে খোদা নিজেও যা দেন সত্যি বলছি জান্নাতও ছেড়ে দিব 🚫Tujhse mohabbat ho gayi Allah maaf kare Tauba Qayamat ho gayi Allah maaf kare Dekha tujhe toh saansein ruk gayi Sajde mein yeh aankhien jhuk gayi Teri ibadat ho gayi Allah maaf kare তোমার সাথে ভালোবাসা হয়ে গেছে, আল্লাহ যেন মাফ করে দেন। তওবা কিয়ামত হয়ে গেছে, আল্লাহ মাফ করেন যেন। তোমাকে দেখে শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম তোমার সেজদায় এই চোখ ঝুঁকে গেছে তোমার ইবাদত হয়ে গেছে আমার দ্বারা আল্লাহ যেন মাফ করে দেন। 🚫God, Allah Aur Bhagwan ne banaya ik insaan. ঈশ্বর, আল্লাহ আর ভগবান মিলে বানিয়েছে এক মানুষ। এই গানগুলি একবার হলেও আওড়াননি এমন মানুষ মনে হয় খুব কমই আছে। অথচ এটা সুস্পষ্ট শিরক। আর শিরক এমন একটি অন্যায় যেটা করলে ঈমান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়, পূর্বের কৃত সকল আমল নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে জেনে, অনেকে না জেনে এসব হিন্দি গান গেয়ে প্রতিনিয়তই শিরক করে চলেছে। পৃথিবীর নানা দেশে নানা ভাষায় গান গাওয়া হয়। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি হিন্দুস্তানের গানের মত নিকৃষ্ট গান পৃথিবীর আর কোন দেশেই গাওয়া হয় না, কোন ভাষাতেই গাওয়া হয় না... আমেরিকা কিংবা ইউরোপের মানুষেরাও প্রেম করে, ইহুদী-খ্রিস্টান-নাস্তিকেরাও গান গায়, কিন্তু তাদেরকে আমি কখনোই দেখিনি প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে "You are my god" "I worship you" এজাতীয় গান গাইতে। এরকম আরো অনেক গান আছে যেগুলো আর বিভ্রান্তি কর। আল্লাহ আমাদের মুসলিমদের এসব ফিতনা থেকে হিফাজত করুন। আমীন। Collected.
    1
    0 Comments 0 Shares
  • ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন মিডিয়ার নিউজগুলো পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলাম, ইসরায়েল এর হামলার সাথে ফিলিস্তিনির সরঞ্জাম কিছুই নয়। 😑 কিন্তু ইসরায়েল এর যে ক্ষতি হয়েছে তা গোপন করার জন্য আল-জাজিরার ভবন উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্য কি চাপা থাকে? প্রায় ৪৫০-৫০০ রকেট হামলায় আয়রন ডোম তেমন কিছুই করতে পারেনি🤣 তাদের ক্ষতিও কম নয়, গোপন রয়েছে।

    অনবরত রকেট ছুড়লে আয়রন ডোম কি করবে?🤣🤣 আয়রণ ডোম একটি অকেজ হয়ে গেসে শুনলাম।
    বিশ্ব যদি জেনে যায় তাদের দুর্বলতার কথা, তাই গনমাধ্যমকে দাবিয়ে রাখতে এমন পরিকল্পনা।
    হামলা কি পর্যায়ে গেলে "জো-বাইডেন" ফোন করে বলেন হামলা থামাতে ভাবুন তো?🤣🤣
    তারা কতটা ভয়ার্ত তা আমরা তাদের রাস্তায় শুয়ে থাকা ছবি থেকেই বুঝতে পেরেছি।🤣🤣

    মুসলমানের বাচ্চা কখনো ভয় পায়নাহ। হতে পারে আমরা মার খাচ্ছি বেশি, আমরা মারাও যাচ্ছি বেশি। কিন্তু তাদের কাছে সামান্য রকেট এখন এক একটি পারমাণবিক বোমার থেকেও বেশি।
    এতকিছু পরেও ইসরায়েল টিকে আছে তাদের পাশে পরাশক্তি আমেরিকার মত দেশ। তাদের আকাশ পথে সকল কিছু দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। আর হামাস তো গাজায় রয়েছে বন্দি দশায়
    জয় আমাদের নিশ্চিত তা সবাই জানে। কিন্তু কত যে তাজা প্রান যাবে তা কেউ জানে নাহ😭

    পরাশক্তি আমেরিকা মত দেশের জন্য সবাই ভয়ে চুপ। কিন্তু একদিন আল্লাহ এই পরাশক্তি কিছুই রাখবেন নাহ। সেইদিন এর অপেক্ষায় সমগ্র মুসলিম জাতি সহ তাদের জুলুমের শিকার বিশ্বের সকল মানুষ।

    হে আল্লাহ তুমি আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের রক্ষা কর।
    আমিন।

    হ্যাশট্যাগ মিস যেন নাহ হয়। অন্তত এটাই আমাদের বর্তমানে হাতিয়ার। এর বেশি কি বা করার আছে।

    #savepalestine
    #savethemuslims #StopTerrorismAgainstMuslims #AlAqsa #StopConspiracyAgainstIslam #stopIsraeliTerrorism
    #GazaUnderAttack
    #AlAqsaUnderAttack
    #WestandwithPalestine
    #PalestineWillBeFree
    #FreePalestine
    #Collected
    ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন মিডিয়ার নিউজগুলো পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলাম, ইসরায়েল এর হামলার সাথে ফিলিস্তিনির সরঞ্জাম কিছুই নয়। 😑 কিন্তু ইসরায়েল এর যে ক্ষতি হয়েছে তা গোপন করার জন্য আল-জাজিরার ভবন উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্য কি চাপা থাকে? প্রায় ৪৫০-৫০০ রকেট হামলায় আয়রন ডোম তেমন কিছুই করতে পারেনি🤣 তাদের ক্ষতিও কম নয়, গোপন রয়েছে। অনবরত রকেট ছুড়লে আয়রন ডোম কি করবে?🤣🤣 আয়রণ ডোম একটি অকেজ হয়ে গেসে শুনলাম। বিশ্ব যদি জেনে যায় তাদের দুর্বলতার কথা, তাই গনমাধ্যমকে দাবিয়ে রাখতে এমন পরিকল্পনা। হামলা কি পর্যায়ে গেলে "জো-বাইডেন" ফোন করে বলেন হামলা থামাতে ভাবুন তো?🤣🤣 তারা কতটা ভয়ার্ত তা আমরা তাদের রাস্তায় শুয়ে থাকা ছবি থেকেই বুঝতে পেরেছি।🤣🤣 মুসলমানের বাচ্চা কখনো ভয় পায়নাহ। হতে পারে আমরা মার খাচ্ছি বেশি, আমরা মারাও যাচ্ছি বেশি। কিন্তু তাদের কাছে সামান্য রকেট এখন এক একটি পারমাণবিক বোমার থেকেও বেশি। এতকিছু পরেও ইসরায়েল টিকে আছে তাদের পাশে পরাশক্তি আমেরিকার মত দেশ। তাদের আকাশ পথে সকল কিছু দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। আর হামাস তো গাজায় রয়েছে বন্দি দশায় জয় আমাদের নিশ্চিত তা সবাই জানে। কিন্তু কত যে তাজা প্রান যাবে তা কেউ জানে নাহ😭 পরাশক্তি আমেরিকা মত দেশের জন্য সবাই ভয়ে চুপ। কিন্তু একদিন আল্লাহ এই পরাশক্তি কিছুই রাখবেন নাহ। সেইদিন এর অপেক্ষায় সমগ্র মুসলিম জাতি সহ তাদের জুলুমের শিকার বিশ্বের সকল মানুষ। হে আল্লাহ তুমি আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের রক্ষা কর। আমিন। হ্যাশট্যাগ মিস যেন নাহ হয়। অন্তত এটাই আমাদের বর্তমানে হাতিয়ার। এর বেশি কি বা করার আছে। #savepalestine #savethemuslims #StopTerrorismAgainstMuslims #AlAqsa #StopConspiracyAgainstIslam #stopIsraeliTerrorism #GazaUnderAttack #AlAqsaUnderAttack #WestandwithPalestine #PalestineWillBeFree #FreePalestine #Collected
    3
    0 Comments 0 Shares
  • ------ছবিসহ ক্যাপশনটি সংগৃহীত------
    শুন্য পকেট থাকাকালীন যে গল্পে আপনি থাকবেন
    সফলতার পর সে গল্পে আপনার আর জায়গা হবে না ।
    As a girl শুন্য পকেট থাকাকালীন যেই ছেলেটার
    গল্পে আমি থাকবো , সময়ের বিবর্তনে সফলতার আগেই জলোচ্ছ্বাসে হয়তো আমি মিলিয়ে যাবো ।
    হয়তো তখন আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ
    দাঁড়াবে ।
    অবশ্যক কারও পকেট ভরার আশায় বসে থাকার
    মতো ছোটলোক মেয়ে আমি না ।
    আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে তাতেই আমি খুশি😊।
    আর প্রেমিকার দেয়া অগ্রীম যৌতুকের টাকায়
    প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন যেই ছেলে দেখে সেই ছেলের
    স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা সেই মেয়ে রাখলেও সেই মেয়ের স্বামী হওয়ার যোগ্যতা সেই ছেলে রাখে না ।
    যদি শুন্য পকেটে তার পাশে থাকতেই হয় তাহলে
    আমি মেয়ের পার্সও খালি । কোন ছেলে আমার পাশে
    ছিলো ? বছরখানেক পর আমার টাকার পার্সও আমার
    নিজের টাকায় ভরা থাকবে ইনশাল্লাহ ।
    এইরকম বিজনেস মেন্টাল ছেলে লাখপতি নয়
    কোটিপতি হলেও এইরকম কারও সঙ্গিনী আমি
    হবো না ।
    টাকা দিয়ে টাকা কিনা যায় ।
    কিন্তু, টাকা দিয়ে সুখ কিনা যায় না ।
    যার মধ্যে আমার আমার সুখ
    থাকবেনা তার ভরা পকেট দিয়ে
    আমি কি করবো ?
    টাকা থাকবে অথচ থাকবেনা ভালো ব্যবহার, সৎ চরিত্র, আন্তরিকতা , থাকবেনা গুরুত্ব ।
    এমনটা ঘটার আগে আমার মৃত্যু হওয়াই ভালো ।
    এইরকম জীবনে কোনো সুখ নেই ।
    এইসব ভাবলে পৃথিবীটাকে খুব স্বার্থপর মনে হয় ।
    স্বার্থ ছাড়া যেনো এই পৃথিবীতে কিছুই নেই ।
    যদিও বিয়ে ফরজ কাজ ।
    তবুও এসব রিলেশন/বিয়ের নামে বিজনেস থেকে
    দূরে থাকতে চাই ।
    এতো লেনদেনের হিসাব কিতাব দেখলে এইসবকে
    বিজনেস মনে হতে শুরু হয় ।
    তাই ইমানের যত্ন নিতে চাই ।
    নিজেকে ভালোবাসতে চাই ।
    নিজের কাজকে ভালোবাসতে চাই ।
    এতেই সুখ ।
    #picture_with_caption_is_collected
    ------ছবিসহ ক্যাপশনটি সংগৃহীত------ শুন্য পকেট থাকাকালীন যে গল্পে আপনি থাকবেন সফলতার পর সে গল্পে আপনার আর জায়গা হবে না । As a girl শুন্য পকেট থাকাকালীন যেই ছেলেটার গল্পে আমি থাকবো , সময়ের বিবর্তনে সফলতার আগেই জলোচ্ছ্বাসে হয়তো আমি মিলিয়ে যাবো । হয়তো তখন আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ দাঁড়াবে । অবশ্যক কারও পকেট ভরার আশায় বসে থাকার মতো ছোটলোক মেয়ে আমি না । আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে তাতেই আমি খুশি😊। আর প্রেমিকার দেয়া অগ্রীম যৌতুকের টাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন যেই ছেলে দেখে সেই ছেলের স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা সেই মেয়ে রাখলেও সেই মেয়ের স্বামী হওয়ার যোগ্যতা সেই ছেলে রাখে না । যদি শুন্য পকেটে তার পাশে থাকতেই হয় তাহলে আমি মেয়ের পার্সও খালি । কোন ছেলে আমার পাশে ছিলো ? বছরখানেক পর আমার টাকার পার্সও আমার নিজের টাকায় ভরা থাকবে ইনশাল্লাহ । এইরকম বিজনেস মেন্টাল ছেলে লাখপতি নয় কোটিপতি হলেও এইরকম কারও সঙ্গিনী আমি হবো না । টাকা দিয়ে টাকা কিনা যায় । কিন্তু, টাকা দিয়ে সুখ কিনা যায় না । যার মধ্যে আমার আমার সুখ থাকবেনা তার ভরা পকেট দিয়ে আমি কি করবো ? টাকা থাকবে অথচ থাকবেনা ভালো ব্যবহার, সৎ চরিত্র, আন্তরিকতা , থাকবেনা গুরুত্ব । এমনটা ঘটার আগে আমার মৃত্যু হওয়াই ভালো । এইরকম জীবনে কোনো সুখ নেই । এইসব ভাবলে পৃথিবীটাকে খুব স্বার্থপর মনে হয় । স্বার্থ ছাড়া যেনো এই পৃথিবীতে কিছুই নেই । যদিও বিয়ে ফরজ কাজ । তবুও এসব রিলেশন/বিয়ের নামে বিজনেস থেকে দূরে থাকতে চাই । এতো লেনদেনের হিসাব কিতাব দেখলে এইসবকে বিজনেস মনে হতে শুরু হয় । তাই ইমানের যত্ন নিতে চাই । নিজেকে ভালোবাসতে চাই । নিজের কাজকে ভালোবাসতে চাই । এতেই সুখ । #picture_with_caption_is_collected
    1
    0 Comments 0 Shares
  • ------ছবিসহ ক্যাপশনটি সংগৃহীত------
    শুন্য পকেট থাকাকালীন যে গল্পে আপনি থাকবেন
    সফলতার পর সে গল্পে আপনার আর জায়গা হবে না ।
    As a girl শুন্য পকেট থাকাকালীন যেই ছেলেটার
    গল্পে আমি থাকবো , সময়ের বিবর্তনে সফলতার আগেই জলোচ্ছ্বাসে হয়তো আমি মিলিয়ে যাবো ।
    হয়তো তখন আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ
    দাঁড়াবে ।
    অবশ্যক কারও পকেট ভরার আশায় বসে থাকার
    মতো ছোটলোক মেয়ে আমি না ।
    আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে তাতেই আমি খুশি😊।
    আর প্রেমিকার দেয়া অগ্রীম যৌতুকের টাকায়
    প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন যেই ছেলে দেখে সেই ছেলের
    স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা সেই মেয়ে রাখলেও সেই মেয়ের স্বামী হওয়ার যোগ্যতা সেই ছেলে রাখে না ।
    যদি শুন্য পকেটে তার পাশে থাকতেই হয় তাহলে
    আমি মেয়ের পার্সও খালি । কোন ছেলে আমার পাশে
    ছিলো ? বছরখানেক পর আমার টাকার পার্সও আমার
    নিজের টাকায় ভরা থাকবে ইনশাল্লাহ ।
    এইরকম বিজনেস মেন্টাল ছেলে লাখপতি নয়
    কোটিপতি হলেও এইরকম কারও সঙ্গিনী আমি
    হবো না ।
    টাকা দিয়ে টাকা কিনা যায় ।
    কিন্তু, টাকা দিয়ে সুখ কিনা যায় না ।
    যার মধ্যে আমার আমার সুখ
    থাকবেনা তার ভরা পকেট দিয়ে
    আমি কি করবো ?
    টাকা থাকবে অথচ থাকবেনা ভালো ব্যবহার, সৎ চরিত্র, আন্তরিকতা , থাকবেনা গুরুত্ব ।
    এমনটা ঘটার আগে আমার মৃত্যু হওয়াই ভালো ।
    এইরকম জীবনে কোনো সুখ নেই ।
    এইসব ভাবলে পৃথিবীটাকে খুব স্বার্থপর মনে হয় ।
    স্বার্থ ছাড়া যেনো এই পৃথিবীতে কিছুই নেই ।
    যদিও বিয়ে ফরজ কাজ ।
    তবুও এসব রিলেশন/বিয়ের নামে বিজনেস থেকে
    দূরে থাকতে চাই ।
    এতো লেনদেনের হিসাব কিতাব দেখলে এইসবকে
    বিজনেস মনে হতে শুরু হয় ।
    তাই ইমানের যত্ন নিতে চাই ।
    নিজেকে ভালোবাসতে চাই ।
    নিজের কাজকে ভালোবাসতে চাই ।
    এতেই সুখ ।
    #picture_with_caption_is_collected
    ------ছবিসহ ক্যাপশনটি সংগৃহীত------ শুন্য পকেট থাকাকালীন যে গল্পে আপনি থাকবেন সফলতার পর সে গল্পে আপনার আর জায়গা হবে না । As a girl শুন্য পকেট থাকাকালীন যেই ছেলেটার গল্পে আমি থাকবো , সময়ের বিবর্তনে সফলতার আগেই জলোচ্ছ্বাসে হয়তো আমি মিলিয়ে যাবো । হয়তো তখন আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ দাঁড়াবে । অবশ্যক কারও পকেট ভরার আশায় বসে থাকার মতো ছোটলোক মেয়ে আমি না । আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে তাতেই আমি খুশি😊। আর প্রেমিকার দেয়া অগ্রীম যৌতুকের টাকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন যেই ছেলে দেখে সেই ছেলের স্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা সেই মেয়ে রাখলেও সেই মেয়ের স্বামী হওয়ার যোগ্যতা সেই ছেলে রাখে না । যদি শুন্য পকেটে তার পাশে থাকতেই হয় তাহলে আমি মেয়ের পার্সও খালি । কোন ছেলে আমার পাশে ছিলো ? বছরখানেক পর আমার টাকার পার্সও আমার নিজের টাকায় ভরা থাকবে ইনশাল্লাহ । এইরকম বিজনেস মেন্টাল ছেলে লাখপতি নয় কোটিপতি হলেও এইরকম কারও সঙ্গিনী আমি হবো না । টাকা দিয়ে টাকা কিনা যায় । কিন্তু, টাকা দিয়ে সুখ কিনা যায় না । যার মধ্যে আমার আমার সুখ থাকবেনা তার ভরা পকেট দিয়ে আমি কি করবো ? টাকা থাকবে অথচ থাকবেনা ভালো ব্যবহার, সৎ চরিত্র, আন্তরিকতা , থাকবেনা গুরুত্ব । এমনটা ঘটার আগে আমার মৃত্যু হওয়াই ভালো । এইরকম জীবনে কোনো সুখ নেই । এইসব ভাবলে পৃথিবীটাকে খুব স্বার্থপর মনে হয় । স্বার্থ ছাড়া যেনো এই পৃথিবীতে কিছুই নেই । যদিও বিয়ে ফরজ কাজ । তবুও এসব রিলেশন/বিয়ের নামে বিজনেস থেকে দূরে থাকতে চাই । এতো লেনদেনের হিসাব কিতাব দেখলে এইসবকে বিজনেস মনে হতে শুরু হয় । তাই ইমানের যত্ন নিতে চাই । নিজেকে ভালোবাসতে চাই । নিজের কাজকে ভালোবাসতে চাই । এতেই সুখ । #picture_with_caption_is_collected
    1
    0 Comments 0 Shares

No results to show

No results to show